বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

একের পর এক চুরির ঘটনায় শঙ্কিত গ্রাহকরা খুলনা জিপিওতে নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীর বয়রায় অবস্থিত খুলনা জিপিওতে নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একের পর এক চুরির ঘটনায় শঙ্কিত গ্রাহকরা। প্রতিদিন কোটি টাকা লেনদেন হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের ৬ লাখ টাকা নিয়ে আবারও পালিয়েছে চোর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,রোববার দুপুর ১২টার দিকে বয়রাস্থ খুলনা জিপিওতে সঞ্চয়পত্রের সুদ ভাঙাতে আসেন খালিশপুর মহসিন কলেজ মোড়ের নুহা ট্রেডিং এর মালিক মো. নজরুল ইসলাম (৪০) সঞ্চয়পত্রের  সকল কাগজ পত্র ও ভাঙানো সুদের নগদ ৬ লাখ ৪ হাজার ২৮১ টাকা তার সাথে থাকা একটি চামড়ার ব্যাগে রেখে তিনি এসিস্ট্যান্ট পোস্ট মাস্টারের রুমে যান। এ সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট পোস্ট মাস্টারের টেবিলে তার ব্যাগটি রেখে কথা বলার জন্য এক মিনিট পলক ফেরান। আর সেই ফাকেই তার ব্যাগটি চুরি হয়ে যায়। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে চোরের ছবি দেখা যায়। পোস্ট অফিসের কক্ষ থেকে এমন চুরির ঘটনায় হতবাক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। পরে তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা তাকে থানায় মামলা করতে বলেন।
 ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি অফিসে থাকাকালীন আমার টাকা চোর নিয়ে যাবে এটা আমি মানতে পারছি না। আমার ব্যাগে টাকা ছাড়াও ৬টি সঞ্চয়পত্রের মূল কাগজ ছিল। কর্র্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারে না। পরে তিনি খালিশপুর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বয়রা জিপিওতে সোমবার বেলা তিনটার দিকে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও গেটে জিপিও কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, একজন দারোয়ান ছাড়া অফিসে অন্য কোন নিরাপত্তা কর্মী নেই। প্রতিদিন ১’শ থেকে দেড়শ’ গ্রাহক আমানত তুলতে একানে আসেন। সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন মেয়াদে সঞ্চয়ী জমা ও উত্তোলসহ দিনে প্রায় কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয় জিপিওতে। কিন্ত কোন নিরাপত্তা কর্মী নেই। এর আগেও এখানে বেশ কয়েকবার চুরি হয়েছে বলে জানান, কয়েক জন কর্মকর্তা।
 খুলনা জিপিও’র সিনিয়র পোস্ট মাস্টার মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তা জন্য খালিশপুর থানায় আবেদন করা হয়েছে। কিন্ত এখানে নিরাপত্তার জন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমন ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে জনবল খুবই কম। এখানের ৫০ শতাংশ পদই শূন্য। ফলে কাজ করতে অনেক বেশি অসুবিধা হয়।
খালিশপুর থানার ওসি আমীর তৈমুর ইলী বলেন, এর আগেও কয়েকবার জিপিওতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখানে পর্যাপ্ত আর্থিক লেনদেন হয়। কিন্ত এজন্য তাদের কোন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তাদের অফিসের ভেতর থেকে চুরি হলে সেটা পুলিশ কিভাবে ঠেকাবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ