বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা বিএনপি নেতা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবলা তিন মাস ধরে নিখোঁজ!

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ২৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হাসিবুল হক বাবলা প্রায় তিন মাস ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনার বিএনপি দলীয় একজন কমিশনার এই খবেরর সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে বাবলার পরিবারের সদস্যরা এই বিষয়ে কথা বলতে চান নি।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাবলা নিখোঁজ এমনটি তিনি গত শনিবার শুনেছেন। তিনি খোঁজ-খবরও নিয়েছেন, লোকমুখে শুনেছেন বাবলা ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত। তবে বাবলা নিখোঁজের ব্যাপারে তার কাছে কোনও ইনফরমেশন নেই কিংবা পরিবার থেকেও থানায় কেউ কোনও অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি।
হাসিবুল হক বাবলা। সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা। ৮০ র দশকে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুব সংহতির খুলনা মহানগর সভাপতি ছিলেন। তার আগেও ছাত্র সমাজের নেতা ছিলেন। এরশাদ জামানায় যশোরের একজন সাবেক জিওসি’র সংগে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে বাবলা খুলনায় ব্যাপক প্রভাবশালী ছিলেন। দুই দফা কমিশনার নির্বাচিত হন। এরশাদের পতনের পরে বাবলাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল খুলনার তিন জোট।
এরশাদ জামানায় ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করে খুলনায় সমালোচিত হন। বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ের আগে পরেও বাবলা বিয়ে করেছেন এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। একাধিক বিয়ের কারনে মূল রাজনীতি থেকে বাবলা একপর্যায়ে ছিটকে পড়েন। গত কয়েক বছর আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে আবারও রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয় হন। বাবলা ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খুলনা মহানগর বিএনপির একই সংগে যুগ্ম সম্পাদক।
জানা গেছে, সদা হাসি খুশি, অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী বাবলা গত তিন মাস ধরে অনেকটা স্বেচ্ছা নির্বাসনের মতো নিজেকে আড়াল করে নেন। তার দুটি মোবাইল ফোনও বন্ধ পায় দলের নেতাকর্মীরা। খুলনা প্রেসক্লাবের পাশে ছোট মির্জাপুরে বাবলার বাসা। সেখানে তিনি স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে থাকেন। এটি বাবলার পরকীয়ার বিয়ে। একাধিক সন্তানসহ বাবলা এই স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন ৮০ এর দশকে।
বাবলার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলেছে, স্ত্রীর সংগে মনোমালিন্য হওয়ায় বাবলা অনেকটা হতাশ হয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। মেয়েলি কারণে বাবলার সংগে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না, সেই কারনে বাবলা নিজ থেকেই নিজেকে আড়াল করেছেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম জানান, বাবলা নিখোঁজ হননি, নিজেই নিজেকে আড়াল করেছেন। বিষয়টা পারিবারিক। তিনি জানান, তার ছেলে আমাদের কাছে এসেছিলো, বাবলা তার পরিবারকে টাকা পয়সা দেয় না, সংসারের খোঁজ খবর নেয় না, এমন অভিযোগ তার কাছে এসে ছেলে করে গেছে। বিষয়টা পারিবারিকভাবে মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বাবলার এলাকা ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না জানান, বাবলা নিখোঁজ এটা তিনি লোকমুখে শুনেছেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না। এ বিষয়ে বাবলার মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার ফোন দিয়েও ফোন খোলা না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরমপন্থি শরিফুল ঢাকায় গ্রেফতার
১৯৯২ সালে দৌলতপুর এলাকার বহুল আলোচিত ডবল মার্ডার মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী চরমপন্থী সদস্য শরিফুল ইসলাম ওরফে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ ডিবি ঢাকার সাভার থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
ডিবি’র এসআই মো. বদরুজ্জামান জানান, এসআই মোহাম্মদ আলীসহ একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার সাভারে অভিযান পরিচালনা করি। জোড়া হত্যা মামলার আসামী চরমপন্থি সদস্য খুলনার দৌলতপুরের সবুজ সংঘ মাঠ পাবলা এলাকার মৃত আজিজের ছেলে শরিফুল ইসলাম ওরফে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ১৯৯২ সালের জুন মাসে তথাকথিক বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি ও পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির সাথে সংঘর্ষে দুইজন মার্ডার হয়। বহুল আলোচিত দৌলতপুরের দত্তপাড়া এলাকায় ঘটনাটি সংগঠিত হয়। দুই পরে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে দুইজন মারা যায়। এই ঘটনার জের ধরে দৌলতপুর এলাকায় একটির পর একটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হতে থাকে। এমনকি এই দুই গ্রুপের তান্ডবে দৌলতপুর এলাকা সন্ত্রাসের রাজত্ব হিসেবে পরিচিতি হয়। এই হত্যাকান্ডের সূত্র ধরে গত কয়েকদিন আগেও ইকবাল ওরফে ইকবাল হুজুর নাম করে একজন খুন হয়। ১৯৯২ সালের ডবল মার্ডারের অন্যতম পলাতক আসামী একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন ও অন্য একটি বিষ্ফোরক মামলার ৫ বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকার সাভার এলাকায় পলাতক ছিল। তার ভাই হিটলার এলাকায় থেকে সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল। একপর্যায়ে হিটলারও একই কায়দায় খুন হয়।
দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় খুলনা সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র বিএম মারুফুর রহমান (১৮) নিহত হয়েছে। এ সময় আবু হুরাইরা (১৬) ও কিবরিয়া হোসেন (১৬) গুরুতর আহত হয়েছে।
পাইকগাছা থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার গজালিয়া-চাঁদখালী সড়কের কৈয়াছিটিবুনিয়া গ্রাম এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খেঁজুর গাছের সাথে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত বিএম মারুফুর রহমান উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের বিএম মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। আহতরা একই গ্রামের মাসুম ফকিরের ছেলে আবু হুরাইরা ও চাঁদখালী গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে কিবরিয়া হোসেন। আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিবরিয়ার অবস্থা আশংকাজনক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ