রবিবার ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
Online Edition

কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য ৪০ হাজার টাকা!

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আল হেলাল নামে এক আ.লীগ নেতাকে হাতেনাতে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে গ্রামবাসী। কিন্তু পুলিশ স্থানীয়ভাবে শালিসী বৈঠক ডেকে কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ঘটনাটি রফাদফা করে। পরে ওই আ.লীগ নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর ঘটনাটি ঘটে গত রোববার দিনগত রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়িমুকন্দ গ্রামে। আ.লীগ নেতা আল হেলাল ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মথুরাপুর ইউনিয়নের শ্যামগাতি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
উপজেলার শাহ বন্দেগী ইউনিনের দড়িমুকুন্দ গ্রামের বকুল হোসেন, আবু বকর, জুলফিকার আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, একইগ্রামের রাজু আহমদের কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আ.লীগ নেতা আল হেলাল দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতেও আল হেলাল ওই কিশোরীর ঘরে ঢুকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে গ্রামবাসী তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হলে অস্বীকৃতি জানায় এই আ.লীগ নেতা। একপর্যায়ে থানায় সংবাদ দেয়া হলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মজিদ ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসী বৈঠক বসান। সেখানে ৪০ হাজার টাকা ওই কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করেন এবং তাৎক্ষণিক তা আদায় করে ওই আ.লীগ নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও ওই কিশোরীর পরিবারকে মাত্র ১৮হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তা পকেটে ভরে থানায় চলে যান বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা আল হেলাল উক্ত ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মজিদ জানান, মেয়ের পরিবারের কেউ অভিযোগ না দেয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসা করা হয়েছে। টাকা নেয়ার বিষয়টি ঠিক না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ