শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিচার না পেয়ে অবহেলার শিকার নববধূ ফেন্সির আত্মহত্যা

ফেনী সংবাদদাতা : স্বামীর কাছে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও সমাজপতিদের কাছে ন্যায় বিচার না পেয়ে নিগৃহীত হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের চালের বাঁশের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে নববধূ মায়া আক্তার ফেন্সি (১৮)। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোধা গ্রামের জুনাব আলীর বাড়িতে। 

এলাকাবাসী জানায়, মাটিয়াগোধা গ্রামের দিনমজুর জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়া আক্তার ফেন্সির সঙ্গে একই গ্রামের আবদুল বারিকের ছেলে মো: হানিফের (২৫) প্রেমের সম্পর্ক চলার একপর্যায়ে ফেন্সি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। গত ২২ মে হানিফ ও ফেন্সি বাড়ি থেকে পালিয়ে ফেনীতে গিয়ে সকলের অমতে বিয়ে করে। বিয়ের পর ফেন্সিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হানিফ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় ফেন্সির চাচা নুর নবী ও জসিমের বাড়িতে এক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মহামায়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহজাহান মিনুর সভাপতিত্বে শালিসে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। শালিস চলাকালীন ফেন্সিকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায় স্বামী হানিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এদিকে বিয়েতে আড়াই লক্ষ টাকা দেনমোহর ধরা হলেও সালিশদার সাহজাহান মিনু ও তার সহযোগিরা অন্যায়ভাবে মাত্র ৪০হাজার টাকায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এসময় হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে নববধূ ফেন্সি সালিশদারদের বলতে থাকে ‘দয়া করে আপনারা আমার সংসার ভাংবেননা, আমার পেটে বাচ্চা আছে, জীবনের বাকি সময়টুকু আমি হানিফের সঙ্গে কাটাতে চাই।’ স্বামী এবং সমাজপতিদের কারো কানে ফেন্সির কান্না পৌঁছেনি। সালিশের কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সবাই চলে গেল। স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে শশুড় বাড়িতে পৌঁছার পূর্বেই ফেন্সির সব কিছু ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। অনাগত সন্তান ও নিজের কথা ভেবে দিশেহারা হয়ে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিল ফেন্সি। স্বামীর কাছে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি ও সমাজপতিদের কাছে ন্যায় বিচার না পেয়ে নিগৃহীত হয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৫টায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের চালের বাঁশের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে ফেন্সি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 

সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী এসআই আনোয়ার হোসেন জানান ফেন্সির গলায় ওড়নার দাগ ও কানে রক্তের দাগ রয়েছে।

এএসপি সার্কেল আবদুল মালেক বলেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা তবে এর পেছনে প্ররোচনা রয়েছে তাই আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে থানায় মামলা হচ্ছে।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী আসামীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গরীব শাহ হোসেন বাদশা চৌধুরী ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ