শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দার্জিলিং জ্বলছে

১৭ জুন, আনন্দবাজার : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার গণআন্দোলনকে কেন্দ্র করে আজ সেখানে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাতে বিজনবাড়িতে পূর্ত দফতরের একটি বাংলোয় মোর্চা সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দিলে একটি ঘর পুড়ে গেছে।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে মোর্চা বিধায়ক অমর রাইয়ের ছেলে বিক্রম রাইকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় এবং গতকাল শনিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি  মোর্চার মিডিয়া সেলের দায়িত্বশীল। তার বিরুদ্ধে পাহাড়ে অশান্তি ও উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল শনিবার পুলিশি বিধিনিষেধ অমান্য করে লেবং, সিংমারিতে মিছিল করে মোর্চা সমর্থকরা। বেআইনিভাবে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। মোর্চা সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হলে এক পুলিশকর্মী ইটের আঘাতে আহত হন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি জিপে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে মোর্চার মিছিল এগোনো শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মোর্চা সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের খ-যুদ্ধ চলে।
বিক্ষোভকারীরা পাহাড়ে ওঠার সমস্ত সড়ক অবরোধসহ পাঙ্খাবাড়ির সড়কে গাছ ফেলে আটকে দিয়েছে।
 মোর্চা নেতা বিনয় তামাংয়ের অভিযোগ, গত রাত ৩ টে নাগাদ পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির নামে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। পুলিশ তল্লাশির কথা স্বীকার করলেও, ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ বলছে, বিনয় তামাংয়ের বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।
গত শুক্রবারও মোর্চার নারী সমর্থকরা সিংমারিতে মিছিল করাসহ ডুয়ার্সের জয়গাঁ, বীরপাড়া, কুমারগ্রাম, মাদারিহাট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়।
অন্যদিকে, রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে মিরিকে মোর্চা প্রধান বিমল গুরুংয়ে ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের বিরোধিতায় পাল্টা মিছিল করে প্রতিবাদ জানানো হয়।
পাহাড়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিন্নি শর্মার অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় একাধিক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পাথর ও পরে পেট্রল বোমা ছুঁড়ে তাণ্ডব চালায় মোর্চা সমর্থকরা। তারা অবিলম্বে দল বদল করে মোর্চায় যোগ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। গোটা ঘটনা পুলিসকে জানানো হয়েছে।
পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে গত ১২ জুন থেকে একনাগাড়ে বনধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংস আন্দোলন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ