সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

সমঝোতায় ঢাবি-সেন্ট্রাল  হাসপাতাল ॥ মামলা  প্রত্যাহার 

 

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুর ঘটনায় সমঝোতায় পৌঁছেছে ঢাবি প্রশাসন ও সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চিকিৎসক হিসেবে নৈতিকতা বিবর্জিত মন্তব্য করার কারণে ফেঁসে যেতে পারেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. ফারহানা সীমা। 

ঢাবি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালের সাথে আমরা আলোচনায় বসেছিলাম এবং উভয়পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়েছে। চৈতীর মৃত্যুর ব্যাপারে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেন। যার ফলে সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। তবে মিথ্যাচার করায় চিকিৎসক সীমার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা হবে।

জানা যায়, সেন্ট্রাল হাসপাতালের পক্ষ থেকে সমঝোতার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি হয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। এতে ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, একজন সহকারী প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অপরদিকে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ডা. মতিউর রহমানসহ ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) দুজন নেতা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সেন্ট্রাল হাসপাতালের পক্ষ থেকে চৈতীর মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তারা। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি মেনে নেন তারা। আর চিকিৎসকরা ঢাবি শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী বলে যে মন্তব্য করেছিলেন তার জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেয়ায় পরপরই মামলা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের মধ্যে সমঝোতা হলেও নিহত আফিয়া জাহিন চৈতীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয়ায় চিকিৎসক ফারহানা সীমার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করার কথা জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক সীমা কোনো ধরনের ডকুমেন্ট ছাড়া চৈতীকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ