মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মিষ্টি মেয়ে মোহনা

ফরিদ আহমেদ হৃদয় : মেয়েটির বয়স দেড় বছর। বাবা ও মায়ের চোখের মণি। বাবা-মা’র অতুল সাগরের মাঝে বেঁচে থাকার দ্বীপ যেন সেই মেয়েটি। তাইতো তার নাম রেখেছে মোহনা। সবাই অনেক আদর করে কোলে নেয়। সুন্দর মায়াবি চেহারা তার সবাই তাকে মায়া করে। সবার কাছেই যায় মোহনা, যে হাত পাতে তার কাছেই চলে যায় অর্থাৎ অত্যন্ত মিশুক এমন বাচ্চা সবার হয় না। তাইতো ভাগ্যবান বলা চলে মোহনার বাবা-মাকে। যাদেরকে আল্লাহতালা এতো সুন্দর ফুটফুটে একটি মেয়ে দিয়েছেন মাশাল্লাহ। বাবা-মার বুকের ধন মোহনা। বাবা মোস্তফা কামাল সোহাগ একজন লেখক আর মা সালমা বেগম একজন আদর্শ গৃহিণী। দুজনের একমাত্র সন্তান হলো মোহনা। ওকে নিয়েই যেনো তাদের জীবন শুরু। বাবা ব্যবসা করে। হাইওয়ের পাশেই একটি দোকান আছে তার। স্টীল ফেব্রিকেটরের নানান জিনিসপত্র বিক্রি করেন। তার নিজের দোকান মোস্তফা সাহেব বেশির ভাগই ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকেন। মালপত্র কেনাবেচা তিনি নিজেই করেন। কাজ শেষে রাতে ঘরে ফিরে আসেন।
আর আসার সময় তিনি মেয়ের জন্য অনেক কিছু কিনে নিয়ে আসেন। যেমন: চিপস, চকলেট, কেন্ডি, বিস্কুট, জুস ইত্যাদি ইত্যাদি। বাবা দেখে মোহনা বাবা বাবা বলে বাবার কোলে চলে আসে। তখন যেনো তার কাছে বাবা একটি খুশির পৃথিবী, বাবা ছাড়া পৃথিবীটা যেন শূন্য মনে হয়। বাবাকে কাছে পেয়ে তার সে শূন্যতা যেনো কেটে যায়। তাইতো সারাক্ষণ মাকে সে বলে মা বাবা কখন আসবে। বাবাকে না দেখে মোহনা থাকতে পারে না। বাবাকে দেখার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে, বাবাকে পেলে সে যেনো সমস্ত পৃথিবীটা কাছে পেলো, যেনো অন্য এক দুনিয়ায় হারিয়ে যায়-বাবার কোলে ওঠে খিলখিলিয়ে হাসে। ওর কাছে বাবা মানে অন্য এক ভুবন, যে ভুবনে শুধু আনন্দ আর স্বাধীনতা। মাকে মোহনা অনেক ভালবাসে কিন্তু বাবাকে একটু বেশি। বাবা বাড়িতে থাকলে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে বাবার বুকে, আর মনে হয় মোহনা যেনো কোনো স্বর্গে শুয়ে আছে। মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো বাবার কোল। বাবার বুকটা মোহনার কাছে হয়তো বাবা মানেই এমন হয়। হয়তো সবার বাবা এমনই হয়। এমন মনে হয় মোহনার কাছে।  বাবা মোস্তফা কামাল সোহাগ যখন বাড়িতে না থাকেন, তখন মিসেস সালমা অর্থাৎ মোহনার মা মোহনাকে সময় দেয়, মেয়েকে গোসল করানো, ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়ানো, তেল মালিশ, মেয়েকে সাজানো ইত্যাদি কাজ করে আর কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ানি গান গেয়ে মেয়েকে শুয়ে দেন। শোয়ার সময়ও মোহনা বাবাকে এপাশে ওপাশে খোঁজে, না পেয়ে আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পরে ঘুমের ঘোরে। বাবা মোস্তফা কামাল মেয়েকে নিয়ে অনেক ছড়াও লিখেছেন।  যেমন:
মোহনা নামের লক্ষ্মী মেয়ে, মুক্ত ঝরা হাসি
তার হাসিতে পাগল হয়ে রাখাল বাজায় বাঁশি।
আরো অনেক অনেক ছড়া, কবিতা লিখেছেন। মোহনা যখন হাসে তখন বাবা-মার মনের ভিতর খুশির বীন বাজে আর তখন বাবা-মাও মোহনার সাথে হাসে খেলা করে। আর যখন মোহনা কাঁদে যেনো বাবার অন্তরটাও কেঁদে ওঠে। মেয়েকে কোলে নিয়ে বাবা মোস্তফা কামাল এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে মেয়ে শান্ত করেন। আর নানা রকম ছড়া পাঠ করে মেয়েকে শোনান যাতে মেয়ে না কাঁদে।
মোহনার সামান্য অসুখ-বিসুখ হলে বাবা-মা চিন্তিত হয়ে যায়, ডাক্তারের কাছে তড়িঘড়ি গিয়ে ঔষধ নিয়ে আসেন, একমাত্র মেয়ে বলে কথা। মোহনা ছোট্ট হলেও সে বুঝতে পারে বাবা-মা তাকে অনেক আদর করে, সে জানে বাবা তাকে আদরের দুলালীর মতো বড় করছেন। বাবা-মা তাকে আদর করে চুমু খায়।
সে বাবা-মার নশ্বী মেয়ে চোখের মনি, নয়নতারা আরো কত কি। মোহনা হাজার বছর বেঁচে থাকুক এই কামনা। সবাই ঘরে আশপাশে যারা আত্মীয়স্বজন আছে সবাই দোয়া করে সে যেনো বড় হয়ে বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করে। লেখাপড়া শিখে সমাজের কোনো উপকার হয় এমন পেশায় জড়িত থাকুক, এই দোয়া সকলের। মোহনা ভালো থাকুক, সবসময় ভালো থাকুক। বাবার সাথে যেনো বন্ধুর মতো আচরণে চলতে পারে এটাই সকলের দাবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ