শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী আজ 

স্টাফ রিপোর্টার : সাম্য, মানবতা ও শোষিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে আসা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। জাতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসায় দিনটি উদযাপন করবে। মূল আয়োজন হবে রাজধানী শহর ঢাকায়। এ বছর কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সা¤্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী সৈনিক নজরুল’।

তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। মুলত বিদ্রোহী হলেও নজরুল ছিলেন চির তারুণ্য ও প্রেমের কবি। তার মধ্যে একই সঙ্গে দ্রোহ ও প্রেমের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির উদ্দেশে পৃথক বাণী দিয়েছেন। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হবে কবিকে নিয়ে বিশেষ প্রবন্ধ-নিবন্ধ। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও এফএম রেডিও স্টেশনগুলোতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান মালা ।

সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, বাংলা সাহিত্য গগণে নজরুলের আবির্ভাব ধূমকেতুর মতো। তার সৃষ্টিসমাহার সকল যুগে, সকল জনপদে সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তার গান অনেকটাই ভিন্ন ধরনের নির্মাণ। অধিকাংশ গান সুরপ্রধান। বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরের লহরী কাব্যকথাকে তরঙ্গায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যায়। 

নজরুল বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইতিহাস ও সময় সচেতন মানুষ ছিলেন যার প্রভাব তার লেখায় স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন।

তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

স্বাধীনতা লাভের পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা দেয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।

এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে ঢাকায়। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন নজরুল ইন্সটিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্যের উপর স্মারক বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনার পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইন্সটিটিউটের আয়োজনে ৩০ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।

অন্যদিকে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। নজরুল ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। জাতীয় কবিকে নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওচিত্রসমূহ সংগ্রহ করে বিশেষত জাতির পিতার পরিবারের সাথে কবির বিভিন্ন ভিডিওচিত্রসমূহ সংগ্রহ করে শিল্পকলা একাডেমি একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করবে।

নজরুল ইন্সটিটিউট জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করবে এবং কাজী নজরুল ইসলামকে বর্তমান প্রজণে¥র সাথে পরিচিত করার লক্ষ্যে কবির ছবি, পোস্টার ও বই প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। গণগ্রন্থাগার অধিদফতর বই প্রদর্শনী, পাঠ প্রতিযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

এছাড়া জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুর ও চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। ঢাকাসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্যভাবে উদযাপন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ এ উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ