শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

খুলনা রেলস্টেশনে প্লাটফর্মের  ফাটা ছাদে চলছে জোড়া-পট্টি

খুলনা অফিস : খুলনায় নির্মাণাধীন আধুনিক রেলস্টেশনের প্লাটফর্মের ছাদে ফাটলের কারণে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিন মাস বন্ধ থাকার পর এবার পরিবর্তিত নকশা অনুযায়ী চলছে জোড়া-পট্টি। প্লাটফর্মের ছাদের দুই ভীম এর মাঝে ড্রিল মেশিন দিয়ে ভেঙ্গে নতুন আরেকটি ভীম তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাদের দু’পাশে লম্বাভাবে ভীম এবং ছাদের ওপর ফের রড সাজিয়ে ঢালাই দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন রেল স্টেশনের ২নং প্লাটফর্মের ছাদে দু’জন শ্রমিক ড্রিল মেশিন দিয়ে ভাঙ্গার কাজ করছেন। এছাড়া অন্যান্য শ্রমিকরাও ভাঙ্গার কাজে সহায়তা করছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে জুন মাসে প্লাটফর্মের ছাদের নকশা অনুযায়ী ঢালাই দেয়া হয়। পরবর্তীতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশার পরিবর্তন করে ওই বছরের ১০ নবেম্বর প্লাটফর্মের নকশা প্রেরণ করে। সেই নকশা অনুযায়ী ২নং প্লাটফর্মের ৩শ’ ফিট এবং ৩নং প্লাটফর্মের ২শ’ ফিট ছাদের ঢালাই দেয়া হয়। তাতেও জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি ২নং প্লাটফর্মের ১৭৫ ফিট এবং ৩নং প্লাটফর্মের ৪৫০ ফিট ছাদ ঢালাই দেয়া হয়। এসব স্থানেও ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে রেলের উদ্যোগে গত ২৩ মার্চ বুয়েটের প্রফেসর ড. মো. শফিউল বারী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন সময়ে ঢালাইকৃত ছাদের নকশা যাচাই করে ‘ডিজাইন ফল্ট’-এর কারণে ফাটল ধরেছে বলে মতামত দেয়। পুনরায় নতুন নকশা প্রদান করে। যা সর্বশেষ গত ৯ মে অনুমোদন দেয়া হয়।

এদিকে গত ১৬ মে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এমপি ফাটলের কারণে অনুসন্ধান এবং করণীয় বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেন। সর্বশেষ গত ১৮ মে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন প্রকল্পের ফাটলের স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ফাটলের ঘটনায় অনিয়ম থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান। তবে সেই কমিটি গঠন হয়েছে কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কেউই সঠিকভাবে বলতে পারেনি। তবে সেই কমিটি খুলনায় আসার আগে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী জোড়া-পট্টি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভুল নকশার কারণে এমন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।

প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের সহকারী প্রকৌশলী মোসাব্বির হক বিপ্লব বলেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেয়া নকশা অনুযায়ী রেলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঢালাই দেয়া হয়েছে। নকশা জটিলতার কারণে গত তিন মাস কাজ বন্ধ থাকার পর বুয়েট এর একটি টিম এসে নতুন নকশা দেয় এবং তা অনুমোদন পাওয়ার পর গত ২৭ মে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এমপি’র নিকট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী বিরবল মন্ডল বলেন, ২নং প্লাটফর্মের ৮শ’ ফিট ছাদ এবং ৩নং প্লাটফর্মের ৬শ’ ফিট ছাদের ঢালাই করা হয়েছে। ফাটল ধরার পর গত এপ্রিল মাসে রেলওয়ের একটি টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী বুয়েট’র টিমের দেয়া নকশা গত ৯ মে রেলওয়ে থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ শুরু হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে নয়, দুই ভীমের মাঝে চওড়াভাবে একটি ভীম এবং ছাদের দু’পাশে লম্বা দু’টি ভীম দেয়া হচ্ছে। আর ছাদের ওপর আরও এক সারি রড সাজিয়ে আবারও ঢালাই দেয়া হবে। এতে ছাদের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি পাবে। ফলে নতুন করে ভাঙ্গার কোন প্রশ্ন আসে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক প্রকৌশলী বলেন, প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মডার্ণ ইঞ্জিনিয়ার্স প্লানার্স এন্ড কনসালটেন্ট লিমিটেড-এর দেয়া ভুল নকশার কারণে প্লাটফর্মের ফাটল ধরেছে। যে কারণে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে রেল সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ জটিলতার কারণে ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ