মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

১৮ ঘণ্টায় ৫৯৫৭১ টাকা হোটেলের বিল পরিশোধ করে সাফাত

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : অনুমতি ছাড়া আবাসিক এলাকায় রেইনট্রি হোটেলের ব্যবসা বন্ধে আইনী লড়াইয়ে নেমেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ লড়াই চালাতে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি। রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় অনুমতি ছাড়াই বহুতল ভবন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করায় রেইনট্রি হোটেলটি ভ্রাম্যমাণ আদালত একবার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এরপর উচ্চ আদালতের গিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। আমরাও আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি। এখন আদালতের মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। আবাসিকের অনুমতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিকভাবে ভবনটি ব্যবহার করতে পারেন না।’

এদিকে, ২৮ মার্চ বিকাল ৪টা থেকে ২৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় রেইনট্রি হোটেলে ৫৯ হাজার ৫শ ৭১ টাকা খরচ করে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে আসে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী সাফাত আহমেদ। সেদিন সাফাত আহমেদের নামে হোটেল থেকে যে মানি রিসিট তৈরি করা হয়েছিল তার কপিতে দেখা যায়, সাফাত ঘটনার দিন ২৮ মার্চ বিকাল ৪টা ০৮ মিনিটে হোটেলের ৭০১ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেয়। পরে হোটেলে অবস্থানকালে কোনও এক সময় সে ৭০১ নম্বর কক্ষটি বদল করে ৭০০ নম্বর কক্ষে চলে যায়। পরের দিন সকাল ১০টার পর হোটেল ছেড়ে যাওয়ার সময় তার নামে যে মানি রিসিটটি তৈরি করা হয়, সেখানে তারা কোন কোন সার্ভিস নিয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেছে। যদিও এর বাইরে ‘কমপ্লিমেন্টারি’ হিসেবে নানা কিছু তাদের ‘প্রোভাইড’ করা হয়েছিল বলে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশের পর থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষ বারবারই বলার চেষ্টা করছে।

গত ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এরপর থেকে হোটেলটি আলোচনায় উঠে আসে। এই হোটেলের জমির মালিক ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন। তবে কাগজে-কলমে হোটেলের মালিকানায় রয়েছেন তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে।

রাজউক জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘দ্য রেইনট্রি ঢাকা লিমিটেড’ নামে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্ম (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নেওয়া হয়। এটিই বর্তমানে রেইনট্রি হোটেল। এর পরিচালনায় রয়েছেন বি এইচ হারুনের স্ত্রী মনিরা হারুন, তিন ছেলে- শাহ মো. নাহিয়ান হারুন, শাহ মো. আদনান হারুন ও মাহির হারুন এবং মেয়ে হোমায়রা হারুন। শাহ মো. আদনান হারুন হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

রাজউকের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ শাখা জানায়, হোটেলর জায়গাটি বি এইচ হারুনের নামে। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। ভবনটির নির্মাণ শেষে এ বছরের শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে এটি চালু করা হয়। আবাসিক এলাকায় ভবনটি অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করায় গত ১৫ এপ্রিল রেইট্রি হোটেল সিলগালা করে দিয়েছিলেন রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় ভবনটির পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইনও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে হোটেলের মালিকরা কয়েক দিনের মধ্যেই আবার এসব সংযোগ পেয়ে যান। উচ্চ আদালত থেকে রাজউকের কাযক্রম চ্যালেঞ্জ করে একটি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আবার চালু করে হোটেলটি। এমনকি ভবনটি তৈরির সময় পরিবেশ অধিদফতরেরও কোনও ছাড়পত্র নেয়া হয়নি। তবুও তা চলছে।

দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম, সহযোগী সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বেল্লাল হোসেন ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আজাদের বিরুদ্ধে ঘটনার ৪০ দিন পর বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন ভিকটিমরা। আসামীদের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, শুল্ক গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার রেইনট্রি হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেছেন। ইতোমধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযানে হোটেল থেকে দশ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর শুল্ক গোয়েন্দারা বিভিন্ন অসংগতির জানার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকে তলব করেন। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যান রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ। আদালতে তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার (২৩ মে) শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে অভিযোগের শুনানিতে অংশ নেন রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ।

শুনানি শেষে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, ‘রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ আমাদের জিজ্ঞাসাবদের জবাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আরও তদন্ত হবে। বেশ কিছু বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। মাদক, ভ্যাট এবং শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে তিনি জানান, রেইনট্রি হোটেল গত ৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে ১৪ মে পর্যন্ত অতিথিদের কাছ থেকে ভ্যাটের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে সরকারি তহবিলে জমা দেয়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। অথচ এটাকে তারা নিজেদের লাভ বা প্রফিট হিসেবে দেখিয়েছেন। শুল্ক অধিদফতরের হিসেবে এই সময়ে তারা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছেন আট লাখ ২৭ হাজার টাকা। তাই এটা আত্মসাতের পর্যায়ে পড়ে।

যতটুকু সোনার জন্য অভিযান, ততটুকুই পেয়েছি’

আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শো-রুমে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অভিযানে সাড়ে ১৩ মন সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা জব্দ করা হয়, এর বাজার মূল্য প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। এসব সোনা ও হীরার কোনও বৈধ কাগজ নেই বলে জানিয়েছেন অভিযানে সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্মকর্তারা। এরপর ওই পাঁচটি শো-রুমে সিলগালা করে দেয়া হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে তারা যেটা অনুসন্ধান করেছিলেন, সেটাই পেয়েছেন।

যেসব অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে, ঠিক একই ধরনের অভিযোগ অন্যান্য জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও রয়েছে। এ কারণে কেবলমাত্র আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সোনা চোরাচালানসহ নানা অভিযোগ।’

জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের অভিযান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের অব্যাহত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। কেউ মামলায় পড়েছে বলেই তারা তৎপর হয়েছে , এটা আমি মনে করি না। তবে একটি চমকপ্রদ কাহিনী তৈরির কিছুদিন পর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না। এ ধরনের বিষয়গুলো সবসময় ফলোআপ থাকা প্রয়োজন। অর্থনীতির স্বার্থে এগুলো আগে থেকেই স্পষ্ট করা উচিত, যাতে সবাই জানতে পারে। যেমন এতদিন ধরে তারা যে একটা ফাইলআপ করলো, তার কী অ্যাকশন হচ্ছে, সেটা এখন দেখার বিষয়।’

শুধু আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে কেন অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদের বিরুদ্ধে নয় কেন , এমন প্রশ্নের জবাবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘ঢালাওভাবে কোনও অভিযান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর চালাবে না। সোনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা একযোগে কাজ করবো। সেখানে সিস্টেমে যদি কোনও ত্রুটি থাকে, সেটা ঠিক করার চেষ্টা করবো। সোনা আমদানিতে আমরা নতুন নীতিমালা তৈরির পক্ষে। এ ব্যবসায় যেন স্বচ্ছতা থাকে। যেহেতু বৈধ সোনার কোনও সরবরাহ নেই। আমরা কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেখানে অনেক সোনা মজুদ রয়েছে। সেগুলো যেন যথাযথভাবে নিলাম করা হয় এবং সোনা ব্যবসায়ীরা যাতে বৈধভাবে এসব সোনা পান, এবং আমদানি নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি যেন সহজলভ্য হয়, সেজন্যেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।’

ড. মইনুল খান বলেন, ‘আপনারা জানেন যে সোনা, গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান ও শুল্ক আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দারা গত কয়েক বছর ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে। এর দৃশ্যমান ফলাফল রয়েছে। আপন জুয়েলার্সে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযান নতুন কিছু নয়। আমরা অভিযোগ পেয়েছি, অনুসন্ধান হয়েছে। আমাদের কাছে ফাইন্ডিং আসছে যে, সেখানে অস্বচ্ছ হিসাব আছে। সেখানে যে সোনা বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো অবৈধ পথে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুল্ক গোয়েন্দারাতো বসে থাকতে পারে না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছি। আমরা যে অনুসন্ধানটা করেছিলাম সেটাই পেয়েছি। পাঁচটা শো-রুম থেকে সাড়ে ১৩ মন সোনা উদ্ধার করেছি, একইসঙ্গে ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এর মূল্য আড়াইশ কোটি টাকা। এসব সোনার কোনও কাগজ নেই ও বৈধতা নেই। তাই আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান একেবারেই প্রাসঙ্গিক।’

হঠাৎ করে বনানীতে ধর্ষণ ঘটনার পর যখন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তখনই কেন তাদের জুয়েলার্সে অভিযান চালানো হলো? এ প্রশ্নের জবাবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘একইসঙ্গে গাড়ির ক্ষেত্রেও যেখানে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, সেখানেই অভিযান চালিয়েছি। মঙ্গলবার (২৩ মে) সকালে সিলেট থেকে বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি উদ্ধারের পর জানা যায়, সেটার মালিক আপন জুয়েলার্সের দিলদার আহমেদ সেলিম ও তার ছেলে সাফাত আহমেদ। শুধুমাত্র বনানী ধর্ষণ ঘটনার জন্যই এসব অভিযান হচ্ছে তা নয়। সার্বিক অর্থে যেখান থেকে অভিযোগ পাচ্ছি, সেটা আমলে নিয়ে আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করছি।’

ড. মইনুল খান আরও বলেন, ‘আমরা সোনা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নই। আমরা সোনা চোরাচালানের বিরুদ্ধে। আমরা এয়ারপোর্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। গত তিন বছরে প্রায় ১১শ কেজির বেশি সোনা উদ্ধার ও শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। আমাদের অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। বিশেষ করে সোনা চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। সোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেক সৎ ব্যবসায়ী আছেন। সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা করছেন। আমরা তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি যেন একটা যুগোপযোগী নীতিমালা করা যায়। তাদের ব্যবসা যেন আরও ভালোভাবে করতে পারে, সে ব্যাপারে আমাদের সমর্থন থাকবে। আপন জুয়েলার্সের অভিযান সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’

অভিমত জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাত বলেন, ‘আমারও প্রশ্ন, কেবল আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে অভিযান কেন? অন্যরা নয় কেন?’ তিনি বলেন, ‘যারা সোনার ব্যবসা করেন তাদের সোনা সংগ্রহ ও কেনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয় আশেপাশের অনেক দেশেই দোকানে যেসব সোনা থাকে, তার সামান্য একটা অংশ লিগ্যাল। বাদ-বাকি অন্যরকম।’

রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের মানি রিসিট থেকে যা জানা গেল

২৮ মার্চ বিকাল ৪টা থেকে ২৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় রেইনট্রি হোটেলে ৫৯ হাজার ৫শ ৭১ টাকা খরচ করে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে আসে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ। সেদিন সাফাত আহমেদের নামে হোটেল থেকে যে মানি রিসিট তৈরি করা হয়েছিল তার কপিতে দেখা যায়, সাফাত ঘটনার দিন ২৮ মার্চ বিকাল ৪টা ০৮ মিনিটে হোটেলের ৭০১ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেয়। পরে হোটেলে অবস্থানকালে কোনও এক সময় সে ৭০১ নম্বর কক্ষটি বদল করে ৭০০ নম্বর কক্ষে চলে যায়। পরের দিন সকাল ১০টার পর হোটেল ছেড়ে যাওয়ার সময় তার নামে যে মানি রিসিটটি তৈরি করা হয়, সেখানে তারা কোন কোন সার্ভিস নিয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেছে।

গত ২৮ মার্চ রাতে রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। ধর্ষণের অভিযোগ এনে তারা গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের দুজনকে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে এ ঘটনা ভিডিও করানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে সিলেট, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ থেকে থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা অভিযোগ স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাফাতের নামে হোটেলের দেয়া রিসিটে মদ জাতীয় দ্রব্যের কোনও উল্লেখ নেই। কারণ, ১৩ মে রেইনট্রি হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেট জানিয়েছিলেন, তাদের হোটেলের মদের লাইসেন্স নেই। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্স না থাকায় মানি রিসিটে মদের উল্লেখ না থাকাই স্বাভাবিক। তবে পরবর্তীতে শুল্ক গোয়েন্দারা ওই হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে মদের বোতল উদ্ধার করে।

এদিকে, ধর্ষণে সহযোগিতার প্রমাণ পেলে রেইনট্রি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এ মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, রেইনট্রি হোটেলে ঘটনার দিন যারা উপস্থিত ছিল, তাদের প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেদিন কার কী ভূমিকা ছিল, তাও জানার চেষ্টা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ