বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

রফিকুল ইসলাম মিঞা : আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের পর্দা উঠছে আজ। আর বিশ্বকাপের পর এই মর্যাদাকর টুর্নামে›টের উদ্ধোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় ম্যাচটি শুরু হবে। ১১ বছর পর বাংলাদেশ আবারও খেলছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। এবার বাংলাদেশ আছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজল্যান্ড। আজ প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তিন বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত টাইগারদের। বাংলাদেশ গ্রুপে ফেবারিট না হলেও চমকে দেয়ার প্রত্যায় নিয়ে মাঠে নামছে। এই আসরে তারা চমকে দিতে পারবে এমনটাই বিশ্বাস করে টাইগাররা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে কয়েক বছর ধরেই সাফল্যে পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথম জানান দেয় তাদের আগমনের। মাঝে কেটে গেছে কয়েকটি সফল সিরিজ। যার অংশ হিসেবে র‌্যাংকিংয়ের আটের মধ্যে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে টপকে ১১ বছর পর জায়গা করে নেয় তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। বিশ্বকাপের পর তাই এই প্রথম বড় কোনও টুর্নামেন্টে নামতে যাচ্ছে টাইগাররা। ২০০৬ সালের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আগের সেই বাংলাদেশের সঙ্গে এই বাংলাদেশের যে বিস্তর তফাৎ সেটা ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়েই প্রমাণিত। যে কারণে মাশরাফির দল অনেক সমীহ আদায় করছে টুর্নামেন্টের বাকি সাত দলের কাছ থেকে। ফলে আজ প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ভালো করার টার্গেট নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দ্বিতীয়বারের মত মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৯ বার একে অপরের বিপক্ষে লড়েছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। এরমধ্যে ইংলিশদের জয় ছিলো ১৫টি ম্যাচে, বাংলাদেশে জিতেছে ৪ ম্যাচে। তবে আইসিসি নকআউট বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। ২০০০ সালের দ্বিতীয় আসরে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ঐ ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছিলো ইংল্যান্ড। তবে আজ শুরুটা ভালো করতেই মাঠে নামবে টাইগাররা। টাইগারদের পারফরমেন্সের গ্রাফটা এখন ঊর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে রানার্স-আপ হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের বড় সাফল্যে ছিলো টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হারানো। এই জয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিং-এ সাত নম্বর থেকে ষষ্ঠস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের ভালো করার সামর্থ্য থাকলেও কন্ডিশন সবথেকে বড় বাঁধা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। কারণ ২০১০ সালের পর এ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের। তামিম-সাকিব কাউন্টি ক্রিকেট খেললেও তা দীর্ঘদিন আগের কথা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলা ৮ ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৬ সালে। ১১ বছর পর একই মঞ্চে বাংলাদেশ বড় কোনো দলকে হারাবে পারবে এমনটাই বিশ্বাস টাইগারদের।

 চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে দু’টি অনুশীলন ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪১ রান করেও ২ উইকেটে ম্যাচ হারে টাইগাররা। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের দেয়া ৩২৫ রানের টার্গেটে ৮৪ রানেই নিজেদের গুটিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে দু’টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচেই হার আত্মবিশ্বাসের জন্য একটু সমস্যা হতে পারে। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে দু’টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচেও যে হেরেছিলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের কাছে ৩ উইকেটে ও আয়ারল্যান্ডের ৪ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিলো মাশরাফির দল। অসাধারন পারফরমেন্স দেখিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে ইংল্যান্ডের মত দলকে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট পেয়েছিল টাইগাররা। তাই অতীতের স্মৃতিতে রোমাঞ্চিত হয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও অসাধারণ কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এজন্য ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং এই তিনবিভাগেই জ্বলে উঠতে হবে বাংলাদেশকে। তাই ব্যাটিং-এ তামিম ইকবাল, বোলিং-এ মোস্তাফিজুর রহমান ও অলরাউন্ড ক্যাটাগরিতে সাকিব আল হাসানের দিকে চেয়ে থাকবে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুটা দুর্দান্ত করতে চান বাংলাদেশ কোচ হাথুরুসিংহে, ‘আসলে অতীতে আপনি যাই করুন না কেন, আপনাকে তা আত্মবিশ্বাসই যোগাবে। তবে আপনাকে শুরুটা কিন্তু ভালো করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর যাই করি না কেন, আমাদের শুরুটা ভালো করতে হবে। আর এটাইকেই আমরা লক্ষ্য করেছি।’ প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যেমন আত্মবিশ্বাসী, ঠিক তেমনি ফুরফুরা মেজাজেই রয়েছে গত আসরের রানার্স-আপ ইংল্যান্ডও। চলতি সপ্তাহেই দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিলো ইংলিশরা। তাই আত্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে এগিয়ে থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইয়োইন মরগানের দল। পাশাপাশি নিজেদের চেনা কন্ডিশনের সুবিধা তো থাকছেই ইংল্যান্ডের সামনে। ফলে প্রথম ম্যাচে চমৎকার শুরুর প্রত্যাশায় ইংল্যান্ড দলপতি ইয়োইন মরগান বলেন, ‘ভালো শুরুর জন্যই মাঠে নামবো আমরা। দল হিসেবে শক্ত প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। যে দল ভালো খেলবে তারাই জিতবে।’ 

বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, ইমরুল কায়েস, শফিউল ইসলাম, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, ও সানজামুল ইসলাম।

ইংল্যান্ড দল : ইয়োইন মরগান (অধিনায়ক), মইন আলী, জনি বেয়ারস্টো, জ্যাক বল, স্যাম বিলিংস, জস বাটলার, এ্যালেক্স হেলস, লিয়াম প্লানকেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, ডেভিড উইলি, ক্রিস ওকস, মার্ক উড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ