শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মিয়ানমারে যাচ্ছে নিত্যপণ্য, আসছে মাদক

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে উখিয়া সীমান্তের ১১টি পয়েন্টে চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কতিপয় দালাল সিন্ডিকেটের সক্রিয় সহযোগীতায় বানের পানির মত মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ভোজ্য ও জ্বালানী তেল সহ পিঁয়াজ, রসূন সেমাই, চিনি, গুড়, গরম মসল্লা থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্য পন্য। বিনিময়ে এদেশে পাচার হয়ে আসছে ইয়াবা, সিগারেট, বোতলজাত মাদকদ্রব্য ও নি¤œমানের কসমেটিকস সামগ্রী। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ছোটখাট মাদকের চালান আটক হলেও পাচারকৃত পণ্য উদ্ধার বা আটক না হওয়ার ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার রহস্য জনক ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪ টায় উপজেলা প্রশাসন উখিয়ার পাইকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে রমজানের দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য নিদের্শ প্রদান করেন। এসময় ইউএনও দোকানে মূল্য তালিকা না টাঙ্গানোর অপরাধে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন।
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে উখিয়ার অর্ধ শতাধিক পাইকারী ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার নিত্যপণ্য সরবরাহ এনে গুদামজাত করছে। তৎমধ্যে উল্লেখযোগ্য জ্বালানী ও ভোজ্যতেল, পিঁয়াজ, রসূন, সেমাই, চিনি, গুড়সহ বিভিন্ন প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী। অসাদু পাইকারী ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রির অজুহাতে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে নিত্যপণ্য। এসব পণ্য সামগ্রী সীমান্তের ধামনখালী, রহমতের বিল, আনজুমানপাড়া, নলবনিয়া, বটতলী, থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালী, ফাত্রাঝিরি, ডিগলিয়াপালং, ডেইলপাড়া, রেজুআমতলীসহ ১১ পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
সীমান্তে বসবাসরত গ্রামবাসীর অভিযোগ হাতিমোরা কিল্লামারা এলাকার ছৈয়দ আলম, বার্মাইয়া জাহেদ উল্লাহ, তুলাতুলির নজির আহমদসহ ১০/১২ জনের একটি সিন্ডিকেট স্কট দিয়ে সীমান্তের পাহাড়ী পথে রাতের বেলায় নিত্যপণ্য পাচারে সহযোগীতা করছে। বিনিময়ে মিয়ানমারের তৈরি নেশা জাতীয় ট্যাবলেট ইয়াবার পাশাপাশি পিরিটন, বোতলজাত মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন প্রকারের নিম্নমানের কসমেটিকস সামগ্রীর চালান সরবরাহ এনে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এসব চোরাই পণ্য আনা নেয়ার ব্যাপারে সীমান্তের চিহ্নিত দালাল সিন্ডিকেটের সদস্য রেজু আমতলী গ্রামের আশরাফ আলী, ছৈয়দ নূর, ছৈয়দ করিম, জসিম উদ্দিন ও করই বনিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমসহ ৭/৮ জন লোক বিজিবি-পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করার ঘটনায় পাচারকাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে একাধিক গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসী নজির হোছন, আলী আকবর, শামশুল আলম সহ বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, দালাল চক্র অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিকট থেকে জনপ্রতি ৫শত টাকা আদায় করছে। এসব রোহিঙ্গারা সারাদিন উখিয়া, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ পূর্বক রাতের আধাঁরে মিয়ানমারে চলে যেতে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের লোকজন মনে করছেন রোহিঙ্গারা নির্বিঘেœ আসা যাওয়া করতে পেরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা প্রকার অনৈতিকতা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রোহিঙ্গারা উখিয়া সদর থেকে চাঁদের গাড়ী, সিএনজি, টমটমসহ বিভিন্ন প্রকার ছোটখাট যানবাহনের সাহায্যে আঞ্চলিক সড়ক পথে নিত্যপণ্য মিয়ানমারে নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
আমতলী বিজিবি’র সূত্রে জানা গেছে, তারা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে তৎপর রয়েছে। তবে নিত্যপণ্য পাচারের ব্যাপারে তারা অবগত নন। আনসার, বিজিবি ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির সত্যতা জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, কে বা কারা টাকা আদায় করছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিত্যপণ্য পাচারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা প্রায় ১৫ হাজার ইয়াবাসহ ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখান থেকে নিত্যপণ্য পাচারের অভিযোগ না পাওয়ার কারণে তারা এনিয়ে বাড়াবাড়ি করছে না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ যেকোন সময় পণ্যসহ পাচারকারী আটক করার আশ্বস্ত করেন। ঘুমধুম বিজিবি’র কোম্পানী কমান্ডার রফিকুল ইসলাম জানান, তুমব্রু বাজারে বিক্রির জন্য খুচরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির টোকেন নিয়ে নিত্যপন্য নিয়ে যাচ্ছে। তবে এখান থেকে কোন মালামাল মিয়ানমারে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, মিয়ানমারে বাংলাদেশী পণ্যের বিপুল চাহিদার কারণে নিত্যপণ্য পাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তবে রমজানকে সামনে রেখে পাচারকাজ আরো বাড়তে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। যেহেতু রোহিঙ্গারা নিয়মিত আসা যাওয়া করছে। তাদের মাধ্যমে নিত্যপণ্য পাচার হলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এ পর্যন্ত কখনো দেশি পণ্য আটক করতে দেখা যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, কোন ব্যবসায়ী নিত্যপণ্য গুদাম জাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অবিলম্বে প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
সেমিনার : উখিয়ার পালংখালী বটতলীতে জাবু হত্যাসহ সর্ব্বোপরী এলাকার শান্তি শৃংখলা রক্ষার জন্য পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক জরুরী সভা পালংখালী আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ মনজুরের সভাপতি অনুষ্টিত হয়েছে। পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অথিতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, বিশেষ অথিতি উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সসম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উখিয়া আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক আলোচনার ধারাবাহিকতায় বক্তব্য রাখেন জাবু হত্যা এলাকার বর্তমান মেম্বার সুলতান আহমদ, উখিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মোহামদ নোমান, সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসাইন মিথুন, উপজেলা ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ জাকের হোসাইন, সেচ্ছাসেবকলীগ ককসবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসাইন জুয়েল।
উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল বশর, ফরিদ আলম, জামাল হোসাইন, জাহাঙ্গী আলম, মনিরুল হক, কাজী আকতার উদ্দিন টুনু, সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন, সাহেল আবদুল জলিল, মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ আলী, মাস্টার মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। বক্তারা পবিত্র রমজান মাসে সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে। তাই এই মুহুর্তে হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা মূলক আচরণ পরিহার করে সবাইকে সংগঠন তথা দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ