সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভূমি খেকোরা খাচ্ছে বটিয়াঘাটার সরকারি খাস ভরাটী খাল

খুলনা অফিস: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার শহর সংলগ্ন ইউনিয়ন জলমা অবৈধ দখলবাজদের দখলদারিতে সরকারি ভরাটী খাস ও জলা গুলো দখল করে নিয়ে কাঁচা-পাকা ইমারত ও রাস্তা নির্মাণ পূর্বক কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এতেকরে একশ্রেণির অবৈধ দখলবাজরা হঠাৎ করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এসকল অবৈধ দখলবাজদের রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জলমা ইউনিয়নে যে সকল সরকারী খাল ছিল তার অস্তিত্ব খুজে পওয়া যাবে না। অন্যদিকে জলমা ইউনিয়নের সকল গ্রাম, নগর ও বড় বড় স্থাপনা বর্ষা মওসুমে ডুবে থাকবে পানির নিচে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
জলমা ইউনিয়নে যে সকল সরকারি খালগুলো দখলবাজদের দখলে সেগুলো হলো জলমা মৌজার ইনেদার ও কাঁটাখালি খাল, ছয়ঘরিয়া মৌজার চরালির খাল, গুপ্তমারী, বিষ নদী, ষষ্টের জলা, বাদালের খাল, ঠাঁকুরন বাড়ী খাল, বড়বাড়ী/ লাঠেলের খাল ও বদনাখালী খাল, রাঙ্গেমারী মৌজায় গজালমারী, ভেকটমারী, বারুয়ের খাল, সমুদ্রের খাল, রাঙ্গেমারী মৌজায়, দক্ষিণ রাঙ্গেমারী, বিদুরের ও নিলোবাড়ী খাল, ঝড়ভাঙ্গা মৌজায় ঝড়ভাঙ্গা খাল, সাচিবুনিয়া মৌজায় সাচিবুনিয়া খাল, চরাখাল, শৈলমারী মৌজায় রামদিয়া, বুড়ো রামদিয়া, কাঁটাখাল, হোগলাডাঙ্গা, বাঁশবাড়িয়া, সিন্দুরতলা খাল, তেতুলতলা মৌজায় ঢাকইদার খাল, ইনেদার খাল সহ ভরাটী বিভিন্ন জলা, মাথাভাঙ্গা মৌজায় পুটিমারী, ডুবি মৌজায় সুড়ীখালী খাল সহ বিভিন্ন ভরাটী জলা দখল পূর্বক প্লট ও নগরের রাস্তা নির্মাণ করছে।
সরেজমিনে ঘুরে খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, অবৈধ প্লট ব্যবসায়ীরা তাদের জমি ঠিক রাখার স্বার্থে সরকারী ভরাটী খালের উপর দিয়ে প্লটের রাস্তা নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এতে একদিকে প্লট ব্যবসায়ীরা সরকারি খালে রাস্তা নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ছে, অন্যদিকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।
অপরদিকে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক ভাবে জানান, কৃষি জমি ধ্বংস করে কোন বাড়ী বা ইমারত নির্মাণ  করা যাবে না। কৃষি জমিতে বাড়ী নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। জলমা ইউনিয়নে ব্যাঙের ছাতার মত প্লট ব্যবসায়ী ও দালাল সৃষ্টি হয়েছে। দালালদের টাকা না থাকলেও এমন ভাব দেখায় যে, সে কোটি টাকার মালিক। আর দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক ভূমির মালিক সর্বশান্ত হয়ে দেশ ত্যাগ করেছে।
অনেকে আত্মহত্যাও করেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এ ছাড়া এ সকল অবৈধ প্লট ব্যবসায়ীরা সরকারী ভিপি ‘ক’ তপশীলের জমি ব্যক্তি মালিকানায় দেখিয়ে খাজনা দাখিলা কেটে মানচিত্র আবাসিক প্রকল্পের মতো প্রকল্প তৈরী করে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় চক্রাখালী কালিদাশ স্মরণীর সামনে পশ্চিম পার্শ্বে দেবেন্দ্রনাথ মন্ডলের ২.৭৮ একর জমি সরকারি ভিপি ‘ক’ তপশীলের জমি প্লট আকারে বিক্রয় করছে এবং পাশেই সরকারি খাল দখল করে প্লটের রাস্তা নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লু গোল্ড উক্ত খালগুলো তাদের সমিতির মাধ্যমে কাটার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি খাস ভরাটী খালগুলোর সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে দখলবাজদের হাত থেকে উদ্ধার পূর্বক পুনঃ খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে খুলনা-১ আসনের জাতীয় সাংসদ পঞ্চানন বিশ্বাস বলেন, আমি প্রত্যেক ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের খালের তালিকা প্রস্তত করে আমার নিকট জমা দিতে বলেছি।
এ খালগুলোর পুনঃসংস্কার করা হবে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ