বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে গাজা

১৮ জুন, আলজাজিরা : গাজা উপত্যকায় বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে সংকট বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। বিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি তেলেরও সংকট রয়েছে।
তাই জেনারেটর দিয়ে অন্যান্য কাজ স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত সপ্তাহে গাজায় বিদ্যুতের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা ইসরায়েলকে কম পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুরোধ করে। মাহমুদ আব্বাসের অনুরোধ রেখে মোট সরবরাহ করা বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।
গাজার ২০ লাখ মানুষ বর্তমানে দিনে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে। বিদ্যুৎ আর জ্বালানি সংকটে আগে থেকেই বেকায়দায় ছিল গাজার হাসপাতালগুলো। নতুন এ সিদ্ধান্তের পর তাদের আরও সমস্যা পড়তে যাচ্ছে। কারণ এখন তাদের পুরোটাই জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে করে তারা রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারবে না। গাজা উপত্যকার দৈনিক ৪৫০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। বর্তমানের তারা চাহিদা অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছে।
ফিলিস্তিনে নিযুক্ত জাতিসংঘের উন্নয়ন ও মানবিক সাহায্য বিভাগের সমন্বয়ক রবার্ট পিপার বলেছেন, গাজায় মজুদ থাকা জ্বালানি জুনে শেষে বা জুলাইয়ের প্রথম দিকে শেষ হয়ে যাবে।
বিদ্যুৎ সংকট গাজাবাসীদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে তা জানা গেছে সেখানকার লোকজন বক্তব্য থেকে। গাজার শুজায়েয়া এলাকার রিজাম সালিম বাহতিত বলেন, ‘ফুসফুসে সমস্যা নিয়েই আমার ছোট ছেলের জন্ম। নেবুলাইজার ও অক্সিজেন দিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এখন যদি বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে আমি তাকে বাঁচাতে পারবো না। সে যখন খেলবে বা দৌড়াবে তখন তার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। তখন যদি বিদ্যুৎ না থাকে কিভাবে আমি এটা করবো।’
একই এলাকার মানার বাহতিতি বলেন, ‘বিদ্যুতের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার খবরটি আমাদের আরো চাপে ফেললো। বিদ্যুৎ না থাকলে এখানকার সব কিছু ভেঙে পড়বে। আমার বাড়তি তিনটি নেবুলাইজার মেশিন আছে। গত ৯ বছর ধরে আমি ৬০-৭০ জনকে নেবুলাইজ করে দিচ্ছি। প্রতিদিন ৫-৬ জন বাড়িতে আসেন নেবুলাইজ করতে। আর ৩-৪ জনকে করে দেওয়া চেষ্টা করি। এখন বিদ্যুৎ না থাকলে কিভাবে নেবুলাইজ করবো? আর জেনারেটর খরচ দিয়ে এটা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে হাসপাতালগুলো রোগী সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অনেককে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। কারণ তারা রোগীদের ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে পারছে না। আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি।’ জ্বালানি সংকটের কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকায় রোগী নেওয়াও অনেক সময় সম্ভব হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ