শুক্রবার ৩১ মার্চ ২০২৩
Online Edition

এসডিজি অর্জনে দেশের ৪০ লক্ষাধিক ইয়াতিমের উন্নয়নে দৃষ্টি দিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ব ইয়াতিম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, জাতিসংঘে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে অবশ্যই দেশের ৪০ লক্ষাধিক ইয়াতিমের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। তারা বলেন, সামাজিক সুবিধাবঞ্চিত ইয়াতিম শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণে সামাজিক নিরাপত্তামূলক বহুমূখী কর্মসূচি গ্রহণ, আয়বর্ধনমূলক কাজে ইয়াতিম পরিবারকে সহায়তাকরণ এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের নুরুল আমিন খান মেমোরিয়াল হলে বিশ্ব ইয়াতিম দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শাবেল ফিরুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এএসএম আতীকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লালমনিরহাটের ভাদাই জিএস হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুচন্দা রায়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন রংপুরের মঞ্জুশ্রী হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহানা বেগম এবং শুকরের হাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বেলাল মিয়া। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল আলম।
উল্লেখ্য: ২০১৩ সালের ৯-১১ ডিসেম্বর ঘানায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের চল্লিশতম অধিবেশনে ১৫ রমযান সারা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে বিশ্ব ইয়াতিম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশে এদিবসটি সরকারি ভাবে পালন করা হয়না।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. এএসএম আতীকুর রহমান বলেন, ইউনিসেফের মতে বর্তমানে পৃথিবীতে ১৫ কোটি ৩০ লক্ষ ইয়াতিম শিশু রয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৫৭৬০ জন শিশু ইয়াতিম হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০০৬ অনুযায়ী  মোট জনসংখ্যার ৫.৮ শতাংশ ১৮ বছরের নিচে শিশু, যারা বাবা অথবা মা অথবা উভয়কেই হারিয়েছে। এই তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, বর্তমানে আমাদের দেশে ৪০ লক্ষাধিক শিশু ইয়াতিম।
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শাবেল ফিরুজ বলেন, ইয়াতিম শিশুদের কমিউনিটি ভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে ইয়াতিম শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করা সময়ের দাবি। তিনি আরো বলেন, এতিমদের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ধারণে একটি গবেষণা পরিচালনা এবং জাতীয় তথ্যভান্ডার চালু করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ইয়াতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ