মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঈদের পর নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারের’ রূপরেখা প্রকাশ করবে বিএনপি

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসা বিএনপি আগামী ঈদের পর ‘সহায়ক সরকারের’ রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।।

গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে আয়োজিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন বাংলার মাটিতে আর হতে দেয়া হবে না। কিন্তু অবৈধ সরকার আবার নীল নকশার নির্বাচনের দুঃসাহস করছে। কিন্তু ওই ধরনের নির্বাচন আর ভবিষ্যতে হবে না, হতে দেয়া হবে না। এ দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে।

রোজার পরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে বলে জানান বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।

বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন অনুমতি দেয়নি সেটা বুঝতে জনগণের আর বাকি নেই। এই সরকার জনগণকে ভয় পায়। তারা বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে ব্যবহার করছে। বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে সরকারের অস্থিরতা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন খন্দকার মোশাররফ।

বিএনপির ভিশন দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণিসহ সবাই মনেপ্রাণে গ্রহণ করায় সরকারের নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কারণ এই সরকারের মধ্যে এখন আর আওয়ামী লীগতন্ত্র ও গণতন্ত্র নেই, তারা টিকে আছে পুলিশতন্ত্রের উপর।

এ সময় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে যে কাজটি পুলিশ করেছে, তা সভ্য সমাজে হতে পারে না।

নির্বাচন পদ্ধতি ইভিএম ব্যবহার বিএনপি মানবে না জানিয়ে দলটির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ইভিএম ভুলে যান, এটা বিএনপি চায় না। এই পদ্ধতিটি ইতিমধ্যে অনেক দেশ বাতিল করে দিয়েছে। এই পদ্ধতিতে অন্য জায়গা থেকে ভোট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

স্মরণসভায় বক্তারা শফিউল আলম প্রধানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা করে বলেন, তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, কথা বলেছেন। তার শিষ্টাচার ছিল প্রশংসনীয়। জাতীয়তাবাদের চিন্তা চেতনাকে লালন করতেন। দেশের বর্তমান সময়ে তার দরাজ কণ্ঠ খুবই প্রয়োজন ছিল।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জাতীয় পাটির্র (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ লেবার পাটির্র সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ