বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ঝুঁকির মুখে পোশাক খাতের রফতানি

এম এস শহিদ : অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা প্রভৃতি কারণে বিদেশীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে তেমনি এদেশ থেকে পণ্য সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রেও তারা নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার পর এবার জার্মানি ও ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে অন্য দেশের মাধ্যমে রি-স্ক্যানিং করে জার্মানিতে কার্গো রফতানি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৎসরে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে জার্মান সরকার অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জনবলের অভাবকে দায়ী করেছে। রফতানিকারকরা বলেছেন, এর ফলে বাংলাদেশের রফতানি খাত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। এ অবস্থায় ইউরোপিয় ইউনিয়নের শক্তিশালী দেশ জার্মানি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করায় বাংলাদেশ বিমানকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। সেই সাথে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। এরই প্রেক্ষিতে তৈরি পোশাক সহ বেশকিছু রফতানিমুখী পণ্য ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তথ্যমতে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি প্রতি বৎসর বাংলাদশ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলারের [৮৮ হাজার কোটি] পণ্য আমদানি করে থাকে। যার বড় অংশ হচ্ছে তৈরি পোশাক। আমদানিকারক দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র, আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। কিন্তু এসব নিয়ে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। এদিকে জার্মানির রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স লুথফানসা হঠাৎ করে ঢাকা থেকে জার্মানিতে বিমানে সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের মাধমে রফতানি বন্ধ করেছে। বাংলাদেশ বিমানকে জার্মান সিভিল এভিয়েশন যে চিঠি দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো পণ্য তারা জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। এক্ষেত্রে সব পণ্য জার্মান সিভিল এভিয়েশন অনুমোদিত দ্বিতীয় কোনো দেশ থেকে রি-স্ক্যানিং করে নিতে হবে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সরাসরি ৭০ থেকে ১০০ টন কার্গো পণ্য জার্মানিতে যায়, জার্মানির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা লুথফানসার একটি কার্গো ফ্লাইট এ পণ্য বহন করছে। তবে লুথফানসা ছাড়াও বিশ্বের বড় বড় এয়ালাইন্স অন্য দেশে রি-স্ক্যানিং করে জার্মানিতে মালামাল পরিবহন করছে। এদের মধ্যে কাতার, কুয়েত, সাউদিয়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, এয়ার এরাবিয়া, হংকং, ওমান ও চায়না এয়ারলাইন্স অন্যতম। লুথফানসার মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্গো পণ্য সরাসরি বহন করা হতো তা থেকে বাংলাদেশ বিমান মাসে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি রাজস্ব আয় করতো। এখন বাংলাদেশ বিমান এ আয় থেকে বঞ্চিত হবে। বিজএিমইএ বলছে, জার্মানিতে তৈরি পোশাক খাতের একটা বড় অংশ রাফতানি করা হয় জিরো ট্যারিফে। এর সবটাই আকাশপথে যায়। বর্তমানে জার্মানিতে জরুরি ভিত্তিতে গার্মেন্টস পণ্যের নমুনাও সরাসরি আকাশপথে পাঠানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। জানা গেছে, জার্মান কর্তৃপক্ষ অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনার অভিযোগ  এনে বিমানে কার্গো নেয়া স্থগিত করেছে। তারা বলেছে, বহিরাগতদের দিয়ে বাংলাদেশ বিমানের কার্গো রফতানি টার্মিনালটি পরিচালিত হচ্ছে।
এসব বহিরাগত জনবল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। পুরো কার্গো রফতানি টার্মিনাল বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন [বাপা] নামে একটি সংগঠনের দখলে রয়েছে। এ সংগঠনটি প্রায় এক হাজার লোক কার্গো রফতানি টার্মিনালে নিয়োজিত করে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ কার্গো পণ্য লোড-আনলোড করছে। বিমান ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এসব লোকদের ড্রেস ও সিকিউরিটি পাস দিয়ে অবাধে কার্গো টার্মিনালে আসা যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়ার পর জার্মানি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো নেয়া বন্ধ করে দেয়ায় তৈরি পোশাকখাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিমানযোগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস হিসেবে অন্য দেশের সাহায্য নিতে হবে। তবে তিনি বলেন, জার্মানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বাংলাদেশ তৃতীয় কোনো দেশে রি-স্ক্যানিং করে কার্গো পণ্য সেদেশে পাঠাতে পারবে। এ ব্যাপারে জার্মানি কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে জার্মান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হবে। ফলে জানা যাবে জার্মানির সাথে কার্গো পণ্য পরিবহনের সর্বশেষ অবস্থা। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ