মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রাজশাহীতে ব্যবহারের অযোগ্য পানি সরবরাহ ॥ প্রতিকার দাবি

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী মহানগরীতে পাইলাইনের মাধ্যমে সরবরাকৃত পানিতে একদিকে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ ও চুন থাকে। সেই সঙ্গে পাইপগুলো বহুদিন পরিষ্কার না করায় সেগুলো থেকে ব্যবহারের অযোগ্য পানি সরবরাহ করা হয়।
এই অবস্থার প্রতিকার ও রাজশাহীতে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী নাগরিক সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। এ সময় সংগঠনটির নেতারা বলেন, রাজশাহীতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ওয়াসার সরবরাহকৃত পাইপলাইনের পানি খাওয়া বা রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় না। কারণ পাইপগুলো অনেক পুরনো। এগুলোর ভেতর শেওলা জমে কেঁচো ও পোকা-মাকড় বাসা বেঁধেছে। এ পরিস্থিতিতে খাবার পানির একমাত্র অবলম্বন সিটি কর্পোরেশনের বসানো কিছু নিম্নমানের টিউবওয়েল। এগুলো স্থাপনের সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে বেশির ভাগই নষ্ট থাকে এবং ঘোলা ও ময়লা পানি বের হয়। রমযান মাসে খাবার পানি সরবরাহের একমাত্র অবলম্বন কিছু সচল টিউবওয়েল। প্রতিটি টিউবওয়েলের কাছে শত শত মানুষ পানি সংগ্রহের জন্য লাইন ধরে থাকেন। তাই এ অবস্থায় অবিলম্বে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসিয়ে নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। তবে এই কাজটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ জন্য ৩০টি ওয়ার্ডে জরুরি ভিত্তিতে তিন হাজার ভালো মানের টিউবওয়েল বসিয়ে মহানগরবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানির সংস্থান এই মুহূর্তে করা প্রয়োজন। রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আজাহার আলী রাজশাহী নাগরিক সমন্বয় কমিটির নেতাদের জানান, শিগগিরই পদ্মা ও মহানন্দার পানি শোধন করে সম্পূর্ণ নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। রাজশাহীর ৬৫০ কিলোমিটার পানি সরবরাহ লাইনের পাইপের বেশির ভাগ বদল করা হয়েছে এবং বাকিগুলো বদলানো হবে শিগগিরই। তিনি আগামী তিন বছরের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সুয়্যারেজ লাইন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানান। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী নাগরিক সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মো: সামসুদ্দিন, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ