বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মওদুদ আহমদের বাড়ির রিভিউর রায় ৪ জুন

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশানের বাড়ির মালিকানা বাতিলের বিরুদ্ধে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনের রায় আগামী ৪ জুন দেবেন আপিল বিভাগ। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, কামরুল হক সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

পরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আদালত আদেশের জন্য ৪ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন।

গত বছর ২ আগস্ট মওদুদ আহমেদর ভাই মনজুর আহমদের নামে ওই বাড়ির নামজারির নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউকের আপিল গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ। গত ৩০ আগস্ট এই মামলার ৮০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মওদুদ আহমদ রিভিউ করেন।

রায় প্রকাশের পর মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, সাত বছর পর প্রতিহিংসাবশত সরকার আপিল করেছে। ১৯৮১ সাল থেকে আমরা এ বাড়িতে থাকি। এটা ক্রয় করা বাড়ি। সরকারের বাড়ি নয়।

রাজউকের পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, মওদুদ আহমদের ভাইকে উচ্ছেদের জন্য সরকার মামলা করেনি। মওদুদ আহমদের ভাই নিজেই মামলা করেছেন। কাজেই এখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্য নেই। নিম্ন আদালতে তারা হেরে গিয়ে উচ্চ আদালতে এসেছেন। সেখানে মওদুদ আহমদরা জিতেছেন।

২০১০ সালের ১২ আগস্ট ওই বাড়ি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার জন্য হাইকোর্ট রায় দেন। রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আপিল বিভাগ রাজউককে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর চলতি বছর এ মামলার শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাড়িটি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে তাদের আবেদন গত বছরের ২৩ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন মওদুদ আহমদ। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রীয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। এর পর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ আহমদ তাঁর যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাই মনজুর আহমদের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন বলে মামলায় অভিযোগ করে দুদক।

নাইকো মামলা স্থগিত: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা নাইকো মামলা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মওদুদ আহমদের আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তার বিরুদ্ধে নাইকো মামলার কার্যক্রম আপতত চলবে না।

পরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের এই আদেশের ফলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে নাইকো মামলার পুরো কার্যক্রমই তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়ে গেল। তাই বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যদের মামলাও এই সময়ে স্থগিত থাকবে। তবে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, শুধু মওদুদ আহমদের ক্ষেত্রে নাইকো মামলা ৩ মাস স্থগিত থাকবে।

নাইকোর সঙ্গে পেট্রো বাংলা ও বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা আন্তর্জাতিক সালিশী আদালতে নিষ্পত্তির অপক্ষোয় থাকায় আদালত এই আদেশ দেন। সালিশি আদালতের সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গত ১২ এপ্রিল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মওদুদ আহমদের মামলার স্থগিতাদেশের বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এর ফলে এই মামলার বিচারিক আদালতে চলতে বাধা কেটেছে বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন মওদুদ আহমদ।

গত ১৩ এপ্রিল চেম্বার জজ আদালত রায় স্থগিত করে ৭ মে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এরপর মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন আপিল বিভাগ।

কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। যেখানে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ