মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সাত মৌয়ালকে বাঘের হাড় দিয়ে মামলায় ফাঁসালো ফরেস্টার

খুলনা অফিস : সুন্দরবনে মধু আহরণ শেষে বাড়ি ফেরার সময় নলিয়ান ফরেস্ট রেঞ্জের সদস্যরা এক ড্রাম (এক মণ) মধু চেয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ বাঘের হাড় দিয়ে মিথ্যা মামলায় ৭ মৌয়ালকে ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরীহ মৌয়ালদেরকে এভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানায়, মিথ্যা মামলায় ফেঁসে যাওয়া মৌয়াল যথাক্রমে কয়রার আমাদী গ্রামের গফুর গাজী (৪৫), কাটাখালী গ্রামের রহিম সরদার (৫৫) ও চরন সরকার (৩৯), বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রুহুল আমিন গাজী (৫৫) ও ঠাকুরপদ মিস্ত্রী (৫৬), জায়গীরমহল গ্রামের আফতাব গাজী (৫০) এবং দাকোপের কালাবগি গ্রামের হোসেন সরদার (৪৫) তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকেই পারমিটের মাধ্যমে সুন্দরবন থেকে মধু ও গোলপাতা আহরণ করে আসছে। চলতি মওসুমে তারা প্রথম এক চালান মধু আহরণও করেছে। সর্বশেষ ১৪ দিনের পারমিট নিয়ে মধু আহরণ শেষে গত ১৩ মে বাড়ি ফিরছিল তারা। মিথ্যা মামলায় ফেঁসে যাওয়া মৌয়ালদের একজন রুহুল আমিন গাজী কোর্ট হাজতে থাকাকালীন জানান, ১৩ মে দুপুরে কয়রার হড্ডা ১নং খালে পৌঁছালে বনবিভাগ নলিয়ান রেঞ্জ অফিসের টহল দলের ৫ সদস্য যথাক্রমে দেলোয়ার হোসেন (ব/প্র-০৯), শ্যামল কুমার পাল (ব/প্র-৫১), আতিকুর রহমান (বি/এম-১৮৫), খায়রুজ্জামান (বি/এম-১২৫) ও তৈয়বুর রহমান (বি/এম-২৪২) আমাদের কাছে আহরণকৃত এক ড্রাম (১ মণ) মধু দাবি করে। আমরা দিতে অস্বীকার করায় তারা রশি দিয়ে আমাদের পীঠমোড়া দিয়ে বেঁধে রেখে নৌকা থেকে ফরেস্টের ট্রলারে ৮ ড্রাম মধু ও প্রায় এক মণ মোম নিয়ে নেয়। পরে প্রত্যেককে মারপিট করে আরেকটি ট্রলারযোগে আমাদের হড্ডা টহল ফাঁড়িতে পাঠায়। সেখানে একটি কক্ষে রাতভর আটকে রেখে পরদিন সকালে কিছু পুরাতন হাড় আমাদের সামনে রেখে ছবি তোলা হয়। ওই দিনই ধৃত মৌয়ালদের কয়রা আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। ¯্রফে এক মণ মধুর জন্য বনবিভাগের এ ধরনের অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসি। মামলার ১নং আসামী গফুর গাজীর ভাই ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক হারুন গাজী বলেন, মামলার জব্দ তালিকায় মাত্র ১০ কেজি মধু ও ১০ কেজি মোম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে যারা মৌয়ালদেরকে আটক করেছে তাদেরকে। তিনি বলেন, মামলার বাদী হড্ডা টহল ফাঁড়ির ওসি সুলতান মাহমুদ হাওলাদার গত মঙ্গলবার আমাদের ৮ ড্রাম মধুর বদলে সাড়ে ৭ ড্রাম মধু নলিয়ান অফিস থেকে ফেরত আনার কথা বলেছেন। ধৃত মৌয়ালদের স্বজনেরা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে পাওয়া কিছু হাড় নৌকায় পাওয়াও যায় তবুও কি এসব গরীব মৌয়ালদের এ ধরনের মামলায় ফাঁসানো উচিত? এ ঘটনায় জড়িত ফরেস্টারদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান। এ ব্যাপারে মামলার বাদি হড্ডা টহল ফাঁড়ির ওসি সুলতান মাহমুদ হাওলাদার বলেন, যেহেতু মামলাটি আদালতে বিচারাধীন তাই এ সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ