শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

বিভিন্ন দাবিতে খুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সভা 

খুলনা অফিস : সম্মানী বৃদ্ধিসহ ৮ দফা দাবিতে খুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের এক মতবিনিময় সভা বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের খুলনা জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় দাকোপ ও রূপসা উপজেলার চেয়ারম্যানগণ তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন।  এছাড়া সম্মানী বৃদ্ধিসহ ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাজুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী রঘুনাথ রায়, দাকোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়, পানখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের, তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনজিৎ কুমার মন্ডল, লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরজিত কুমার রায়, সুতারখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আলি ফকির, কামারখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পঞ্চানন কুমার মন্ডল, বানিশান্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায়, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাধন অধিকারী, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসহাক সরদার, প্যানেল চেয়ারম্যান মলিনা জোয়ার্দ্দার, রীনা সরদার, বিথীকা রায়, জয়ন্ত মন্ডল, জ্যোতি শংকর রায়, উৎপল দাস, সুরঞ্জন কয়াল, সিরাজ মল্লিক, হেলালউদ্দিন সানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় চেয়ারম্যানগণ অবিলম্বে তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

তিন জনের যাবজ্জীবন

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঢ্যামশাখালি গ্রামের স্ত্রী রহিমা খাতুনকে হত্যা মামলায় স্বামী ও তার দুই চাচাসহ তিন জনের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদ-, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৮ মাসের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে। বুধবার খুলনার জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আসামীরা হলেন- নিহত রহিমার স্বামী পাইকগাছা উপজেলার ঢ্যামশাখালি গ্রামের সহিল উদ্দিন গাইনের ছেলে আলাউদ্দিন গাইন (২৬) ও তার চাচা শুকুর গাইন ও জবেদ আলী গাইন (৫০)। রায় ঘোষণাকালে দ-প্রাপ্ত আসামীরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

নথির বরাত দিয়ে বেঞ্চ সহকারী ছায়েদুল হক শাহিন বলেন, ২০০৪ সালে পাইকগাছা উপজেলার ঢ্যামশাখালি গ্রামের আব্দুর রহিম গাইনের মেঝ মেয়ে রহিমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় একই গ্রামের সহিল উদ্দিন গাইনের ছেলে আলাউদ্দিন গাইনের। বিয়ের পর আলাউদ্দিনের দুই চাচা শুকুর গাইন ও জবেদ আলী গাইনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ বাধে রহিম গাইনের। এ ঘটনার জেরে ২০১০ সালের ৩০ মার্চ রাতে আলাউদ্দিন, শুকুর গাইন ও জবেদ আলী গাইনসহ পরিবারের অন্যান্যরা মিলে রহিমাকে হত্যা করে নিজের পুকুরে ডুবিয়ে রাখে। পরের দিন সকালে আলাউদ্দিনের মা রহিম গাইনকে খবর দেয় যে, রহিমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে রহিমার পিতা রহিম গাইন আলাউদ্দিনের পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় রহিমার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রহিম গাইন বাদি হয়ে রহিমার স্বামী আলাউদ্দিন, পিতা সহিল উদ্দিন, মা আয়েশা বেগম, দুই ভাই হামিদ গাইন ও এবাদুল গাইন, দুই চাচা শুকুর গাইন ও জবেদ আলী গাইনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক হুমায়ুন কবির তদন্ত শেষে আলাউদ্দিন গাইন ও তার চাচা শুকুর গাইন ও জবেদ আলী গাইনের  বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট (চার্জশীট) দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালতে এ তিন জনকেই যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেয়া হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বিশেষ পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন। আসামীদের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট সেলিনা আখতার।

ট্রাক চালক নিহত ও দু’জন আহত

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ট্যাংক লরী মোড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. বাবু (২৫)। তিনি পেশায় ট্রাক চালক। আহত দুই জন হলো-রাশেদ (২২) ও রাজু (২৭)। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

খালিশপুর থানার ওসি আমির তৈমুর ইলী জানান, গত মঙ্গলবারের ঝড়ে ভেঙে নুয়ে হয়ে পড়ে আমিন গ্যাস কোম্পানির একটি সাইনবোর্ড। এতে বোর্ডের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। ওই দোকানের মালিক মো. নূরুর অনুমতি নিয়ে তার বোর্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বুধবার সন্ধ্যায় ট্যাংক লরী সমিতির ভবনের ছাদে ওঠে বাবু ও রাশেদ নামের দু’যুবক। এ সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। তারা বোর্ডটি বৈদ্যুতিক তার সংযোগ দেয়ার সময় নিজেরাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাদের চিৎকারে ছুটে যায় রাজু নামের আরেক যুবক। তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে অন্যরা ছুটে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ট্রাক চালক মো. বাবু। সে কাশিপুর এলাকার মৃত কওসার আলীর ছেলে।

পদ্মা মেঘনা যমুনা ট্যাংক লরী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ কালু বলেন, এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে খালিশপুর থানা পুলিশের একটি টিম। তিনি বলেন, বাবু ও রাশেদ কেন সমিতি ভবনের ছাদে গিয়েছিল তা এখনও জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ