বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভারতে গোহত্যা নিষিদ্ধ করায় কেন্দ্রের বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গসহ ৬ রাজ্য

৩০ মে, বিবিসি, জিও নিউজ উর্দু, পার্সটুডে : জবাইয়ের জন্য গরু-মহিষ বিক্রি নিষিদ্ধে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে দেশটির ছয়টি রাজ্য সরকার।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব দক্ষিণের রাজ্য কেরালার পর এবার আওয়াজ তুলেছেন পূর্বাঞ্চলের রাজ্য পশ্চিম বঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মততা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারা কেন্দ্রীয় সরকারের এই ‘খামখেয়ালী’ সিদ্ধান্ত মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক’ বলে বর্ণনা করে মমতা বলেন, এর বিরুদ্ধে পশ্চিম বঙ্গ সরকার আদালতে যাবে।
“এটা ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতা খর্ব করা। কারণ, প্রাণীসম্পদ রাজ্যের এখতিয়ারভূক্ত। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাজ্য সরকারের হাতে।”
“আমরা এই নিষেধাজ্ঞা মানছি না। আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় কাঠামো ধ্বংস না করার অনুরোধ করছি।”
পশু বানিজ্য নিয়ে শুক্রবার নতুন আইন ঘোষণা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, ‘অনিয়ন্ত্রিত ও নজরদাি রোবহীন পশু বানিজ্য প্রতিরোধে’ তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যদিও সমালোচকরা বলেছেন, হিন্দু ধর্মে গরু পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হয়।
হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে ভোটের রাজনীতির অংশ হিসেবে বিজেপি সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পশু খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া দেশটির খাদ্য ও চামড়া শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
২০১৪ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর দেশটির কয়েকটি রাজ্যে গোহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়।
পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটে গত মার্চে এ সংক্রান্ত একটি আইন পাশ হয়। সেখানে গোহত্যার জন্য যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।
ভারতে গোরক্ষার নামে অনেক মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজায়ান বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের লঙ্ঘন।” “সেইসঙ্গে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির স্বাধীনভাবে নিজের খাবার বেছে নেওয়ার মৌলিক অধিকার হরণ।”
ওই দুইটি রাজ্য ছাড়াও ইউনিয়ন টেরিটরি অব পন্ডিচেরি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করার কথা জানানো হয়েছে।
কর্নাটক, তেলেঙ্গানা এবং মেঘালয় রাজ্য সরকারও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। ভারতে গরু ক্রয় বিক্রয় ও জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মুসলিমরা। গোশত ব্যবসায়ীরা এ নির্দেশের উপর সুপ্রিমর্কোট থেকে পুণরায় রায় দেয়ার দাবি জানান ।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গরু ক্রয় বিক্রয় ও জবাইয়ে বিধি নিষেধ থাকায় বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
ব্যঙ্গালোরে মুসলমান ও অন্যান্য কমিউনিটির পক্ষ থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। যারা বিক্ষোভ করেন তারা দাবী করে বলেন, এ বিধি নিষেধ জাতীয়তার কারণে লাগানো হয়নি। বরং সরকার সকল ব্যবসায়ী কম্পানি নিজের কব্জায় নিতে চায়।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সরকারের এ বিধি নিষেধ বাস্তবায়নের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমরা কি খাবো? আর কি খাবো না? তা দিল্লি বা নাগপুর থেকে জানার প্রয়োজন নেই। বরং প্রশাসন সাধারণ মানুষের পছন্দের সকল খাবারের বৈধতা দিবে। তিনি রোববার চিঠি লিখে কেন্দ্রের ফয়সালার বিরোধিতা করেন।
পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মোদি সরকারের পক্ষ থেকে গরুর গোশত বিক্রির বিধি নিষেধকে বেআইনি সাব্যস্ত করে বলেন, পশু বেচাকেনা সংশ্লিষ্ট বিধি নিষেধ সরকারের নয় বরং প্রশাসন নিবে।
মেঘালয়ে বিজেপি ক্ষমতায়
এলে গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না
ভারতের বিজেপি’র এক নেতা বলেছেন, যদি তার দল মেঘালয়ে ক্ষমতায় আসে তাহলে গরুর গোশতে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। কসাইখানাগুলোকে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হবে। এরফলে বিভিন্ন প্রকারের গোশতের দাম কমে আসবে। 
বিজেপি নেতা বার্নার্ড মারক বলেন, ‘মেঘালয়ে অনেক বিজেপি নেতা গরুর গোশত খান। মেঘালয়ের মতো শহরে গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রশ্নই ওঠে না। মেঘালয়ের বিজেপি নেতাদের পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহাসিক পটভূমি ও সাংবিধানিক বিধানসমূহের বিষয়ে ভালোভাবে জানা আছে।’
তিনি বলেন, ‘বিজেপি যদি ২০১৮ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তাহলে গরুর গোশতের ওপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না। এর পরিবর্তে গোশতের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং কসাইখানাগুলোকে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হবে। যাতে গরুর গোশত ও অন্য গোশতের দাম কমে আসে।’
বিজেপি নেতা বার্নার্ড মারক ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘গরুর গোশত ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে সকলেই তা ক্রয় করতে পারছে না। সরকার গোশতের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানির বিষয়।’  
তিনি বলেন, ‘বিজেপি গোশতের গুণগত মান তদন্তের জন্য এবং এর দাম কমানোর জন্য কসাইখানা স্থাপনসহ যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালাবে, যা কংগ্রেস সরকার করেনি।’
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এক নির্দেশে জবাইয়ের জন্য কোনো গবাদি পশু হাট থেকে কেনাবেচা যাবে না বলে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্যে তীব্র অসন্তোষের পাশাপাশি এবার মেঘালয়ের বিজেপি নেতার মুখ থেকে গরুর গোশত সস্তায় পাওয়া যাবে বলে প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ