সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানে না অধিকাংশ কৃষক

খুলনা অফিস : খুলনা মেট্রোসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকই জমিতে কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে বোঝে না। সরকারিভাবে উপজেলা পর্যায়ে কীটনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকেরা। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়নমুখী প্রকল্পের উপর যখন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তখন কীটনাশক ব্যবহারের উপর সাদামাটা ধারণা দেয়া হয় তাদের। এমন মন্তব্য করেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলার একাধিক কৃষক। 
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৮৫ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কৃষি সেক্টরকে গতিশীল করতে বর্তমান সরকার এ সেক্টরকে অধিক প্রাধান্য দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উন্নত পদ্ধতিতে অধিক ফসল উৎপাদনের দিক বিবেচনা করে সরকার উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অনেক কৃষক উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদও শুরু করছে। পাশাপাশি মানবদেহের ঝুঁকি এড়াতে জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর। ফলে দিন দিন কীটনাশকের ব্যবহার কমছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।  
সূত্র দাবি করেছে, জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে খুলনা মেট্রোসহ জেলার সকল উপজেলায় মাসে একদিন সমাবেশ করে প্রচারণামূলক আলোচনা সভা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ সভার মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়া জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ না করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রত্যেকটি উপজেলায় প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস করা হচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের অভিমত ভিন্ন। তাদের মতে এ ধরনের সভা সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। ফলে কৃষক সনাতন পদ্ধতিতে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করায় অধিক ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর মাঠ পর্যায়ে এসব প্রদর্শনী হলেও এ সম্পর্কে অধিকাংশ কৃষকদের জানানো হয় না।
দিঘলিয়ার কৃষক জাহিদ মোড়ল বলেন, ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষকদের বেশি বেশি প্রশিক্ষণের দরকার। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে তেমন কোন প্রশিক্ষণই দেয়া হয় না। জমিতে কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে অধিকাংশ কৃষকই বোঝে না। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা প্রশিক্ষণ পেলে ফসলের উৎপাদন আরো বাড়বে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
বটিয়াঘাটার কৃষক নিরঞ্জন মন্ডল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে মাঝে মধ্যে কৃষকদের সমন্বয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করলেও বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত চাষিরা। রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহিম শেখ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় যখন কোন আলোচনা সভা বা প্রদর্শনী হয় এমনকি যখন কৃষিখাতে সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা আসে তখন তাদের জানানো হয় না।  
বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবায়েত আরা বলেন, যখন বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নমুখী প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তখন কীটনাশকের প্রয়োগ সম্পর্কে কৃষকদের বলা হয়। জৈব কৃষির উপর প্রতি সপ্তাহে ক্যাম্পেইন হয়।
কারণ জৈব কৃষিতে তুলনামূলক খরচ কম হয়। তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কীটনাশক কোম্পানিগুলো কৃষি বিভাগকে অবহিত না করে তারা সরাসরি কৃষকদের সাথে গিয়ে কথা বলে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ব্লক সুপারভাইজারদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া যদি বিভিন্ন ডিলারদের দোকানে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা যায়, তাহলে কৃষিতে সফলতা আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জানান, চাষাবাদের কথা বলতে গেলে প্রথমেই কৃষকদের প্রশিক্ষণের কথা বলতে হয়। এজন্য খুলনা মেট্রোসহ জেলার উপজেলাগুলোতে প্রতিমাসে সমাবেশ করে প্রচারণামূলক আলোচনা সভা করা হয়। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী স্থাপন করে কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দেয়া হয়।
কৃষক যাতে উৎপাদন বাড়াতে পারে এজন্য উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের পাশে গিয়ে বোঝাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ