বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় চাল আমদানি করা হচ্ছে -প্রধানমন্ত্রী

 

সংসদ রিপোর্টার : দেশে যাতে খাদ্য ঘাটতি দেখা না দেয় সেজন্য বিদেশ থেকে চাল কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে চাল আমদানির নির্দেশ দিয়েছি। চাল কেনার জন্য ইতোমধ্যে খাদ্যমন্ত্রী ভিয়েতনামে গেছেন। অন্য যেখানেই পাওয়া যায় সেখান থেকে অতিরিক্ত চাল কিনবো। একইসঙ্গে ধান উৎপাদনের ব্যবস্থা নেবো।’

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এমপি মাহবুব-উল-আলম হানিফের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের অভাব হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসও হবে। কিন্তু ওই সময় আমাদের প্রথম কর্তব্য মানুষের জীবন রক্ষা করা। আমরা সতর্ক আছি। যখনই ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাই, তখনই কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং সেগুলো মোকাবিলায় কার কী করণীয় তা নির্ধারণ করে মানুষের পাশে ছুটে যাই। সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করি বলেই দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সক্ষম হই।

ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাগরে ভাটা থাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। তবে প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সরকার ও সচেতন প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ভিয়েনা সফরে থাকতেই ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর দুইটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ তৎপরতাসহ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়াজনে সেগুলোকেও ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। দলের পক্ষে একাধিক টিমও গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আজ-কালের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবে। কেমন ক্ষতি হয়েছে, পুনর্বাসনে কী কী করণীয় সেগুলোও তারা (আওয়ামী লীগ) নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে।

তিনি জানান, সরকার, প্রশাসন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। খাদ্য ও নগদ সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর, বাওর ও বিলের উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যেই হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছে। এই কার্যক্রমগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন দরকার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢিমেতালে চললে চলবে না। এই কাজগুলো গতিশীল করতে হবে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, বেসরকারি খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উৎসাহ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের পর দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ১১ হাজার ৩৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ৬ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এছাড়াও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ