শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ ও আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

চট্টগ্রাম অফিস : খাদ্যে ভেজাল যেভাবে একজন মানুষকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিতে পারে, সেরকম ভোজ্য তেলে ভিটামিটন এ সমৃদ্ধকরণ না হলে এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত না হলে শিশুদের অন্ধত্ব, অপুষ্টি, মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি, গর্ভকালীন প্রসবজনিত সমস্যা বাড়বে আর আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার না করলে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ সঠিকভাবে হবে না এবং একজন শিশু পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠবে না। তাই খাদ্যে ভেজালের মতো ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ ও আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ক্যাবসহ ভোক্তা স্বার্থ নিয়ে নিয়ে যারা কাজ করছে তাদেরকে আরো বেশী সোচ্চার হতে হবে। কারণ সমস্যাটি শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের নয়, পুরো জাতির। সরকার জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ নিলেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া সরকারের উদ্যোগ সফল হবে না।

 ১৫ জুন দুপরে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সরোয়ার জাহান ‘দা গ্লোবাল এ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন) এর সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে ভিটামিন ’এ’ সমৃদ্ধ তেল ও আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। 

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং ক্যাব বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সচেতনতামুলক কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারস অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম ইউমেন চেম্বারের পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী প্রমুখ। 

কর্মশালায় বলা হয় বাংলাদেশে শিশুদের অন্ধত্বের অন্যতম কারণ ভিটামিন ’এ’ এর ঘাটতি। ভিটামিন ’এ’ ঘাটতির কারণে শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা হওয়ার কারণে সংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন এ’র ঘাটতি জনিত গর্ভাবস্থায় ও শৈশবকালে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। অন্যদিকে ভোক্তার শরীরে আয়োডিনের অভাবে মস্তিস্কের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং বুদ্ধিবৃত্তি বাধাগ্রস্ত হয়। অথচ এই ক্ষতি সহজে নিরাময়যোগ্য। মানুষের শরীরে হরমোন তৈরি জন্য আয়েডিন প্রয়োজন হয় না। থাইরোয়েড নামক একটি গ্ল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। আয়োডিনের ঘাটতি মস্তিস্ক গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সরকার খাবার লবনে আয়োডিন যুক্ত করার জন্য আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন ১৯৮৯ ও ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ যুক্ত করার জন্য ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছেন। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগের জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ ও আইনী ব্যবস্থা যেমন জরুরি, তেমনি উৎপাদক, পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করার বিকল্প নেই। একই সাথে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ তেল ও আয়োডিন যুক্ত লবণ ব্যবহারের ওপর সাধারণ ভোক্তাদের সচেতনতা তৈরীরও বিকল্প নেই। কর্মশালায় ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল ও আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার ও ভোক্তা অধিকার ও আমাদের করনীয় শীর্ষক দু’টি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সরকারী কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, সামাজিক রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, পেশাজীবী, সাংবাদিক ও ক্যাব নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহন করেন।

কর্মশালায় খোলা ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ ও খোলা লবনে আয়োডিনযুক্তকরণ যথাযথ ভাবে নজরদারি করার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগের নজরদারি জোরদার, নজরদারির জন্য নিয়োজিত সরকারী সংস্থাগুলির কাজের স্বচ্ছতানিশ্চিত ও তাদের সক্ষমতা বাড়ানো, ভোজ্যে তেলে ভিটামিন এ পরীক্ষা সহজীকরন করা, তৃণমুল পর্যায়ে ভোক্তাদের মাঝে এ বিষয়ে আরো বেশী গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকারী, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের সুপারিশ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ