শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জাজিরার সুমনসহ বাহরাইনে নিহত ৩ বাংলাদেশী

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিকে নগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবরকান্দি গ্রামের সুমন মাদবর (২০) নামের বাহরাইন প্রাবাসী হোটেল শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটের সে বাহরাইনে নিজ বাসায় অগ্নিদগ্ধ হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর পাশের রুমের অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একই রুমে থাকা বাংলাদেশী আরো দুই শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে নিহতদের স্থানীয় মানামা সালমানিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতদের লাশ এখন বাহরাইনের মানামা সালমানিয়া হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সুমনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবার, বন্ধু বান্দব ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিহত সুমনের মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার ও স্বজনরা।

নিহত সুমনের ছোট ভাই মামুন ও ফুফু রোকসানা আক্তার জানান, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিকে নগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের দরিদ্র কৃষক ছালাম মাদবরের দ্বিতীয় ছেলে সুমন মাদবর গত ইদুল ফিতরের ১০ দিন পরে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বাহরাইনে পারি জমান। সেখানে তিনি হোটেল শ্রমিকের চাকরি করে নিয়মিত পরিবারের জন্য দেশে টাকা পাঠাচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতা দরিদ্র এই পরিবারটির কপালে সুখ সইল না, গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে কেড়ে নিল তার প্রাণ। সুমন ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে মেঝ ছিল। গত ২২ মে সুমন নিয়মিত কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পরে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিট ও বাহরাইন সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ওই ভবনের নীচ তলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরিত হয়ে আগুন লাগে। সুমন একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকতো। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার ওই সুমনসহ আরো দুই জন ঘুমন্ত অবস্থায় রুমে থাকায় তিন জনের কেউ বের হতে পারেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলে আশ পাশের রুমে থাকা লোকজন তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। অপর দুই জনের মধ্যে শাওন নামের এক জনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার সিবচর উপজেলার কুতুবপুর এলাকা ও হারুন নামের অপর জন চট্টগ্রাম জেলার বলে সুমনের স্বজনদের কাছ থেকে জানাগেছে। এ ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর থেকে সুমনের পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজনদেও মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সুমনের পরিবার ও তার স্বজনরা সরকারের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে লাশ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানতে পারি নাই। সরকারি ভাবে জানার পর সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ