বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলায় উত্তর কোরিয়াকেই সন্দেহ ব্রিটিশ তদন্তকারীদের

১৬ জুন, বিবিসি : যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সাইবার হামলার ঘটনায় শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার দিকেই সন্দেহের তীর উঠে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিমানটেক এবং রাশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি গত মাসেই এ সন্দেহের কথা জানিয়েছিল।
 সেই ধারাবাহিকতায় এবার উত্তর কোরিয়াকে দায়ী বলে মনে করছেন ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও। ২০১৪ সালে হ্যাকারদের যে দলটি সনি পিকচার্সে হামলা চালিয়েছিল তারাই ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সাইবার হামলা চালিয়ে অর্থ চুরির জন্যও এ হ্যাকার দলটিকে দায়ী করা হয়ে থাকে। গত ১২ মে র‌্যানসমওয়্যার ব্যবহার করে শুরুতে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) কম্পিউটার সিস্টেমে সাইবার হামলা চালানো হয়। পরে তা বিশ্বের অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতে কয়েক লাখ কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। এ হামলা কারা চালিয়েছে তার তদন্তে নিয়োজিত থাকা আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটেনেরন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি)। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, এনসিএসসি বিশ্বাস করে ল্যাজারাস নামে পরিচিত একটি হ্যাকিং গ্রুপ হামলাটি চালিয়েছে।
এর আগে, গত মে মাসে সিমানটেক ও ক্যাসপারস্কিও একই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। সিমানটেক ও ক্যাসপারস্কি ল্যাবের গবেষকরা জানান,ওয়ানা ক্রাই এর শুরুর দিকের ভার্সনটির কিছু কোড উত্তর কোরিয়ার ল্যাজারাস হ্যাকার গ্রুপের প্রোগ্রামেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানই বলেছে,সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা এতো তাড়াতাড়ি বলা সম্ভব হচ্ছে না।     
ধারণা করা হয়, ল্যাজারাস হ্যাকারস গ্রুপটি উত্তর কোরিয়ার মদদপুষ্ট। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করার বৈশিষ্ট্য এ গ্রুপটির মধ্যে দেখা যায়।  ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার হামলা চালিয়েছিল ল্যাজারাস গ্রুপ। গত বছর নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পেছনেও ল্যাজারাস গ্রুপ কাজ করেছে বলে মনে করা হয়। সাইবার হামলায় ব্যবহৃত ভয়াবহ র‌্যানসমওয়্যারটি ওয়ানাক্রাই, যা ওয়ানাক্রিপ্টর ২.০ বা ডব্লিউক্রাই হিসেবে পরিচিত।
র‌্যানসমওয়্যার একটি ভাইরাস যা কোনও একটি কম্পিউটারে ইন্সটল হয় মূলত কোনও ভুল লিংকে ক্লিক করার মধ্য দিয়ে। ভুল কোনও কিছু ডাউনলোড করার মধ্য দিয়েও এটা কম্পিউটারে প্রবেশ করতে পারে। কম্পিউটারে প্রবেশের পর তা পুরো ফাইল ব্যবস্থা লক করে দেয়। তখন কম্পিউটার চালু করার জন্য মুক্তিপণ দিতে হয়।
ওয়ানাক্রাই-এর ক্ষেত্রে এই ভাইরাসটি কম্পিউটারের ফাইলগুলো এনক্রিপ্ট করে ফেলে এবং ফাইলের অ্যাকসেস পেতে বিটকয়েনে মুক্তিপণ পরিশোধ করার কথা বলা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ