বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রেইনট্রির ম্যানেজার ফ্র্যাংকের কাগজপত্র তলব আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ

 

স্টাফ রিপোর্টার : বনানীর রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) রয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, তারা রেইনট্রি হোটেলের ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশে থাকার এবং কাজের অনুমতিপত্র রয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে সেসব কাগজপত্র জমা দিতে তাকে এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও সেই সময় শেষ হয়নি।’ তবে কবে নাগাদ তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছে সেটা জানাতে চাননি তিনি।

ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. মইনুল খান বলেন, ‘এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।’

ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশে থাকার ও কাজের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘এ বিষয়টি মামলার তদন্তের কোনও অংশ নয়। এসব বিষয়ে অন্য যেসব সংস্থার প্রয়োজন তারাই খোঁজ নেবে।’ ফরগেটের বাংলাদেশ ছাড়ার ওপরও পুলিশের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানান তিনি।

দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় শুরু থেকেই রহস্যজনক আচরণ করে রেইনট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষ। শুরুর দিকে কথা বলতে না চাইলেও পরে প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন হোটেলের ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেট। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমকেও তিনি বিভ্রান্ত্রিমূলক তথ্য দেন। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর সেখানে অভিযান চালানোর পর উদ্ধার করা মদ নিয়ে একেক সময় একেক তথ্য দেন তিনি।

গত ২৩ মে রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা রেইনট্রি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে, আপনারা বলেছিলেন ‘হোটেলে মদ বিক্রি হয় না।’ তাহলে এগুলো কোথা থেকে এলো। এর জবাবে রেইনট্রির ব্যবস্থাপনরা পরিচালক আদনান হারুন জানান, ‘এ বিষয়টি আমরা জানতাম না। এটা আমাদের হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেট ও আরেক ম্যানেজার এমদাদুল জানেন।’ এরপর আমরা এই দুই ম্যানেজারকে এ বিষয়ে জবাব দেয়ার জন্য তলব করেছি।’

আপন জুয়েলার্সকে আর সময় দেবে না শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ

আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শো রুম থেকে জব্দ করা সোনার হিসাব ঠিকমতো দিতে না পারায় নতুন করে সময় দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে জব্দ করা সোনার বিপরীতে হিসাব দেয়ার জন্য আরও সময় চাইলে শুল্ক গোয়েন্দারা সময় না বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দেন। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ সাফিউর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার ১২৫ কেজি সোনার হিসাব দেয়া হয়েছে। তবে এগুলো জব্দ করা সোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার সোনার যে হিসাব তারা দিয়েছেন, এগুলো লাগেজ সুবিধায় দেশের বাইরে থেকে আনা। তারা এসব সোনার বার খুচরা আকারে কিনেছেন। কিন্তু সোনা কেনার কাগজপত্র এবং পারচেজ রেজিস্টারের সঙ্গে গরমিল রয়েছে।’

শুল্ক গোয়েন্দা আইন উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও মালামাল জব্দের পর সেটার প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দুমাসের সময়সীমার নিয়ম রয়েছে। ফলে তাদেরকে আর সময় দেয়ার সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ ১২৫ কেজি সোনার হিসাব দিয়েছে। বাকি সোনার হিসাব দেয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছে। তবে সময় দেয়া হবে কিনা, তা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা দফতর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আপন জুয়েলার্সের পক্ষে আসা আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সাইফুল সিরাজ বলেন, ‘আমাদেরকে জব্দ করা মালামালের বৈধ হিসাব দেয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। আমরা পাঁচটি ইউনিটের বিভিন্ন উৎস থেকে জব্দ করা মালামালের কিছু হিসাব দিয়েছি। বাকি মালামালের হিসাব দেয়ার জন্য আমাদের আরও সময় প্রয়োজন। আমরা শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের কাছে সময় চেয়েছি।’

এর আগে দিলদার আহম্মেদসহ আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। অন্যরা হলেন- গুলজার আহম্মেদ ও আজাদ আহম্মেদ। এ সময় তাদের আইনজীবী আখতার ফরহাদ জামান ও ব্যারিস্টার মো. তাইফুল সিরাজ উপস্থিত ছিলেন।গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাবাদ শুরু হয়। গতকাল তাদের জব্দ করা স্বর্ণের হিসেব দিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, চোরাচালানের মাধ্যমে আপন জুয়েলার্স এসব স্বর্ণ সংগ্রহ করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে গতকাল আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষকে হাজির হতে বলা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসার আগে গুলজার আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব হিসেব দিতে সময় প্রয়োজন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে আরও সময় চাইবো।’

গত ১৪ ও ১৫ মে আপন জুয়েলার্সের গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কোয়ারের শাখায় অভিযান চালিয়ে ১৩.৫ মণ স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ রাখার দায়ে সাময়িক আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা। এগুলো আইন অনুসারে সিলগালা করে তাদের হেফাজতে দেয়া হয়। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা আটকের ঘটনায় আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষকে তলব করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। সে হিসেবে গত ১৭ মে দিলদার আহমেদ ও তার অন্য দুই ভাইকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাদ করে শুল্ক গোয়েন্দা। তবে সেদিন তারা এসব স্বর্ণের কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে শুল্ক গোয়েন্দা আবারও তাদের তলব করলে গতকাল মঙ্গলবার তারা হাজির হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ