বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

জ্বালানি খাতে দুর্নীতির ঘাটতি মেটাতে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে

গতকাল বুধবার মহাখালীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে কাপড় বিতরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানি খাতে দুর্নীতির ঘাটতি মেটাতে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সর্বশেষ যখন গ্যাসের মূল্য যখন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল তখন আমরা নিন্দা জানিয়েছিলাম। হাইকোর্টের নির্দেশে এটি স্থগিত ছিল। এখন আবার সুপ্রিম কোর্ট সেটা চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ের ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। আয়ের ওপর চাপ পড়বে। প্রকৃত আয় দিনে দিনে কমে যাবে। এ থেকে প্রমাণ হয় সরকারের অর্থনেতিক অগ্রগতির স্লোগান সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। গতকাল বুধবার দুপুরে উত্তরা রবীন্দ্র স্বরণির বটতলা মোড়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিরতণের সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফাঁপা আওয়াজের নামে সরকার বরাবরের মতো বড় বাজেট দিচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাজেটের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির যে হার বলেছে, সেই হারের সঙ্গে সরকারের প্রবৃদ্ধির হারের কোনো মিল নেই, অনেক কম। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংক বলছে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬.৭। আর সরকার বলছে এটা ৭ এর উপরে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী অর্থ বছরের জন্য যে বাজেট দেয়া হবে তার আকার অনেক বড় হবে। বরাবরই তারা বড় বাজেট দিচ্ছে। এর একমাত্র কারণ হলো তারা একটা ফাঁপা আওয়াজ তৈরি করতে চায়। গত বাজেটের ৫৫ শতাংশ এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এখন আবার বাজেট দেয়ার অর্থ হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কিন্তু মানুষকে বোকা বানিয়ে বলবে, দেখ আমরা কত বড় বাজেট দিয়েছি। আমাদের অর্থনীতি কত বড় হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের জেলে পুড়ে, মামলায় ব্যস্ত রেখে সরকার নির্বাচনে ফায়দা নিতে চায়। কিন্তু দেশের জনগণ এবার সেটি হতে দিবেনা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যেখানে যনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এদেশে আর হতে দেয়া হবেনা। 

নিন্দা ও প্রতিবাদ: নাশকতার একটি সাজানো মামলায় যশোরে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ বিএনপি’র ৪৩ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশব্যাপী বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দায়ের, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চার্জশিট প্রদান, গ্রেফতার, কারান্তরীণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত কোনক্রমেই ফলপ্রসু হবেনা। গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু মুছে দিয়ে দেশে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করতেই দেশব্যাপী চলমান অপশাসনের অংশ হিসেবেই বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও দেশের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামসহ বিএনপি’র ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার মিথ্যা মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে, চার্জশিটভুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা সন্দেহাতীতভাবে সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ বিএনপি’র ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক চার্জশিট প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নামে দায়েরকৃত নাশকতার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ