ঢাকা, সোমবার 1 June 2020, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৮ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বলিউড কাঁপানো অভিনেত্রীকে হাসপাতালে ফেলে পালালো ছেলে

অনলাইন ডেস্ক: এক সময় বলিউড কাঁপিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী গীতা কাপুর। 'পাকিজা'র মতো সিনেমায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। তার নামের পাশে রয়েছে বলিউডের প্রায় শ’খানেক সিনেমা। অথচ আজ তারই ঠিকানা মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতাল। 

চিকিৎসার টাকা নেই, নেই ফেরার কোনও ঠিকানা। আর অভিনেত্রীর এই অবস্থার জন্য দায়ী তারই ছেলে। নিজের মাকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে সে।

গত একমাস ধরে এভাবেই হাসপাতালে পড়েছিলেন গীতা। ছেলে রাজা কাপুর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসকরা অগ্রিম কিছু টাকা জমা রাখতে বলেছিলেন চিকিৎসার জন্য। সেই টাকা এটিএম থেকে তুলতে যাওয়ার নাম করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান রাজা। 

এর পর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গীতার মেয়ে পূজার সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর চিকিৎসা শুরু করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কারণ তার অবস্থা মোটেও ভাল ছিল না।

একটু সুস্থ হতেই গীতাদেবী খুলে বলেন সবকিছু। কীভাবে ছেলে রাজা তার উপর দিনের পর দিন অত্যাচার চালাতেন। বারবার তাকে বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার জন্য জোর করা হত। এর জন্য মারধরও করা হত। চারদিনে একবার খেতে দেওয়া হত। দিনের পর দিন ঘরে বন্দি করে রাখা হত। এত অত্যাচারের ধকল যখন বৃদ্ধ অভিনেত্রীর দেহ সইতে পারেনি, তখন বাধ্য হয়েই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে ছেলে। তবে মাকে সুস্থ করতে নয়, নিজের দায় কাঁধ থেকে নামিয়ে পালিয়ে যেতে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, নিজেকে সেনা অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন রাজা। পরে গীতা কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারেন তারা। বিষয়টি জানাজানি হতে বৃদ্ধ অভিনেত্রীর সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন সিবিএফসি সদস্য অশোক পণ্ডিত ও প্রযোজক রমেশ তুরানি। তারা দু’জনে মিলেই হাসপাতালের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বিল মেটান।

আপাতত অনেকটাই সুস্থ অভিনেত্রী। শরীরের কষ্ট তার লাঘব হয়েছে, কিন্তু মনের ক্ষত এখনও দগদগে। যা হয়তো কোনওদিনও সেরে উঠবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ