শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মনোহরদীতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা

মনোহরদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : নরসিংদীর মনোহরদীতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের পূর্ব রামপুর গ্রামে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে স্ত্রীকে গলা কেটে ও স্বামীকে শ্বাষরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, পূর্ব রামপুর গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম মিয়া (৫৫), ও তার স্ত্রী মোসা. আফিয়া বেগম (৪৫)। নিহতদের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহত দম্পত্তির নয় বছরের ছেলে খায়রুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাবার-দাবার শেষে বাবা-মায়ের সাথে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে ঘুম থেকে জেগে দেখতে পাই আমি অন্য বিছানায় শুয়ে আছি। পরে আম কুড়ানোর জন্য বিছানা থেকে উঠে দেখতে পাই ঘরের দরজা খোলা রয়েছে। এ সময় মাকে বিছানায় দেখতে পেলেও বাবাকে ঘরে পাইনি। আম কুড়ানো শেষে মক্তবে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময় মাকে ডাকা-ডাকি করতে থাকি। কোন উত্তর না পেয়ে মায়ের পা ধরে নাড়া দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গায়ের চাদর সড়িয়ে দেখতে পাই মায়ের গলা কাটা।
প্রতিবেশীরা জানান, সকাল বেলা খায়রুলের ডাক-চিৎকার শুনে তাদের বাড়ীতে এসে আফিয়াকে রক্তাক্ত গলাকাটা অবস্থায় বিছানায় দেখতে পাই। কিছুক্ষণ পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্ব পশ্চিম রামপুর থেকে লোকজন এসে জানায়, একটি পরিত্যাক্ত কৃষি জমিতে ইব্রাহিমের মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে মনোহরদী থানায় সংবাদ দেয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারনা, প্রথমে আফিয়া বেগমকে জবাই করে হত্যার পর বাড়ীর অদূরে কৃষি জমিতে নিয়ে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের দুইটি ঘরে বসবাস করে ইব্রাহিম দম্পত্তি। বড় ঘরে স্ত্রী আফিয়ার রক্তাক্ত লাশ পড়ে রয়েছে। আর বাড়ি অদূরে পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে পড়ে রয়েছে স্বামী ইব্রাহিমের লাশ। স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার খবরে গ্রামবাসী ভীড় জমিয়েছে নিহতদের বাড়িতে। শোকার্ত স্বজনদের আহাজারিতে গোটা পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতদের জামাতা শাহাদত হোসেন জানান, আমার শ্বশুর-শাশুরীর মাঝে সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। কখনো তাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ দেখতে পাইনি। শুক্রবার সকালে ফোনে শ্বশুর-শাশুরীর হত্যার সংবাদ পেয়ে দ্রুত এখানে আসি।
নিহত ইব্রাহিমের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ও তার স্ত্রীকে দূর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এই হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে বের করে সর্বোচ্চ বিচার দাবী করছি।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ফরাজী বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। স্ত্রীকে হত্যার পর ইব্রাহীম মিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাদের মেরে ফেলা হয়েছে, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। তদন্ত করা হচ্ছে। অচিরেরই জোড়া হত্যার বিষয়টির রহস্যের উন্মমোচন হবে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ