শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপ থেকে এগিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি : মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বিশ্বসেরার লড়াই বলে কথা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসাব করলে বিশ্বকাপের চেয়েও এগিয়ে রাখতে হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে। কারণ বিশ্বের সেরা আট দলই কেবল খেলার সুযোগ পায় এ টুর্নামেন্টে। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় এর যাত্রা শুরু হলেও ২০০৬ সালের পর প্রথমবার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আসরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু করে দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে টপকে জায়গা করে নিয়েছিল সেমিফাইনালে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার চোখে তাই এই অর্জন অনেক বড়। সেটা এমনকি ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের অর্জনের চেয়েও বেশি। দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছে সেমিফাইনাল। বাংলাদেশের এই উন্নতির গ্রাফ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ইংল্যান্ডে সফল এক মিশন শেষে গতকাল দেশে ফিরে নিজেদের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে সন্তুষ্টিই ঝরেছে মাশরাফির মুখে। গতকাল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখে মাশরাফি বাহিনী। ৮টা ৪০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট এক ঘণ্টা দেরিতে অবতরণ করে।  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মাশরাফি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন ট্রফির অর্জন আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিচারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ভীষণ কঠিন। ওখানে গ্রুপ পর্ব পেরোনোই অনেক কঠিন। সেই জায়গায় আমরা সেমিফাইনাল খেলেছি। সেই হিসেবে আমি দুই বছর আগের (২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল) অর্জনের চেয়ে এবারের সাফল্যকে এগিয়ে রাখব। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল হারের পর সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বারবার খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার কথা বলেছেন। দেশে ফেরার পরও বললেন একই কথা, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। বড় ম্যাচে কীভাবে নিজেদের মেলে ধরতে হয়, সেই জায়গায় উন্নতি করতে হবে আরও। একই সঙ্গে তরুণদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’ দুই বছর পর ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ যেহেতু ইংল্যান্ডেই বসবে, তাই এবারের অভিজ্ঞতা তখন তরুণদের সঙ্গে দলের প্রত্যেকেরই ভীষণভাবে কাজে লাগবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সাফল্যের পথ ধরে বিশ্বকাপে ভালো করার আশায়ও থাকলেন মাশরাফি। আইসিসির কোনও টুর্নামেন্টে প্রথমবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়ে সেই আশা বাংলাদেশের সব ক্রিকেট ভক্তের মনেই আসলে গেঁথে দিয়েছে মাশরাফিরা। আইসিসির কোনও ইভেন্টে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সামনে ছিল ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। যদিও ভারতের বিপক্ষে  হেরে থামে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা। তবে সাফল্যের এই ধারা সচল রাখতে পারলে ২০১৯ বিশ্বকাপে ভালো করার সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মাশরাফি বলেন,‘ ভালো লাগছে। তবে সুযোগ ছিল ফাইনালে যাওয়ার। নকআউট পর্যায়ে খেলায় সবসময় সুযোগ থাকে। কিন্তু আমরা সুযোগটা নিতে পারিনি। আশা করি সামনে আরও অনেক টুর্নামেন্ট আছে, সেগুলোতে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এখন গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করছি সামনে এমন সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে পারব। এই আসরে প্রাপ্তিগুলো আপনারা সবাই জানেন। সেমিফাইনাল খেলেছি ওটা অনেক বড় ব্যাপার ছিল। বিশেষ করে যে গ্রুপ থেকে খেলেছি। কাজটা এতটা সহজ ছিল না। এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটে জন্য বড় প্রাপ্তি। হয়তো আরও সুযোগ ছিল, কিন্তু সেটা আমরা নিতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হয়ে খেলতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তরুণদের ব্যর্থতা নিয়ে মাশরাফি বলেন,‘ দেখুন তরুণ ক্রিকেটারদের এই পর্যায়ের ক্রিকেটে পারফরম করাটা এতটা সহজ নয়। তবে এটা বলব, তাদের উন্নতিও করতে হবে। এই ধরনের টুর্নামেন্টে সিনিয়র খেলোয়াড়দের ভালো খেলাটা খুবই জরুরি। সেই সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দেরও ভালো খেলতে হবে। যদিও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী  হয়নি। ২০১৯ বিশ্বকাপে এরাই হয়তো অনেক দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারবে। আরও দুই বছর পর তারা আরও অভিজ্ঞ হবে। তবে এখন উন্নতির সময়। এখানে তারা যে লেভেলে তাদের খেলার উন্নতি করেছে, এখন উচিত সেটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। উন্নতির ধারাটা যদি ধরে রাখতে পারে, তাহলে আমার বিশ্বাস ২০১৯ বিশ্বকাপে ওরা ভালো করবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ