শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বাংলাদেশের সঙ্গে জাইকা’র সহযোগিতা কখনো বন্ধ হবে না -জাইকা প্রধান

বাসস : জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশে তাদের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেছে, তারা কখনো ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করবে না।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা গত বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং জাইকা কখনোই ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফকালে জাইকার প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে এ কথা বলেন।
ড. শিনিচি কিতাওকা বৈঠকে গতবছর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারীতে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হলি আর্টিজান বেকারীতে জঙ্গি হামলার পর আপনার সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রমে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’
জাইকা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সহ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, আমরা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মুসলমানরা জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে এবং তারা কোথাও কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করছে না।
প্রধানমন্ত্রী গতবছর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারীতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৭ জাপানী নাগরিকের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’
শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে দেশের সকল বিভাগের সকল শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্স করে তাদের মধ্যে এই সমাজিক সমস্যা বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতেও তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই প্রচারের ফলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এই সামাজিক ক্ষত দু’টি সারাতে এর অর্থের উৎস এবং অস্ত্রের জোগান বন্ধের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় জাইকার প্রেসিডেন্ট ঢাকার রাজপথে যানজটের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামর্থ্যও বাড়ছে এবং তারা বেশি করে গাড়ি ক্রয় করছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে এবং জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট জাইকা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা। বাংলাদেশে জাইকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় দলটি তিন দিনের সফরে গত বুধবার বাংলাদেশে এসেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ