রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বগুড়ার শেরপুরে একজনকে কুপিয়ে আহত

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একজনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শজিমেকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় শেরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তছলিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলা কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র তছলিম উদ্দিনের (৩০) সাথে একই এলাকার আনিছুর রহমানের (৩৫) পুর্ব শত্রুতার জেরে কথাকাথাকাটি হয়। এরপর তছলিম, আলিম ও রুবেল মিলে আনিছুরকে ধারালো ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা সেখান থেকে সটকে পড়লে আনিছুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
এই সংবাদ পেয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ এরফানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চন্ডেশ্বর গ্রাম থেকে গোলাম হোসেনের পুত্র তছলিম উদ্দিন (৩০) কে আটক করে এবং তল্লাশি চালিয়ে পুকুরের মধ্য হতে কোপানোর কাজে ব্যবহৃত ছোড়াসহ লাঠিসোঁটা উদ্ধার করে।
আটককৃত তছলিম সাংবাদিকদের জানায়, প্রায় বছরখানেক আগে সে তার জমিতে বিষ দিলে আনিছুরের বেশ কয়েকটি হাস মারা যায়। সে সময় বিচারে তার ১৫শ টাকা জরিমানা দিতে হয়। সেই শত্রুতার জের ধরে আনিছুর তার বাড়ির বিদ্যুতের লাইনের তার দুবার চুরি করে এবং মিটারটি ভেঙ্গে ফেললে সেই রাগে সে এমন কাজ করেছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ এরফান জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে আসামী আটকের পাশাপাশি অস্ত্রটি উদ্ধার করেছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
লাঠির আঘাতে কৃষকের মৃত্যু
বগুড়ার শেরপুরে রামনগর উত্তরপাড়া গ্রামে জমিতে পানি সেচকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে গত রোববার দুপুরে আব্দুর রাজ্জাক (৩৬) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের রামনগর উত্তরপাড়া গ্রামের হযরত প্রামাণিকের ছেলে শামীম হোসেনের শ্যালো মেশিন থেকে একই গ্রামের বোরহান উদ্দিন ফকিরের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ঘণ্টায় ২শ টাকা চুক্তিতে পানি না নিয়ে অন্য শ্যালো মেশিন থেকে ঘণ্টায় দেড় শত টাকা চুক্তি করে গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শব্জির জমিতে পানি দিচ্ছিল। শামীমের জমিতে পানি ঢুকে পড়লে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শামীমের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে রাজ্জাকের মাথায় সজোরে আঘাত করে। এ সময় সে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজ্জাক মারা যায়।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ