মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বিজেপি’র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিয়ে বেঁকে বসলেন মমতা

২০ জুন, পার্সটুডে : ভারতের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিজেপির যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তাতে বেঁকে বসেছেন। তিনি ওই প্রার্থীকে চেনেন না বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজেপি’র পক্ষ থেকে সোমবার বিহারের বর্তমান গভর্নর রামনাথ কোবিন্দকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার নেদারল্যান্ড সফরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুবাইতে যাত্রা বিরতির সময় মমতা বলেন, ‘রামনাথ কোবিন্দ বিজেপি’র দলিত শাখার সভাপতি ছিলেন বলেই তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির।’
তিনি বিস্ময়ের সুরে বলেন, দেশে কী আর কোনো নেতা ছিলেন না! বিজেপি আমলে হয়তো উনি গভর্নর হয়েছেন। আমি অনেক গভর্নরের নাম জানি, যারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন বা বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এসেছেন। তবে ওনার নাম আমি কোনো দিন শুনিনি।’
মমতা অবশ্য তার পছন্দের পার্থীর নামও বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সর্বসম্মত প্রার্থী চেয়েছিলাম। প্রণব মুখার্জি, লালকৃষ্ণ আদবানি, সুষমা স্বরাজের মতো কেউ প্রার্থী হতে পারতেন। তার আগেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেয়া হলো। তিনি বিহারের গভর্নর এটাই ওনার পরিচিতি। 
মমতা বলেন, ‘নাম ঘোষণা হওয়ার পরে কথা হলে বলব, এই ব্যক্তিকে জানি না, চিনি না। এক জনকে সমর্থন করতে হলে তার সম্পর্কে ন্যূনতম তো জানতে হবে!’
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি’র মন্তব্য, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি দৃঢ় সেক্যুলার ভাবধারার কাউকে আমরা প্রেসিডেন্ট পদে চাই। বিজেপি এখন ‘দলিত’ পরিচয় সামনে এনে একজন আরএসএস কর্মীকেই প্রেসিডেন্ট করতে চাচ্ছে। বিরোধীরা তা মো
টেই মেনে নেবে না।’
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ বিজেপি’র সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওদের উচিত ছিল, প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার আগে ঐকমত্য গড়ে তোলা। কিন্তু ওরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের জানিয়েছে। সুতরাং, এখন ঐকমত্যের কোনো জায়গা নেই। শাসক দলের কাছে এমন প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু এটা ওদের ব্যাপার। ওরা একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
একটি সূত্রে প্রকাশ, ৭১ বছর বয়সী রামনাথ কোবিন্দ কানপুরে আরএসএসের কর্মী হিসাবে কাজ করার সময় প্রথমে বাণিজ্য স্নাতক হন, পরে আইন পাশ করেন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় দু’বার অকৃতকার্য হবার পরে তৃতীয় বার তিনি উত্তীর্ণ হন তবে তা নিম্নতর পদের জন্য। যদিও সেই পেশায় না গিয়ে আইনজীবী হিসাবে কাজ করেছেন উত্তর প্রদেশ হাইকোর্ট, পরে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতে সরকারের স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল ছিলেন ১৯৮০ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত।
বিজেপি’র দলিত মোর্চার সভাপতি ছিলেন ১৯৯৮ থেকে ৪ বছরের জন্য। ১৯৯৪ থেকে পরপর দু’দফায় বিজেপি’র রাজ্যসভা সদস্য ছিলেন। তফসিলি জাতির সরকারি কর্মীদের হয়ে ১৯৯৭ সালে একটি আন্দোলনে যোগ দেয়া ছাড়া কোনো উল্লেখ করার মতো কৃতিত্বের কথা জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ