শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুমারখালীর অধিকাংশ সড়কে খানাখন্দ যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার অধিকাংশ সড়ক খানাখন্দে ভরা, জরাজীর্ণ ও বেহালদশা হওয়ায় যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙ্গাচোরা এসব সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যদিকে  শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তির শেষ নেই। প্রথম শ্রেনির খেতাব পাওয়া প্রাচীন পৌর শহরের বেশ কিছু সড়কসহ উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠেছে। গত বর্ষার পর থেকে কোন কোন সড়কে যান চলাচল অনেকটা বন্দ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারের অভাব আর নামমাত্র সংস্কারের কারণে সড়কগুলোর বেহালদশা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিগত ৫ থেকে ১০ বছরে কোথাও কোথাও একেবারে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাগুলোতে চলাচল করাই দায় হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীর।
কুমারখালী পৌরসভার তরুন মোড় হতে খোকন মোড় ভায়া ঝাউতলা হয়ে ফুলতলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তিনটির অবস্থা খুবই খারাপ। অন্যদিকে গণমোড় থেকে তমিজ মোড়, কালীবাড়ী হতে কাজীপাড়া, পৌর মার্কেট সড়ক, বড় মসজিদ হতে ষ্টেশন হয়ে কলেজ পর্যন্ত, পৌর বাস টার্মিনাল হতে ষ্টেশন মসজিদ সড়ক এবং উপজেলা সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পৌর মার্কেটে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক-ড্রেন হাটু পানিতে একাকার হয়ে যায়।
 পৌর এলাকার বাইরে নন্দলালপুর, কয়া, চাঁদপুর, চাপড়া, সদকী, যদুবয়রা ও বাগুলাট ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ সড়ক বর্তমানে এতটাই শোচনীয় যে চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে নন্দলালপুর, চাপড়া ও কয়া ইউপির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। নন্দলালপুরের আলাউদ্দিন নগর হতে নন্দলালপুর বাজার, ক্লিক মোড় হতে রেলগেট, আলাউদ্দিন নগর হতে সদরপুর ও শিলাইদহ সড়ক বর্তমানে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। গড়াই তীরবর্তী যদুবয়রা ইউনিয়নের মধুপুর-চাঁদপুর সড়ক, এনায়েতপুর বাজার থেকে চাপড়া পর্যন্ত জিকে ক্যানেল সড়কে শত শত খানাখন্দ প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠেছে। চৌরঙ্গী বাজার হতে নাতুড়িয়া ও এনায়েতপুর পর্যন্ত সড়ক দুইটিও চলাচলে প্রায় অনুপোযোগী হয়ে উঠেছে। কয়া ইউপির গট্টিয়া গড়াই নদীর ঘাট হতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী এবং কয়া মোড় হতে হাতি সাঁকো পর্যন্ত সড়ক ও পাশর্^ সড়কগুলো বর্তমানে বেহালদশায় পরিনত হয়েছে। সদকী ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়কই খানাখন্দে ভরপুর। বিশেষ করে জিলাপীতলা-সদকী, বাটিকামারা-মহিষাখোলা, আমতলা-মূলগ্রাম-পাথরবাড়ীয়া সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরশেদপুর বাজার থেকে মাঝগ্রাম-বেলঘোরিয়া সড়কগুলো জরাজীর্ণ ও বেহালদশা হওয়ায় যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
গড়াই নদীর দক্ষিণ এলাকার ইউনিয়নগুলো সব সময়ই অবহেলিত হওয়ায় সড়কগুলোর অবস্থা দীর্ঘদিন যাবত শোচনীয় হয়ে আছে। বিশেষ করে বাগুলাট, চাপড়া, চাঁদপুর ও পান্টি ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাটগুলোতে ভারী যানবাহন তো দুরের কথা মটর সাইকেলও ঠিকমত চলাচল করতে পারছেনা। পদ্মা পারের পাবনা শহর লাগোয়া বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চরসাদীপুরেরও একই অবস্থা বিরাজমান।
বর্তমান সরকারের গত শাসনামলে কিছু কিছু সড়কে কার্পেটিং ও পাকাকরণ করা হলেও নতুন করে গত কয়ে বছরে ২/৪ ছাড় তেমন কোন সড়ক উন্নয়নের কাজ কিংবা উদ্বোধন দেখা যাচ্ছেনা। পাকা সড়কের পাশাপাশি  বহু কাঁচা সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার সর্বত্র কাঁচা-পাকা সড়কের বেহাল অবস্থার কারনে সাধারণ জনগনের ভোগান্তি আর দূর্ভোগের শেষ নেই। প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ও আহতের ঘটনা ঘটছে। রাস্তার মাঝে যানবাহন বিকল হয়ে চলাচলে হচ্ছে বিঘ্ন।
সমগ্র কুমারখালী উপজেলায় পাকা ও কাচা সড়ক কত কিলোমিটার আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপÍরে নেই। অসংখ্য ভাঙ্গাচোরা, খানাখন্দ-গর্তে ভরা সড়কগুলোর এমন বেহালদশা বিরাজ করার ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ জানান, উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়নের জন্য ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে বৃহত্তর কুষ্টিয়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার বিভিন্ন রাস্তায় পাকাকরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাবে বরাদ্ধ ২০ কোটি টাকার আই আর আই ডি পি-২ প্রকল্পে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ২৪টি রাস্তায় ১৯ কিলোমিটার পাকাকরনের কাজ বাস্তবায়নাধীন, যার ব্যয় হচ্ছে ১২ কোটি টাকা। এছাড়াও একই প্রকল্পে আরো ৮টি রাস্তার টেন্ডারের প্রস্তুতি চলছে। বরাদ্ধ ও টেন্ডার হলেই অনেক রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আফজাল হুসাইন এব্যাপারে বলেন,  রাস্তাঘাটের সমস্যা অনেক, সে তুলনায় বরাদ্ধ খুবই নগণ্য, তারপরও কিছু কিছু কাজ করা হচ্ছে। কুমারখালী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শামসুজ্জামান অরুন জানান,  প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নিজস্ব আয় খুবই কম, আয় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাসই ঠিকমত দেওয়া সম্ভব হয়না, প্রায় ২বছর কর্মচারীদের বেতন বকেয়া পড়ে রয়েছে, সেক্ষেত্রে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা অত্যন্ত দূরহ। সরকার প্রতি বছর সড়ক উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্ধ দেয় তা দিয়ে ২৫% রাস্তাও মেরামত সম্ভব হয়না বলে তিনি জানান।
সমগ্র উপজেলার রাস্তায় চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি আর দূর্ভোগের শিকার সাধারণ জনগন জরুরী ভিত্তিতে সড়কগুলোর সংস্কার - মেরামত ও উন্নয়নের আশা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ