বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নির্বাচনের জন্য রুট থাকতে হবে তারপর রোডম্যাপ

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন শেষে মিডিয়ার সাথে ব্রিফিং করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে নির্বাচনের নূন্যতম কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করলেও দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য রুট থাকতে হবে, তারপর রোডম্যাপ, কিন্তু সেই রুট নেই। এখনো বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ নেই। স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ নেই। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব অভিযোগ করেন ।

তিনি বলেন, “নর্বাচনের জন্য রোড থাকতে হবে, তারপরে না রোডম্যাপ। আমাদের কাছে রোডই নেই অর্থাৎ নির্বাচনের মতো পরিবেশ সৃষ্ট হয়নি এখন পর্যন্ত। তিনি বলেন, এখানে বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ নেই, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড করার সুযোগ নেই, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরকে বিশেষ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়েছে, কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই একটা অসম পরিবেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৪ মে আগামী দেড় বছরের কাজের খসড়া সূচি (রোডম্যাপ) ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে ভোট শেষ করতে এ বছরের জুলাই থেকে আগামী বছর ভোটের তফসিলের আগ পর্যন্ত সময়ের করণীয় ঠিক করা হয়েছে ওই রোডম্যাপে।

রোডম্যাপ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, যেকোনো রোডম্যাপই আসুক না কেন- তার প্রথম শর্ত হচ্ছে যে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, সকল দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং সেই মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। তারপরই রোডম্যাপ নিয়ে কথা বলাটা সঙ্গত বলে আমরা মনে করি। সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনেন তিনি।

ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের যে ন্যূনতম বিষয়টা রয়েছে, গণতান্ত্রিক দলগুলোকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সেই কাজেরই তো সুযোগ নেই এখানে। এখানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা একটা ভিন্ন মোড়কে স্থাপিত হয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ওই নির্বাচন করা দলটির মহাসচিব।

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ থেকে যখন গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে, মানুষের অধিকারকে হরণ করা হয়েছে, তখন জিয়াউর রহমানকে আমরা বার বার মনে করছি। তার আর্দশকে অনুসরণ করে আমরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।

ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের কথা বলেছি। যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়। এ বিষয়গুলো ঠিক করতে পারলে নির্বাচনের একটি সড়ক বা রোড তৈরি করা হবে। সরকার ও নির্বাচন কিমশন এখনো সেটি করতে পারেনি। সুতরাং রোডই যেখানে তৈরি হয়নি সেখানে ম্যাপ কিসের? বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেবে না, মেনে নেবে না। অবশ্য সবাইকে সমান সুযোগের মধ্য দিয়ে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ