শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রমযানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি মিরসরাইবাসীর

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : স্বরণ কালের মধ্যে ভয়াবহ গরম তার উপর লোডশেডিংয়ে হাঁফিয়ে উঠেছে মিরসরাইয়ের ৫ লাখ মানুষ। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে মিরসরাইবাসী। অথচ দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা মিরসরাই। আসন্ন রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান এখানকার গ্রাহকেরা। বিশেষ করে সেহেরী, তারাবী ও ইফতারির সময় যেন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে এজন্য তারা কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান।বৃহস্পতিবার রাত ১২টা। মায়ানী থেকে মোবাইলে এই প্রতিবেদকের কাছে কল করেন সানা উল্লাহ নামে এক দি্যুৎ গ্রাহক। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টা থেকে লোডশেডিং চলছে এখনো বিদ্যুৎ আসেনি। একে তো প্রচন্ড গরম তার উপর এমন লোডশেডিং চলতে থাকলে কিভাবে বসবাস করবো। শুধু সানা উল্লাহ নয় এমন বক্তব্য জয়নাল আবেদীন, বিকাশ ভৌমিক, রনী নামে আরো কয়েকজন গ্রাহকের।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রতিদিনি প্রায় ৩০ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে ১৮ থেকে ২০ মেঘাওয়াট। তার মধ্যে সোনাপাহাড়ে অবস্থিত বিএসআরএম সরবরাহ করছে ১০ মেঘাওয়াট।
 জানা গেছে, সীতাকুন্ডের বারআউলিয়া বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে যে লাইনে মিরসরাইতে বিদুৎ সরবরাহ হয় সেটার ধারণ ক্ষমতা ১২ মেঘাওয়াট। ক্রুটিপূর্ণ লাইনের কারণে ১২ মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা। সীতাকুন্ড উপজেলার টেরিয়াইল পর্যন্ত সংস্কার কাজ হলেও এখনো কিছু অংশ রয়েছে গেছে। তার উপর লাইনের সংস্কার কাজ করায় ঘন্টার পর ঘণ্টা বিদুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে হাজার হাজার গ্রাহককে। এতে করে চরম বেকদায় রয়েছে বিদুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
 জানা গেছে, লোডশেডিং অতিষ্ট হয়ে পড়েছে পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। একদিকে তাপদাহ, অন্যদিকে বিদ্যুতের লম্বা লোডশেডিং, এতে উপজেলাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেকটা জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্টানের নথি-পত্র আদান-প্রদান ও নথি সংরক্ষণসহ নানাবিধ দাপ্তরিক কাজকর্ম জেনারেটর চালু করে স¤পন্ন করতে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর বা আইপিএস নেই। অফিস সময়ের অধিকাংশ সময় বিদূৎ না থাকার ফলে যখনি বিদ্যুৎ আসে তখনি ছুটে যেতে হয় ক¤িপউটারের সামনে। এদিকে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ব্রয়লার, ষ্টুডিও, ক¤িপউটার-ফটোষ্ট্যাট ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুতের অতিরিক্তি লোডশেডিংয়ের কারণে কয়েকটি ক¤িপউটার, ফটোষ্ট্যাট মেশিন, আইপিএস ও বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘন ঘন লোডশেডিং না করে যদি একনাগাড়ে কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হত তাহলে কোন রকমে কাজ করা যেত।
 মিরসরাই পৌর সদরের মায়া ডিজিটাল ষ্টুডিওর মালিক সুচয়ন ও স্মৃতি ডিজিটাল ষ্টুডিওর মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে কোন কাজ করতে পারছিনা। এভাবে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু মকসুদ নয় এভাবেই হতাশায় ভুগছেন উপজেলার শত শত ব্যবসায়ী।
উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিন ফ্রিজে থাকা মাছ ও মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাতে তার এক বছর বয়সের বাচ্চা গরমের কারণে ঘুমাতে পারছে না। একতো প্রচন্ড গরম। তার উপর ভয়াবহ লোড়শেডিংয়ের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ঘন্টাও বিদুৎ থাকেনা। অথচ আমাদের পাশের উপজেলাগুলোতে ২৪ ঘন্টায় বিদুৎ সরবারহ থাকে।
বারইয়ারহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একাধিক মুসল্লী বলেন, এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকলেও রমজান মাসে যেন লোডশেডিং না হয় এজন্য বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জোর দাবী জানান। বিশেষ করে সেহেরী, ইফতারি ও তারাবির নামাজের সময় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।চট্টগ্রাম পল্লী বিদুৎ সমিতি-৩ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মোঃ এমাজ উদ্দিন সরদার জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং শুধু মিরসরাইতে নয় সারা দেশে একই অবস্থা। তারপরও দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে এখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অনেক ভালো। আশা করছি কয়েকদিন পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আমরা লাইনের ক্রুটিগুলো চিহিৃত করে কাজ করছি। শনিবার (২৭ মে) বাড়কুন্ডে বিদ্যুতের মেরামত কাজ চলবে। তাই সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ