শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

তামিমের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে ৩০৬ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শুরুটা ভালোই করেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে ৩০৬ রানের বিশাল টার্গেট দিয়েছে টাইগাররা। গতকাল ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে করে ৩০৫ রান। রানটা আরো বড় হতে পারতো। যদি ইমরুল, সাকিব আর সাব্বির ভালো রান করতে পারতো। তার পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩০৫ রানের স্কোরটাই সর্বোচ্চ। আর এই রান পেতে ব্যাট হাতে ভিতটা গড়ে দেন ওপেনার তামিম ইকবাল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই তামিম সেঞ্চুরি তুলে নিজেকেও প্রমাণ করেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপের ঠিক আগে তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এ পর্যন্ত তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেললেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আগে কখনও খেলার সুযোগ হয় নি। গতকাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেই সেঞ্চুরি করেন তামিম। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এটা কোনও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আগের শতক ছিল শাহরিয়ার নাফীসের, ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৩। গতকাল ওভালে টস জিতে ইংল্যান্ড আগে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রন জানায় বাংলাদেশকে। আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে সুযোগটা ভালোই কাজে লাগায় টাইগাররা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে করে ৩০৫ রান। ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই সাবধানে খেলছিলেন দু-ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ওভারে কোন রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ। আর ৭ ওভারে ২০ রান তোলার পর দু-ওপেনার দ্রুত রান নেয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দলীয় ৫৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বেন স্টোকসের বলে বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় সৌম্যকে। ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ২৮ রান করেন সৌম্য। অবশ্য ১১ রানে মঈন আলীর হাতে একবার জীবন পেয়েছিলেন এ ওপেনার। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। দলীয় ৯৫ রানে ফিরতে হয় তাকে। প্লাঙ্কেটের বলে অসাধারণ এক ক্যাচ ইমরুলকে থামান উড। সাজঘরে ফেরার আগে ইমরুল করেন ১৯ রান। দলীয় ৯৫ রানে বাংলাদেশ প্রথম দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটতে তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম জুটি গড়ে দলকে বিশাল স্কোরের দিকে নিয়ে যান। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌছে যায় ২৬১ রানে। তামিমের বিদায়ে ভাংগে এই সফল জুটি। আউট হওয়ার আগে তামিম সেঞ্চুরিসহ করেন ১২৮ রানে। এই জুটিতেই আসে সর্বোচ্চ ১৬৬ রান। প্লাঙ্কেটের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে বাটলারের হাতে তালুবন্দি হন বাঁহাতি ওপেনার তামিম। এর আগে ১২৪ বলে সিঙ্গেল নিয়ে হাঁকান তার নবম সেঞ্চুরি। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তার ১৪২ বলের ইংনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৩টি ছয়। তামিম ১২৮ রানে বিদায় নেওয়ার পর বেশি সময় পারেননি মুশফিকও। পরের বলেই প্লাঙ্কেটের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৭৯ রানে ব্যাট করতে থাকা মুশিফক। ৭২ বলের ইংনিংসে ছিল ৮টি চার। এর আগে মুশফিকুর রহিম ৪৮ বলে করেছেন ২৫তম হাফসেঞ্চুরি। তামিম-মুশফিক জুটি আউট হওয়ার পর শেষ দিকে আর সেভাবে রান তুলতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। পরের ওভারে সাকিব ১০ রানে বলের ডেলিভারিতে ও সাব্বির রহমান ২৪ রানে প্লাঙ্কেটের বলে বিদায় নেন। এরপর শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদউল্লাহ রিযাদ ৬ ও মোসাদ্দেকের ২ রানে অপরাজিত থাকলে ৩০৫ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ইংল্যান্ডের পক্ষে ১০ ওভারে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। একটি করে নেন জেক বল ও বেন স্টোকস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ