বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে বিবাহিত তরুণীর প্রতারণা

খুলনা অফিস: জান্নাতুন নাঈম (২১) নামের এক তরুণীর ‘জাল জন্ম সনদ’ ও ‘অবিবাহিত প্রত্যয়নপত্র’ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে সুবিধা গ্রহণ ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া প্রত্যয়নপত্রে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে (১ম বর্ষ এমবিবিএস) চট্টগ্রাম আর্মি মেডিকেল কলেজে ভর্তিও হয়েছেন ওই তরুণী। উল্লেখ্য যে, উক্ত আর্মি মেডিকেল কলেজে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই অবিবাহিত ও ২০১৬ সালের ২০ জুলাই বয়স ২০ বছর বা তার কম হওয়ার বিধান রয়েছে।
এ ঘটনায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ এর ২১ (২) ধারায় জান্নাতুন নাঈম, তার পিতা এবিএম শের জামান ও মাতা হোসনে আরা জামানকে আসামী করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-৪২, তাং-২২.০৫.২০১৭)। আসামীরা সকলে নগরীর খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা।
এদিকে চট্টগ্রাম আর্মি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নীতিমালা ভঙ্গের বিষয়টি জানার পরও রহস্যজনক কারণে তার ভর্তি বাতিল বা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আসামীরা কৌশলে তাদের ম্যানেজ করছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।
মামলার বাদী এসএম ইসলাম আলী জানান, গত ২ ফেরুয়ারি অসৎ উদ্দেশে আসামীরা নগরীর ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস থেকে স্মারক নং-বিস ২-১৭/৮৬৮ এ ‘জান্নাতুন নাঈম অবিবাহিত’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এছাড়া বয়স গোপন করে জন্ম তারিখ ১৯৯৮ সালের ১৭ মার্চ দেখিয়ে জাল সনদ তৈরি করা হয়। অথচ, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনার তিতুমীর নৌঘাঁটি ফেয়ারওয়ে অডিটোরিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জান্নাতুল নাঈমের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস থেকে আগে সংগৃহীত জন্ম সনদ ও বিয়ের কাবিননামায় তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ছিল ১৯৯৬ সালের ১৭ মার্চ।
বিষয়টি জানাজানি হলে ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হিল্টন খুলনা মহানগর হাকিমের আদালতে এফিডেভিড করে ওই প্রত্যায়নপত্র ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন এবং থানায় জিডি করেন (নং-৪৬৪ তাং-২২.০২.১৭)। পরবর্তীতে তার সুপারিশের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা ওই জন্ম সনদটি বাতিল করেন।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমীর তৈমুর ইলী জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বেআইনী সযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দ-বিধি ৪০৬/৪২০/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ