শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আরও কিছু রানের আক্ষেপ অধিনায়ক মাশরাফির

স্পোর্টস রিপোর্টার : আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৩০৫ রান করেও ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। তবে তাতেও কাজ হয়নি। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছে বড় ব্যবধানেই। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি আর মুশফিকের হাফসেঞ্চুরির উপর ভর করে ৩০৫ রান করে টাইগাররা। জবাবে রুটের সেঞ্চুরি ও হেলস-মরগানের হাফসেঞ্চুরির উপর ভর করে ৮ উইকেটের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা। ৩০৫ রান করে হারার পর মাশরাফির আক্ষেপ আরও ২৫-৩০ রান বেশি না হওয়ায়। ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেন, ইংল্যান্ডের উইকেটে নিয়মিতই ৩৩০-৩৪০ রান হচ্ছে। আবার সেই রান তাড়া করে জিতেও যাচ্ছে। এজন্যই আমাদের ভাবনা ছিল ব্যাটসম্যান বাড়িয়ে যদি ৩২০-৩৩০ করা যায়, তাহলে একটা পার্ট টাইম বোলার ৭০-৮০ রান দিলেও একটা-দুইটা উইকেট তুলে নিলেই জিততে পারব। আমরা কিন্তু পরিকল্পনা মতোই এগোচ্ছিলাম। অন্তত ৩২০ হওয়ার কথাই ছিল। তবে তামিম ও মুশফিক এক ওভারে আউট হওয়ার পর অন্যরা পারেনি শেষ দিক আরও বেশি রান করতে।’ জয়ের জন্য তখনো ইংল্যান্ডের প্রয়োজন যখন ৮৬ বলে ১০২ রানের। মাশরাফির করা ৩৬তম ওভারের চতুর্থ বলটি উড়িয়ে মারলেন মরগান। লং অনে অনেকটা ঝাপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে লুফে নেন তামিম। ক্যাচটা ধরে তামিম নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন আউট। তবে আম্পায়ার সুন্দরম রবি সফট সিগন্যাল দেন দনট আউট। তামিমের ক্যাচ নিয়ে মাশরাফি বলেন,‘তামিম পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল যে ওটা ক্যাচ হয়েছে। কিন্তু আম্পায়াররা হয়তো আরও ভালো দেখেছে। তবে মাঠে যে ফিল্ডার থাকে, তার মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সে এখনও পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে ওটা ক্যাচ ছিল। সিদ্ধান্তটা একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে কিনা জানি না। যেহেতু ফিল্ডার বলছিল, সেক্ষেত্রে আরও ক্লোজ করে দেখলে হয়ত আরও ভালো বোঝা যেত।’ তখনও ওভার প্রতি প্রায় সাত করে রান প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। আর ওই সময় মরগান আউট হলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা টিকে থাকতো মনে করে মাশরাফি আরও বলেন, ‘ওভার প্রতি তখন সাত করে লাগত। একটি উইকেট পড়লে, তখন কিছু ডট বল হতো। হয়তো রান তখন ওভার প্রতি ৮-৯ লাগত, চাপে উইকেট পড়তে পারত। অবশ্যই আমরা ভালো বল করিনি। তবে ওই সময় মরগান আউট হলে হতে পারতো অনেক কিছুই।’ বাংলাদেশের দেওয়া ৩০৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে সহজেই জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আর ৮ জন ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নেমেও আবারও ডেথ ওভারে রান তুললে ব্যর্থ বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে রান এসেছে ৪৩। অধিনায়ক মাশরাফির আক্ষেপ আরও কিছু রানের। একই কথা মুশফিকের কণ্ঠেও। তবে বোলার একজন বেশি থাকলেও জয়ের নিশ্চয়তা থাকত না, এমনটাই দাবি মুশফিকের। এ নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমরা বড় স্কোর গড়তেই ৮ ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। হয়ত একজন বোলারের ঘাটতিও ছিল। মিরাজ ছিল না। অনিয়মিত বোলারদের দিয়ে ১০ ওভার বের করে আনতে হতো। আরেকটা বোলার থাকলে হয়ত ভালো হতো। তবে থাকলেই যে জিততাম বা সে অসাধারণ বল করত, সেটার নিশ্চয়তা নেই। আসলে ম্যাচ শেষে আসলে এসব বলা সহজ।’ উইকেটে বোলারদের কাজটা কঠিন ছিল উল্লেখ করে মুশফিক আরও বলেন, ‘বোলারদের কাজ কঠিন ছিল। মোস্তাফিজ-সাকিবের বলই গ্রিপ করেনি। আমরা শুরুতে আরও ২-১টি উইকেট নিলে ফল অন্যরকম হতে পারত। তখন এই প্রশ্ন আসতো না।’ ৪৫ তম ওভারে তামিম-মুশফিক যখন আউট হলেন, তখন বাংলাদেশের রান ২৬২। তখনো ৩৩ বল বাকি। হাতে ৬ উইকেট। তবে কাজের কাজ কিছুই হল না। সেই ডেথ ওভারে এবারও রান তুললে ব্যর্থ বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। ৮ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে আক্ষেপ করতে হচ্ছে আরও ২৫-৩০ রান বেশি না হওয়ায়। তবে তামিমের আউটের পর মুশফিক যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতেন তাহলে ২৫-৩০ রান বেশি হতে পারত। নিজের দায়টা অস্বীকার না করে মুশফিক বলেন, ‘বলটি মারার মতই ছিল। আর শট নির্বাচন ঠিকই ছিল, স্রেফ ঠিকমত খেলতে পারিনি। অবশ্যই আমার উচিত ছিল আরও টেনে নেওয়া। শেষ পর্যন্ত থাকা। পরের দিকে অন্যরাও রান করতে পারেনি সেভাবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ