বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মোদিকে চাপে ফেলতে কৃষকের পাশে শ্রমিক

১৪ জুন, ইন্টারনেট : ভারতে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে এবার শ্রমিকরাও। মধ্যপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্রে চাষিদের বিক্ষোভের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ বাড়াতে রাস্তায় নেমেছে বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন।
শুধু শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নয়, তার সঙ্গে কৃষকদের সমস্যা নিয়েও সোচ্চার হয়েছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। বলা হচ্ছে, ফসলের উপযুক্ত দাম না দেওয়া, গোরক্ষক বাহিনীর তাণ্ডব, গবাদি পশু নিধনে নিষেধাজ্ঞার ফলে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়ছে কৃষকরা।
কংগ্রেস, বাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ব্লক, মহকুমা, জেলা স্তর থেকে আন্দোলন শুরু হবে। দেড় মাস ধরে এই কর্মসূচির পরে ৮ আগস্ট দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে সম্মেলন হবে। সেখান থেকেই ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ও ফেব্রুয়ারিতে শিল্প ধর্মঘটের পরিকল্পনা ঘোষণা হতে পারে। এর মধ্যেই চলতি মাসে কয়লা ও তামার খনিতে ধর্মঘট ডাকা হচ্ছে।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, নোট বাতিলের সব থেকে বড় ধাক্কা শ্রমিক ও কৃষকদের উপরেই এসেছিল। এমনিতেই পরপর দুই বছরের খরার ধাক্কায় চাষিরা ঋণগ্রস্ত। তা সত্ত্বেও রেকর্ড পরিমাণ ফসল ফলিয়েছেন তারা। কিন্তু মোদি সরকার ফসলের উপযুক্ত দাম দিচ্ছে না। অথচ লোকসভা ভোটে বিজেপির ইস্তেহারে বলা ছিল, ফসলের খরচের দেড় গুণ করে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিক হবে। মোদি সেই প্রতিশ্রুতি রাখেননি।
ইউপিএ সরকারের আমলে সঙ্ঘ-পরিবারের শ্রমিক সংগঠন বিএমএস, কংগ্রেসের আইএনটিইউসি এককাট্টা হয়ে আন্দোলন করত। মোদি সরকারের আমলেও বিএমএসও প্রথম দিকে এই জোটে ছিল। বিজেপি-আরএসএস নেতৃত্ব তাতে আপত্তি তোলেননি। এর পিছনে দুইটি কৌশল ছিল। এক, বিরোধিতার মঞ্চের রাশও আরএসএস-এর হাতেই রাখা। দুই, শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের ক্ষোভকে প্রশমিত করা। কিন্তু বাকি সব শ্রমিক সংগঠন শিল্প ধর্মঘটে গেলেও বিএমএস তাতে রাজি হয়নি। তার পর থেকেই বিএমএস দলছুট। তাতে অবশ্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে সুবিধাই হয়েছে বলে দাবি করছেন সিটু নেতা তপন সেন। তার মতে, বিএমএস-কে পাশে রাখার তাগিদে কোথাও আপস করার প্রয়োজন পড়ছে না। তারই ফলশ্রুতি হল, আগামী ১৯ থেকে ২১ জুন কয়লা ক্ষেত্রে ধর্মঘট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ