মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত ফুটপাত থেকে বিপণী বিতান

খুলনা অফিস : খুলনায় শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ক্রেতাদের পদচারণায় দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। খুলনার নামী দামি বিপণী বিতান থেকে ফুটপাতের মার্কেটেও এখন বেজায় ভিড়। ভিড় বেড়েছে নগরীর জিয়া হল চত্বরে অনুষ্ঠিত ঈদ আনন্দ মেলায়।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, শেরওয়ানি পার্টের লম্বা কামিজ। নিচে বড় ঘেরের লেহেঙ্গা। আবার দুই পার্টের লং কোটির সঙ্গে বড় ঘেরের স্কাট। এই ড্রেসটাই এবার বাজিমাত করেছে ঈদ বাজারে। বিক্রেতাদের কেউ একে বলছেন, লাসা সেট। কেউ বলছেন সারারা, আবার যারা একটু বেশি চতুর তারা এর নাম দিচ্ছেন বাহুবলী-২।
ভিন্ন ডিজাইনের এই কামিজই এখন শোভা পাচ্ছে খুলনার অভিজাত বিপনী বিতানগুলোতে। বেশিরভাগ বিক্রেতাই একে বাহুবলী-২ নামেই উপস্থাপন করছেন। এখন পর্যন্ত বিক্রিও হচ্ছে বেশ ভালো। এর সঙ্গে চুনড়ি, রাজস্থানী তশর, পিওর শিফন এবং পাকিস্তানি থ্রি-পিসগুলো বেশি চলছে।
বিক্রেতারা জানান, ভারতীয় গতবার পরিচালক সঞ্জয় লিলা বানসালি পরিচালিক ‘বাজিরাও মাস্তানি’ সিনেমার পোশাকগুলিই বেশি চলেছে। কিন্তু এবার বাহুবলী বাজিমাত করলেও নায়িকার কোনো পোশাকই বাজারে আসেনি। এজন্য সবচেয়ে নতুন ও আনকমন পোশাকের নাম দিচ্ছেন তারা বাহুবলী-২। ভারতীয় এই পোশাকের সর্বনিম্ন দাম ৫ হাজার। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে একেকটি পোশাক।
নগরীর নিউ মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বিপণী বিতান ঘুরে দেখা গেছে, - পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক উঠেছে সব দোকানেই। কর্মচারীরা ব্যস্ত জামা-কাপড় সাজাতে। সেজেগুজে তরুণিরাও ছুটছেন এ দোকান থেকে সে দোকানে। সর্বত্রই কেমন ঈদের আমেজ।
ঈদ আনন্দ মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের জামা-কাপড় ও তৈরি পোশাকের পসরা। সেই সঙ্গে কমদামের নানা রকমের নজর কাড়া কসমেটিক সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। সেখানেই বেশি ভিড় ক্রেতাদের।
খুলনার নিউ মার্কেটের খুলনা এন্টারপ্রাইজের সিনিয়র সেলসম্যান আলম বলেন, লাসা সেট বেশি চলছে। এর ছাড়া লেহেঙ্গা স্টাইলের ডাবল পার্টের বাহুবলি ভাল বিক্রি হচ্ছে। মসলিন কাপড়ের পাকিস্তানি কামিজসেটের দাম দুই হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত। গতবছরের ক্রেজ প্লালাজো এবার কিছুই পরিবর্তন হয়ে সারারা নামের নতুন সালোয়ার বের করেছে। টিনএজদের মধ্যে এই ধরনের পোশাকের চল এবার কিছুটা বেশি।
এবারের ঈদে শাড়ির নজরকাড়া সংগ্রহ দেখা গেল বিভিন্ন দোকানে। নিউ মার্কেটের চামিং হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী তৌহিদ মৃধা জানান, ভারতীয় যতো পোশাকই থাক ঢাকাইয়া ডেমরার জামদানি, দেশি টাঙ্গাইল সব সময় বিক্রির শীর্ষে থাকে। এ বছর পিওর সিল্পের ওপর কাঞ্জিবরণ কাতান শাড়িগুলো চলছে। এর দাম ৯ হাজার থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত। দেশী জামদানি ৩ থেকে ১০ হাজার এবং দেশি টাঙ্গাইল ৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সুতির কাজ করা শাড়ির বিক্রি ভালো।
তিনি জানান, ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানির শাড়ি তরুণিদের বেশি পছন্দ। ক্যাটালগ দেখে তারা শাড়ি কিনছেন। এছাড়া শিফনের ওপর স্টোনের কাজ করা শাড়ি এবং শিপনের ওপর সুতার কাশমেরী কাজ করা শাড়িও ভালো চলছে। এগুলোর দাম ৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিভিন্ন শো-রুমে ছেলেদের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক এসেছে। তবে নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবীর জন্য মানুষ ভিড় করছেন দেশী ফ্যাশান হাউজগুলোয়। আড়ং, অঞ্জনস, দর্জিবাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ভিড়। তবে এবারের ঈদ কালেকশন দেখে অসন্তুষ্টি দেখা গেছে সবার মধ্যে।
বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন বিপণী বিতান ঘুরে জানা গেছে, এ বছর বাহারী রঙের শাড়ি সাজানো হয়েছে বিপণীগুলোতে। দৃষ্টিনন্দন শাড়িগুলো দামেও তুলনামূলক কম। ঈদে আকর্ষণীয় শাড়িগুলোর মধ্যে কাঞ্চিবরণ সিল্ক ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, দুপিয়ান সিল্ক ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা, কাতান সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা, জর্জেট (কাজ করা) ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, সাউথ কাতান দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল ৫শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা, টিস্যু জামদানি ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা ও গ্যাস ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল ও টিস্যু জামদানী শাড়ির চাহিদা বেশী বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ১৫ রমযানের পর থেকে ঈদের বাজার জমতে শুরু করেছে। বিপণীগুলোতে প্রত্যাশিত ক্রেতা আসছেন। বিক্রেতারা জানান ভারতীয় শাড়ির চেয়ে দেশি শাড়ির কদর অনেক বেশি। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব বিপণীতে বিকিকিনি চলছে।
নগরীর এসএমএ রব শপিং কমপ্লেক্স, এশা চেম্বার আক্তার চেম্বার ও নিউ মার্কেটের একাধিক বিক্রেতা জানান ১৫ রমযানের পর থেকে ঈদের কেনাকাটা জমে ওঠেছে। এই মুহূর্তে বাচ্চাদের পোশাক বেশী বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান। তবে গতকাল শুক্রবার থেকে দোকানে ভীড় তুলনামূলক একটু বেশি দেখা গেছে।
এদিকে ঈদকে ঘিরে মার্সেলের আকর্ষণীয় মডেলের ফ্রস্ট ও নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ স্থানীয় বাজারে মার্সেল ফ্রিজের প্রতি গ্রাহকদের চাহিদা ও আস্থা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যার প্রেক্ষিতে আসন্ন ঈদ উল ফিতরকে ঘিরে চলতি রমযান মাসে গতবারের চেয় ২৫ শতাংশ বেশি ফ্রিজ বিক্রির টার্গেট নিয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাজারে অসংখ্য মডেলের ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্ট ও ডিপ ফ্রিজ বিক্রি করছে মার্সেল। প্রোডাক্ট লাইনে যুক্ত করেছে টেম্পারড গ্লাস ডোরের নতুন মডেলের রেফ্রিজারেটর।
মার্সেল সূত্র মতে, গত বছর মার্সেল ফ্রিজে ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এবছর স্থানীয় বাজারে ২ লাখ ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা তাদের। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাজারে ২৫ টি মডেলের ফ্রস্ট ও নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ বিক্রি করছে মার্সেল ব্র্যান্ড। ইতোমধ্যে, মার্সেলের ৪৩০ লিটারের নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আর আপকামিং মডেলের তালিকায় রয়েছে ২১৭ লিটারের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটরসহ ১০৭ লিটারের বার ফ্রিজ। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা- চলতি রমযানে গ্রাহকদের কাছে ‘হট কেক’ হয়ে উঠবে মার্সেলের নতুন মডেলের টেম্পারড গ্লাস ডোরের রেফ্রিজারেটর।
মার্সেল প্রকৌশলীরা জানান, মার্সেলের ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এই ফ্রিজ তুলনামূলক শব্দহীন এবং ভিতরে বরফ জমে না।
মার্সেল ফ্রিজ মান নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, আন্তর্জাতিক মান যাচাইকারি সংস্থা নাসদাত ইউনিভার্সাল টেস্টিং ল্যাব থেকে প্রতিটি ফ্রিজের মান নিশ্চিত হয়েই বাজারে ছাড়ছে মার্সেল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ