শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

জলবায়ু চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

১ জুন, ইন্টারনেট : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বিশ্বের পরিবেশবাদীসহ বৈশ্বিক নেতাদের আস্থা ও সম্মান পেয়েছিলেন, সেই প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর নতুন করে হতাশা তৈরি হয়েছে। ২০১৫ সালে করা প্যারিস চুক্তি (টঘঋঈঈ চধৎরং অমৎববসবহঃ) আগামী বছর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত আগেরই ছিল। এর মধ্যে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে যাওয়ার ঘোষণা পুরো চুক্তি নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। পরিবেশ রক্ষায় ১৯৯৭ সালে করা কিয়োটো প্রটোকল থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়র এভাবেই নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ায় ওই চুক্তিটিরও মৃত্যু হয়। এরপর দীর্ঘ এক যুগের চেষ্টায় অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসে হয় নতুন জলবায়ু চুক্তি। ওই চুক্তিতে সমর্থন দেয় ১৯৫টি দেশ। এছাড়া এখন পর্যন্ত ১৯১টি দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে। গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে এই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয় কার্বন। ৬০ শতাংশ কার্বন নিঃসরনকারী দেশগুলোর ৮৪টি এরইমধ্যে তাদের নিজ নিজ দেশের সংসদে এই চুক্তির অনুসমর্থনও করেছে। সে হিসেবে চুক্তিটি এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী নভেম্বরে জার্মানিতে হতে যাওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (ঈঙচ-২৩) এর রূপরেখা ঘোষণা হওয়ার কথা। এর আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ অবস্থান অনেকটাই হতাশায় ডুবিয়ে দিল বিশ্ববাসীকে।

ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের কথায়ও উঠে এসেছে হতাশার চিত্র। রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে মেরকেল বলেন, ‘যদি খুব অসন্তুষ্টির কথা না-ও বলি, এটা বলতে হবে যে জলবায়ু বিষয়ে আলোচনা খুব কঠিন হয়ে উঠেছে।’

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক দপ্তরের প্রধান প্যাট্রিসিয়া এসপিনোসা বলেন, ‘আমাদের নিজেদের স্বার্থেই প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এর সুফল পাবে সবাই। আর চুক্তিটির বিষয়ে সবারই সম্মতি আছে। এমনকি তেল কোম্পানিগুলোরও।’

গত বুধবার ট্রাম্পের করা মন্তব্যের পর গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-সেভেনভুক্ত দেশ চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আরো পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই এ ব্যাপারে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে প্যারিস চুক্তি কার্যকর করার জন্য ‘সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সদিচ্ছার’ ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে মতৈক্য না হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, চীন ও ইইউ এই ইস্যুতে এখন নেতৃত্বের জন্য তৈরি হচ্ছে। আর এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছুটা চাপ বাড়বে।

তবে যত যাই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা ছাড়া প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন অসম্ভব বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু অবস্থা দেখে এমন মনে হচ্ছে, অনড় ট্রাম্পকে বোঝানো প্রায় অসম্ভব। তবুও প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্পের দিকেই তাকিয়ে বিশ্ব। দেখা যাক, ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে এই চুক্তি নিয়ে চূড়ান্তভাবে কি অবস্থানের ঘোষণা দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ