সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ঘূর্ণিঝড় মোরা: ক্ষতি হয়নি সোনাগাজীতে বাড়ি ফিরেছে উপকূলের মানুষ

ফেনী সংবাদদাতা: ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে ফেনীর সোনাগাজীর উপকূলীয় এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে উপকুলীয় সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের আশ্রয়ন কেন্দ্রে অবস্থানকারী বাসিন্দারা। তবে তাদের মাঝে এখনো আতংক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে ফেনীসহ দেশের বেশ কয়টি জেলায় ১০নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করার পর সোনাগাজীর উপকুলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে।
সেই সাথে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’র স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকুলবাসিকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে রাতে দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া, চর খোন্দকার, জেলে পাড়া, পূর্ব বড়ধলী, ধান গবেষণা, মদিনা বাজার, আদর্শ গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক নিকটস্থ  আশ্রয়ন কেন্দ্রে এসে অবস্থান করে।
সেই সাথে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেঁড়াসহ গবাদি পশুগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায় খামারিরা।
এদিকে রাতভর প্রশাসন, যুব রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যাপক তৎপরতায় নিরাপদে থাকে আশ্রয় কেন্দ্র অবস্থানকারীরা। সকাল হওয়ার সাথে সাথে অনেকে বাড়ি ফিরে যেতে চাইলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারনে যেতে পারেনি।
সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি হতে থাকে। দুপুরে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে স্থানীয় ৩ নম্বর সর্তক সংকেত ঘোষনা করার সাথে সাথে বাড়ি ফিরতে শুরু করে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকারী নারী, পুরুষ ও শিশুরা।
তারপরও তাদের মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের আতংক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন অনেক আশ্রয়প্রার্থী।
দক্ষিণ চর চান্দিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৬০) বলেন, বিগত ঘূর্ণিঝড় গুলোতে আমাদের এলাকায় কোন ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় লোকজন ঘূর্ণিঝড়ের আবাস পেলেও আশ্রয়ন কেন্দ্রে যেতে চাইনা।
সিপিপির ইউনিট লিডার সমর দাস ও নুর নবী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কথা মাইকিং করে জানিয়ে জোর করেও উপকুলের লোকদেরকে আশ্রয়ন কেন্দ্রে নেওয়া যায়না। এক কথায় তারা বলে কিছুই হবেনা।
ফেনীর যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উপ-যুব প্রধান-১ সাইফুদ্দিন রাশেদ ফেনীর সময় কে জানান, প্রতিটি দুর্যোগে আমরা সোনাগাজীর উপকূলীয় জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করে থাকি।
চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিলন বলেন, আমরা সারা রাত উপকূলবাসীর সেবায় কাজ করেছি। তিনি ঘূর্ণিঝড়ে সোনাগাজীর কোথাও ক্ষতি না হওয়ায় মহান আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক মো. মাজহারুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাব থেকে উপকূলীয় জনগণকে সহযোগিতা করতে আমাদের ১৫শ’ স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে যাওয়ায় সবসময় দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার কথা বলে স্বেচ্ছাসেবকদের কে নিরাপদে বাড়ি যেতে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে সোনাগাজী উপজেলার কোথাও কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় মাঠে নিয়োজিত প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোন ধরনের সমস্যা না থাকায় যার যার কর্মস্থলে চলে গেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ