বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

“রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদ”

-মাওলানা মুফতী মোঃ ওমর ফারুক
রহমত ক্ষমা ও মুক্তির ঘোষণা নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও আমাদের মাঝে রমজান উপস্থিত কিন্তু জানি না ক’জন এই মহা সনদ লাভ করতে পারব। কলেজ ভার্সিটির সর্বোচ্চ সনদ নিতে হলে, কোন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করতে হলে যেমন ভাল ভাবে লেখা পড়ার বিকল্প নাই অর্থ শ্রম সময় ব্যয় ছাড়া  যেমন কোনভাবেই সম্ভব নয়। তদ্রুপ মহান মা’বুদের পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রদত্ত সনদ নিতে হলে কি করতে হবে বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা লালনকর্তা রাজাধিরাজ যার পরীক্ষায় পাস করা সত্যিই অসীম সৌভাগ্যের ব্যাপার যা তাঁর দয়া ব্যতীত কোন ভাবেই সম্ভব নয়। চলমান বিশ্বের খুব কম সংখ্যক লোকের দ্বারাই সম্ভব বলে মনে হয়।
কিন্তু মহান মা’বুদ এই সনদ ধনী গরীব নারী পুরুষ রাজা প্রজা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন আহ! তিনি কতই না দয়ালু মেহেরবান। সনদ লাভের উপায় হিসাবে দান করলেন মাহে রমজান। মাত্র একটি মাস রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদ প্রদানের জন্য দান করলেন। কি চমৎকার ব্যবস্থাপনা কতই না উত্তম আয়োজন! কি যে অবর্ণনীয় অতুলনীয় অসীম সুযোগের হাতছানি, কি যে অপার মহিমা! এর দৃষ্টান্ত কি আছে? না না এর তুলনা হয় না রমজানের তুলনা নেই রমজানের তুলনা শুধু রমজান-ই।
মুমেনের জীবনে রমজানের গুরত্ব এতই বেশী যে দু’মাস পূর্ব থেকে এ মাস কে পাওয়ার জন্য বিশ^মানবতার মহান শিক্ষক গোটা দুনিয়ার একমাত্র আদর্শ যার জীবনে কোন পাপ পঙ্কিলতা ছিল না স্বয়ং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মহান আল্লাহ্র দরবারে বেশী বেশী ফরিয়াদ করেছেন এবং তার অনুসারীদের কে ফরিয়াদ করতে বলেছেন “হে মুনিব হায়াত মউতের মালিক আমাদের কে রজব ও শাবানে বরকত দেন এবং রমজান পর্যন্ত পৌছে দেন”-এর দ্বারা অতি সহজেই বুঝা যায় যে রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদের এ মাসের তাৎপর্য কত বেশী এর গুরুত্ব কত? যে মাসের চাঁদ উদয় হওয়ার সাথে সাথে জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় জান্নাতের দরজা সমুহ খুলে দেয়া হয় প্রতিটি নেক আমলের ছওয়াব সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। মরদুদ শয়তানকে জেলখানায় শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। হাশর মাঠে যখন কেউ কারো  সাহায্যে আসবে না পিতা পুত্রকে চিনবে না স্বামী তার স্ত্রীকে চিনবে না যে দিন নবী রাসুলগণ পর্যন্ত ইয়া নাফসী ইয়া নাফসী বলতে বলতে ফেরেসান থাকবে সেই কঠিন মুর্হূতে আল্লাহর দরবারে জোড়ালো সুপারিশ কারী হচ্ছে মাহে রমজান, রমজানের সিয়াম।
বিশ্ববাসীর মনস্তাত্তি¡ক নৈতিক দেহ মন ও শরীরের রিপেয়ারিং বা সংস্কারের জন্যই  রহমত ক্ষমা ও মুক্তির অফুরন্ত নিয়ামতে ভরপুর মাহে রমজান। এ মাসে এমন একটি মোবারক রজনী আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। লাভ লসের হিসাবে একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে যদি কোন ব্যাংক বা বীমা কোম্পানী ঘোষণা দেয় যে ডিসেম্বর মাসে এক লক্ষ টাকা ডিপোজিট রাখলে জানুয়ারীতে সত্তর লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে (যদিও কোন ব্যাংক বা বীমা কোম্পানীর পক্ষে কোন দিন তা সম্ভব হবে না) অথবা কোন সংস্থা বা রাষ্ট্র প্রধান যদি এমন ঘোষণা দেন যে, যারা এক মাস অমুক অমুক  ট্রেনিং কাজটি ভালভাবে সম্পন্ন করতে পারবে তাদের প্রত্যেককে উন্নতমানের ১০০০ভরি স্বর্ণের মেডেল, নগদ ১০০০ ইউ এস ডলার এবং বিশ্বের যে কোন দেশে ভ্রমণ করা ও থাকা খাওয়ার ফ্রি ভিসাসম্বলিত একটি মহামূল্যবান সনদ প্রদান করা হবে। তাহলে উক্ত ট্রেনিং কোর্সে কত লক্ষ দরখাস্ত জমা পড়বে  এবং কি পরিমাণ  প্রতিযোগিতা হবে? তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন একটি ঘোষণা আসলে কে না চাইবে অংশ নিতে? কার না মন চাইবে উক্ত ট্রেনিং কোর্সে অংশ নিয়ে জয়ী হতে, তাই নয় কি ?
এ মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য  সত্যিই অপরিসীম যা বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। উম্মতে মুহাম্মদী শ্রেষ্ঠ উম্মত তাই তাদের জীবন চলার পথে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় শয়তানের ধোকায় পড়ে সংঘটিত ভুলসমূহ মুছে দেয়ার অতি সহজ ও সর্বোত্তম হাতিয়ার হচ্ছে মাহে রমজান। যার প্রতিটি মুহূর্ত একজন রোজাদারের নিকট  স্বর্ণের খনির চেয়েও অধিক মূল্যবান। অথচ সমাজের সর্বত্র এমন কিছু লোক দেখা যায় যারা অনর্থক রমজানের রোজা গুলো ছেড়ে দিচ্ছে খোড়া অজুহাতে শুধুমাত্র খামখেয়ালিপনা ও সদিচ্ছার অভাবে দৃঢ মনোবল ও সৎ সাহসের অভাবে যা মোটেই উচিত নয়। ঈমানের দাবীদার কোন ব্যক্তি ফরজ রোজা ফরজ নামাজ এবং অন্যান্য ফরজ কাজ গুলো ছেড়ে দেবে ইহা ঈমানের দাবীর সাথে বেমানান। অবশ্য এ দেশে অনেকে এমন আছেন যারা নিজেদের কে খুব খাঁটি সাচ্চা মুমিন বলে দাবী করেন আর বলেন নামাজ না পড়লে কি হবে আমার ঈমান ঠিক আছে? তাদের সংখ্যা ও কম হবে না।
রোজা শুধুমাত্র একটি ইবাদতের নাম নয় এর মধ্যে রয়েছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ। রোজা বা সওম এমন একটি বরকতময় কাজ যা একজন ব্যক্তির সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। সারা বছর অবিরাম গতিতে নানান কিছু ভক্ষণ করার ফলে শরীরের শিরা উপশিরা রগ ও রক্তনালী গুলো অনেকাংশে দূর্বল হয়ে পড়ে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার ফলে শরীরের অংঙ্গ পতংঙ্গ শিরা উপশিরা গুলোতে নতুন তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। ফলে শরীর ও দেহ মনে সতেজতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে রমজানকে ইয়ারলি বডি রিপেয়ারিং বা শরীর মনের বার্ষিক পুনঃসংস্কারক বলা হয়। রোজা দ্বারা মেদ ভুড়ি কমে শরীর শ্লিম থাকে ওজন স্বাভাবিক থাকে, চেহারা উজ্জ্বল হয় সুস্থ্য সুঠাম দেহের অধিকারী হতে চাইলে রমজানের এক মাস রোজা তাদের জন্য অন্যন্য উপাদান। সর্বোপরি রোজা পালনে কিছু সময়ের জন্য হলে ও মহান আল্লাহ্র গুণে গুণাম্বিত হওয়া যায় ফলে বান্দার সাথে মা’বুদের গভীর সম্পকের সেতু বন্ধন মজবুত হয়। বিশ্ব জাহানের মালিকের সাথে যে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও দেশের সম্পর্ক গভীর হবে তাদের চাওয়া পাওয়ার আর কিছুই বাকী থাকে না তারা উভয় জাহানেই সফল। যারা দু’জাহানে সফলতার সর্বোচ্চ মাকামে আরোহন করতে চায় তাদের উচিত রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদ লাভের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজকে প্রথম শাড়ীর বিজয়ী হিসাবে উপস্থাপন করা।
যে সকল মসজিদে খত্মে তারাবী অনুষ্ঠিত হবে ঐ সমস্ত মসজিদের কমিটি ইমাম মুয়াজ্জিন ও মুসুল্লীদের কাছে বিনীত অনুরোধ তারাবীর নামাজে তিলাওয়াতের মাধ্যমে কুরআন খতম করার পাশাপাশি প্রতি রাতে নামাজের আগে বা পরে প্রতি পারার সারমর্ম সংক্ষিপ্ত আকারে মুসুল্লিদের জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করলে কুরআন নাযিলের মাসে কুরআনের প্রতি অধিক ভালোবাসাই প্রকাশ পাবে।
যে কুরআনের কারণে রমজান মাসের এত সম্মান এত মর্যাদা-মহিমা এত আয়োজন যে কুরআন পাওয়ার বদৌলতে মুহম্মদ সা: স্যাইয়েদুল মুরসালিন, যে কুরআন বহন করে নিয়ে আসার দরুণ ফেরেস্তা হলেন রঈসুল মালাঈকা যে মাসে কুরআন নাযিল হলো সে মাস সকল মাসের সেরা যে রাতে কুরআন এলো সে রাতের মর্যাদা হাজার মাসের চেয়েও বেশী যে কাঠের টুকরাতে কুরআন রেখে তিলাওয়াত করা হয় রেহাল তার মর্যাদা দুনিয়ার যে কোন রাজা বাদশার আসবাবপত্রের চেয়েও বেশী কারণ কোন মূল্যবান ফার্নিচার অথবা প্রেসিডেন্টের বাস ভবনের কোন দামী জিনিস হাত থেকে পড়ে গেলে বা কোন কারণে ময়লা লাগলে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে কাউকে সালাম করতে দেখা যায় না অথচ কুরআনের রেহাল হাত থেকে কোন কারণে পড়ে গেলে তা পরিষ্কার করে সালাম করা হয় বুকের সাথে জড়িয়ে ধরা হয় চুমু খাওয়া হয়।
তাহলে যে বা যারা কুরআন আকড়ে ধরবে তাদের মর্যাদা কি কমে যাবে? তারা কি বেকার থাকবে, না খেয়ে উপবাস থাকবে? তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে? সমাজের কেউ তাদের সাথে আত্বীয় করবে না? অথচ আমরা নিজেরাও কুরআন বুঝি না আমদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সোনামষিদেরকেও ভালোভাবে কুরআন জানা বুঝার ব্যবস্থা করছি না শুধু তাই নয় মসজিদ মাদ্রাসা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস গুলোতেও যথাযথ ভাবে কুরআন জানা বুঝার সুব্যবস্থা নেই তাহলে সমাজ হতে কি করে অশান্তি দূর? হবে কি করে ব্যক্তি চরিত্র উন্নত হবে? কুরআন বিহীন ঘর যেমন পোকা-মাকড়ের আখড়া তদ্রুপ কুরআন বিহীন সমাজ দুর্নীতির আখড়া তাই সমাজের সর্বত্র শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ঠিকসই ববস্থাপত্র আজই সকলের গ্রহন করা দরকার।
যেই মহাগ্রন্থ বিশ্ব মানবতার শান্তির একমাত্র পাথেয়  যাকে জানতে চেয়ে বুঝতে চেয়ে এর সততা যাচাই করতে এসে কত কাফের বেঈমান মুশরিক দার্শনিক বিজ্ঞানী কুরআনের মধ্যাকর্ষণ শক্তির কাছে নিজেদেরকে তুচ্ছ মনে করে কুরআন কে মাথার মুকুট বানিয়েছে অথচ সেই মহাগ্রন্থ আল কুরআনকে শুধুমাত্র তিলাওয়াতে শেষ করেই আমরা অনেকে কতই না আত্ব¡তৃপ্তি লাভ করি! কুরআন তিলাওয়াত অব্যশই উত্তম আমল তাতে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু তাই বলে কুরআন কি শুধু তিলাওয়াতের বিষয়? অর্থাৎ সকাল বিকাল তিলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআন জানা বুঝার আয়োজন করতে হবে সে অনুযায়ী জীবনের প্রতিটি বিষয় নতুন করে সাজাতে হবে। কুরআন নাযিলের  মাসে সওম পালনের সাথে সাথে কুরআন জানা কুরআন বুঝা কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে পথ চলার শপথ নিতে পারলেই রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদ লাভ করা সম্ভব এবং জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ দুর্নীতি অবিচার ব্যভিচার মিথ্যাচার জুলুম অত্যাচার ধর্ষণসহ সকল প্রকার অপরাধ বন্ধ করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নয় বরং উন্নত আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব। ডিজিটাল দেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল কে কুরআনের ছায়াতলে আসা এখন সময়ের দাবী।
অনেক অভিভাবক এমন আছেন যারা নিজেরা ও যথাযথভাবে সওম পালন করেন না এবং নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকেও সওম পালনে উৎসাহ দেখায় না বরং অনেক ক্ষেত্রে রোজা রাখতে বারণ করেন। ছেলে মেয়েদের নসিহত করে বলেন তোমাদের রোজা রাখার দরকার নেই তোমার পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাবে, তোমার স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে,চেহারা মলিন হয়ে যাবে তোমার বিয়ের বয়স ইত্যাদি আজে বাজে কথা বলে কিশোর কিশোরীদের রোজা রাখতে দেয়া হয় না। শুধু তাই নয় অনেক পিতা মাতা তারা নিজেরা পর্দা করেন বটে কিন্তু কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েটি কে সাথে নিয়ে যত্রতত্র যাচ্ছেন খোলামেলাভাবে! মুসলিম উম্মাহর জন্য সত্যি-ই  ইহা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাস্কর বিষয় কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ। এ সকল ছেলে মেয়েদের পরবর্তী বদ আমলের পাপের বোঝা ঐ সকল অভিভাবকদেরকেই বহন করতে হবে। এর মাশুল তাদেরকেই দিতে হবে।
যেখানে সাত বছর বয়স হতেই নামাজের তাগিদ দেয়ার নির্দেশ আসছে এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে সন্তান সন্তুতি কে প্রহার করার হুকুম দেয়া হয়েছে সেখানে কি করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের কে রোজা রাখতে বারণ করা হয় তা বুঝে আসে না! রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদ লাভের আশায় অনেকে রোজা নামাজ মুটামুটি আদায় করেন বটে কিন্তু বাকি সময় টিভির পর্দায় বা মোবাইলে নাটক সিনেমা বা ছবি দেখে গেইম খেলে আজে বাজে গান শুনে সময় কাটান ব্যবসায়ী সুবিধা নেয়ার জন্য সত্য মিথ্যা যখন যা বলা দরকার পণ্যে ভেজাল দেয়া ওজনে কম দেয়া একশ’ টাকার জিনিস পাঁচশত টাকা দাম হাঁকিয়ে ঈদের বাজার ঈদের বাজার দোহাই দিয়ে ক্রেতা সাধারণ কে জিম্মি করে বাজারে জিনিসপত্রের দাম কৃত্তিম বৃদ্ধি করে মসজিদে বিশাল ইফতারের আয়োজন করে মনে মনে ভাবেন জান্নাত নিশ্চিত! এতগুলো রোজাদারকে ইফতার করালে জান্নাতে যেতে আর বাধা কিসের? বরং তারা মনে করেন একদিকে দাফন অন্যদিকে জান্নাত অর্থাৎ দাফন কাফনে একটু দেরী হলেও জান্নাতে যেতে দেরী নাই! বিষয়টি এত সহজ নয় জান্নাত মামার বাড়ীর আবদার নয় যে চাওয়া মাত্রই পাওয়া যায়। আপনার একটি কথার কারণে ছুলা ভুট বা অন্য কোন পণ্যের দাম কেজি প্রতি বিশ থেকে ত্রিশ টাকা বেড়ে গিয়ে হাজার হাজার রোজাদারের নাভিশ্বাস! আর ২/৪ জন রোজাদারকে লোক দেখানো ইফতারী দিয়ে দু’চার টাকা মসজিদে এতিম খানায় দিয়ে আপনী জান্নাত কিনে নিতে চান? না না তা কখনো হবে না তা কখনো হয় না। বরং কথা কাজের গরমিল পরিহার করে যথাযথ গুরুত্বের সাথে রোজা গুলো পালন করা কুরআন বুঝা কুরআনকে আকড়ে ধরা বাকি জীবন রমজানের শিক্ষার আলোকে কুরআনের ফর্মা অনুযায়ী পরিচালিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে পারলেই রহমত ক্ষমা ও মুক্তির সনদ পাওয়া সম্ভব আসুন সবাই মিলে তাই করি।
লেখক: কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যতিক ও বিশিষ্ট ব্যাংকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ