শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার পুলিশ সেনাসহ ১১ জন নিহত

১৭ জুন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/প্রেস টিভি : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে আলাদা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ ও একজন সেনা রয়েছে। এছাড়া, দুইজন বেসামরিক ব্যক্তি ও দুইজন সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামীরাও মারা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশ্মির পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আচাবল শহরে সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামীরা পুলিশের একটি টহল দলের ওপর আকস্মিক হামলা চালালে পাঁচ পুলিশ নিহত হয়।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, আরওয়ানি গ্রামে সেনা ও বিশেষ বাহিনীর অবরোধের প্রতিবাদ জানাতে গেলে সামরিক বাহিনী বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালায়। এতে দুই বেসামরিক ব্যক্তিসহ সন্দেহভাজন দুই স্বাধীনতাকামী নিহত হয়। বেসামরিক ব্যক্তিদের মধ্যে এক কিশোর রয়েছে। আরওয়ানি গ্রামে সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামী গেরিলারা লুকিয়ে রয়েছে -এমন অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী গ্রামটি ঘেরাও করে রেখেছে।
তৃতীয় ঘটনা ঘটেছে পাক-ভারত সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর। বলা হচ্ছে- পাকিস্তানি সেনারা ভারতের একটি সীমান্ত চৌকি লক্ষ্য করে গুলি চালালে ভারতের এক সেনা নিহত হয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। সেখানে নিয়মিতভাবে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে এবং স্বাধীনতা কিংবা বৃহত্তর স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে কাশ্মিরবাসী আন্দোলন করছে। কিন্তু ভারত সেখানে পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করে শক্ত হাতে সে আন্দোলন দমন করছে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের দমন-পীড়নের কারণে বহু তরুণ ভারত-বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত হয়ে উঠছে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ছয় পুলিশ সদস্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, হত্যার পর উন্মত্ত আক্রোশে লাশগুলোর মুখাবয়ব ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে স্বাধীনতাকামীরা।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে আরওয়ানি গ্রামে অভিযান চালিয়ে লস্কর-ই-তৈয়বার তরুণ কম্যান্ডার জুনাইদ মাট্টুকে হত্যা করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে সংগঠিত ও বৃহত্তম হামলা চালায় স্বাধীনতাকামীরা।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আরওয়ানি গ্রামে লুকিয়ে রয়েছে লস্কর কম্যান্ডার মাট্টু, এমন খবরে সেনা, পুলিশ ও সিআরপি গ্রামটিকে ঘিরে ফেললে শুরু হয় গুলির লড়াই। কোণঠাসা মাট্টু ও তার এক সঙ্গী মারা যায় বলে দাবি বাহিনীর। গুলির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে মারা যান দুই গ্রামবাসীও। কিন্তু এই অভিযানের পর থেকেই দক্ষিণ কাশ্মীরের পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠতে শুরু করে। জায়গায় জায়গায় শুরু হয় বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ করে দেদার পাথর ছোড়া।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হানে লস্কর। বিকেলে টহল দিতে আসা পুলিশের একটি গাড়িকে ঘিরে ধরে গুলি ছুড়তে থাকে স্বাধীনতাকামীরা । অন্তত ১৫ জন স্বাধীনতাকামীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ডিজি এস পি বৈদ্য। মাট্টুকে খতমের বদলা নিতে এই হামলা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে অবশ্য লস্করের মুখপাত্র আবদুল্লা গজনভি বিবৃতি দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করে। জানায়, কম্যান্ডার মাট্টুর হত্যার বদলা নিতেই এই হামলা। কাশ্মীর পুলিশ কাশ্মীরিদের গায়ে হাত তোলা বন্ধ না করলে আরো এ ধরনের হামলা চালাবে তারা।
জানা গেছে, নিহত পুলিশ সদস্যরা সকলেই কাশ্মীরের বাসিন্দা। তাদের শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত থাকেনি স্বাধীনতাকামীরা‘শিক্ষা দিতে’ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে ছয় পুলিশের মাথা। তাদের অস্ত্রশস্ত্রও লুঠ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ