শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

মহিমান্বিত রাত
সাইফ ফরহাদী

নিশ্চয় এক মহিমান্বিত রাতে,
নাযিল করেছে কুরআন এ ধরাতে।
মহামান্বিত সেই রাতটা যে কি,
আপনাকে সে-ই কথা জানাবো না কি?

ভারি উত্তম সেই ক্বদরের রাত,
হাজার মাসও তার কাছে কুপোকাত।
নিজ প্রতিপালকের অনুমতি ক্রমে,
রূহ ও ফেরেশতারা আসে ধরাধামে।

প্রতিটি বিষয়ের নির্দেশ লয়ে,
ফেরেশতারা আসে মালিকের হয়ে।
শান্তিতে ভরপুর থাকে সারারাত,
সমাপনী ঘটে তার ফজরের সাথ।


কলমিলতা
এ. কে. আজাদ

কলমিলতা কলমিলতা-
বিলের জলে ভাসো,
মেঘ কাটলো চাঁদ উঠলো-
একটুখানি হাসো।

বিলের জলে শাপলা ফোটে-
নীল-শাদা আর লাল,
বিলের শোভা ফুলের শোভা-
দেখতে যাবো কাল।

কাল সেখানে সবাই যাবো-
কলার ভেলায় চেপে,
এই খবরটা পারলে দিয়ো
সব কাগজে ছেপে।


ভূতের গল্প
মোস্তফা হোসাইন

নানির কাছে ভূতের গল্প
শুনছি কত ভাই
সেখান থেকে অল্প কিছু
শেয়ার করছি তাই।

নানি বানায় মজার পিঠা
গভীর তখন রাত
চৌকাঠেরই তলায় দেখেন
হঠাৎ লোমশ হাত!

পিঠা খেতে চাইতো ভূতে
সুর তুলে যে ন্যাঁকা
খুব সাহসী নানি দিতেন
বাজাকাঠির ছ্যাঁকা!

শ্মশান ঘাঁটের বট গাছে যে
শিংঅলী ভূত থাকে
হাটের দিনে মাছ নিয়ে কেউ
ফিরলেই ধরতো তাকে!

ফন্দি করে সঙ্গি হয়ে
বিড়াল সেজে হাঁটা
ফিরলে বাড়ি দ্যাখা যেত
ব্যাগে শুধু কাঁটা!

টাকি মাছের ভর্তা খেয়ে
হলু শেখের পুতে
বাঁশতলাতে ঘাড় মটকাল
বাগে পেয়ে ভূতে!

শহুরে শিশু বলছো যারা
ভূত বলে নেই কিছু
নানির কাছে গল্প শুনেই
প্যান্টে করবে হিসু!


মা
খালীদ শাহাদাৎ হোসেন

মা তোমাকে ভালোবাসি অনেক ভালবাসি,
তোমার মুখে লুকিয়ে থাকে জান্নাতেরই হাসি,
মা যে আমার কান্না-হাসির ভরসা ও প্রত্যাশা
বুকের মাঝে এঁকে রাখি মায়ের ত্যাগের ভাষা।

আমার জন্য মাগো তোমার ত্যাগ হয়েছে আরাম
শান্তির ঘুম আমোদ-বিশ্রাম সব করেছো হারাম,
সকাল-সন্ধ্যা কাটে তোমার আমার কথা ভেবে
রুটিন করা জীবন কাটাও কখন কিযে দেবে।

তোমায় যেমন ভালবাসি তেমনি করি ভয়
আমার ছোট কাজে যেন তোমার মন হয় জয়,
মাগো তুমি দুঃখ পাও এমন কাজ না করি
ভুলেও যদি ভুল হয়ে যায় বলব আমি সরি।

এক হাতে যার দুধের বাটি আর এক হাতে লাঠি
আদর শাসন সমান্তরাল আমার সে মা’ই খাঁটি
নিয়ম শাসন ছাড়া যে মা শুধু করেন আদর দান
হয় ছন্নছাড়া বখাট-বাঁদর এদেরই সন্তান ॥


সত্য চেনার নূর
বাতেন বাহার

গভীর রাতে একলা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম খাটে
হঠাৎ জেগে টুংটাংটুপ শব্দ শুনি ঘাটে!
টিনের চালে হেচকা তালে শুনি জলের নূপুর
বাজছে ডালে কাঁসার থালে বৃষ্টি টাপুর টুপুর।

জানলা দিয়ে বৃষ্টি এসে ভিজায় শরীর মন
বৃষ্টি পেয়ে ফুল্লতরু, ফুল্ল ফুলের বন।
জলের সাথে জানলা পথে আসে ফুলের বাস
মনকে নিয়ে উড়ে, বেড়ায় মিষ্টি আষাঢ় মাস।

দূর থেকে দূর বিজলী মেয়ে ভেংচি কেটে দাঁতে
মাঠ পাড়া গাঁ-কদম কেয়া খুশিতে খুব মাতে।
ময়ুর সেজে কদম ডালে ফুটে কদম ফুল
বোশেখ মাসের মরা নদীর উথলে উঠে কূল।

আম কাঁঠালের গন্ধ মাখা মিষ্টি হাওয়া এসে
গানের সুরে আমার এ মন যায় রে ভালোবেসে।
ভালোবেসে দূর অজানায় দেয়রে পাড়ি মন
খুঁজতে থাকে মেঘের চুলে পরম প্রিয় ধন।

যেধন আমার প্রাণের প্রিয় শান্তি সুখের সুর
আমার মনে দেয় জ্বালিয়ে সত্য চেনার নূর
সত্য নূরে আমার এ মন যায়রে দূরে ভেসে
নতুন কিছু পাবার আশে উঠেরে মন হেসে।


ধরা ছোঁয়ার বাইরে
মেজু আহমেদ খান

মনের যত স্বপ্ন সবি ধরা ছোঁয়ার বাইরে
ইচ্ছে হলে ওদের কভু ধরতে কি আর পাই রে?
তাইতো নিজে একলা কাঁদি
কেউ দেখেনা ছাই,
চোখে জলে হৃদয় বাঁধি
এ ছাড়া পথ নাই।

স্বপ্ন আশা হাতছানিতে নিত্য ডাকে শুধু
তার পেছনে যতই হাঁটি ততই মরু ধুধু
ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমি
নেই যে চলার শেষ,
চাইলো না সে একটু থামি
কবুল করে পেশ।


মেঘের গল্প
নারায়ণ চন্দ্র রায়

মেঘে মেঘে দুপুর
পরিপূর্ণ পুকুর
মেঘে মেঘে ছন্দ
ক্ষণিকের দ্বন্দ্ব

মেঘে মেঘে রাত্রী
কাক ভেজা যাত্রী
মেঘে মেঘে খেলা
প্রিয় সারাবেলা

মেঘে মেঘে মাঠে
নৌকা বাঁধা ঘাটে
মেঘে মেঘে পুটি
সকল ছেলে জুটি

গায়ে মেখে কাঁদা
বাড়ি ফিরে গাধা
মেঘে হয়েছে অল্প
আজগুবি গল্প ॥


“ভীষণ খরা”
আবদুর রাজ্জাক বাবু

ভীষণ খরা-অগ্নি ঝরা
রৌদ্রু কড়া ঠিক সে দুপুর,
কাঁপছে ধরা জীয়ন মরা
ফাঁটছে মাটি শুকনো পুকুর।

ভাগছে চরা-নদীর বুকে-
ঝিমোয় মাঝি বৈঠা ছেড়ে,
আসছে তেঁড়ে তপ্ত হাওয়া
চায়ছে নিতে প্রাণটা কেঁড়ে।

ধুঁকছে প্রাণি শুকছে ধুলো,
ভন ভনিয়ে উড়ছে মাছি
চর্ম বেঁয়ে ঘর্ম ঝরে
শরম কোথায়? গায় ঘামাচি।

রুক্ষ মাঠে, বক্ষ ফাঁটে
ফিয়াস জাগা পথিক মেয়ে,
বৃক্ষ তলে কষ্টো ভোলে
একটু খানি স্বস্তি পেয়ে।

রাখাল ছেলে বংশি ফেলে
ছুটছে তরুর-ছায়ার দিকে,
পাখির ঠোঁটে গান ফোটে না-
ভীষণ খরায় ভুবন ফিকে ॥

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ