শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

‘বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে লোহার খাঁচায় বন্দী’

গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে প্রেস বিফিং করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাইরেন বেজে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম -মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পতনের সাইরেন বেজে যাওয়ায় সরকার ভয়ে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা করার অনুমতি দেয়নি। জনসভা করতে না দেয়াও সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের পুলিশি আক্রমণের শামিল। প্রতিবাদে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিএনপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশির প্রতিবাদে বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ডাক দিয়েছিল বিএনপি। সমাবেশে অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত সেই আবেদনে সাড়া পায়নি দলটি। 

দুঃশাসন চালিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ভোগ করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ক্ষমতার উচ্চ বলয় থেকে পতন হওয়ার আশঙ্কায় বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে লোহার খাঁচায় বন্দী করে রেখেছে। কারণ বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ থেকে সরকার বিরোধী সমালোচনাতেও আওয়ামী সরকার বিচলিত হয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বর্তমান বিনাভোটের সরকার ধারাবাহিকভাবে আইন আদালত, বিচার-আচার এবং পুলিশী অভিযান ও তদন্তের নামে যা করে এসেছে তা শুধুই বিরোধী দলকে বিপর্যস্ত করা নয়, বরং তারা পুরো রাষ্ট্রস্বত্তাকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় সংগঠনে পরিণত করে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ বানচাল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন পুলিশী অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্রকে পুলিশের ইচ্ছাধীন করা হয়েছে। গণতন্ত্রের পরিসর পুলিশী অনুমতির দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

তিনি বলেন, বেশ কিছু মানুষের জন্ম থেকেই শরীরের কোথাও না কোথাও একটি দাগ থাকে। আওয়ামী লীগের জন্মদাগ হচ্ছে ডাহা মিথ্যা কথা বলা, দুর্বিনীত দুঃশাসন ও ভয়াবহ দুর্নীতি। এটি আওয়ামী লীগের ঐহিত্য হিসেবেই স্বীকৃত। সরকার শুধু গুম, খুন, অপহরণের ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা, দেশব্যাপী বিরোধী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ঢালাও গ্রেফতারী অভিযান, ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতি, অন্যের জোত-জমি দখল এবং দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হওয়ার পরও তারপরও বলতে হবে দেশে সুশাসন চলছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে, গণতন্ত্র আছে। নিষ্ঠুর একনায়ক’রা দেশের মানুষদের এভাবেই বলতে বাধ্য করে। আওয়ামী লীগ জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা ছাড়া বাংলাদেশের মানুষকে তারা কিছুই দিতে পারেনি। আওয়ামী জোট সরকার গণতন্ত্রকে কব্জা করার পর নিজেদের কুক্ষিগত ক্ষমতাকে আরো নিরাপদ করার জন্য উচ্চ আদালতকেও কব্জায় নিতে এখন আরো বেশী মরিয়া হয়ে উঠেছে। সংবিধানে নির্ধারিত আইনবলে উচ্চ আদালত যখন সরকারী কব্জায় নিজেদেরকে সঁপে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দৃঢ় ভূমিকা পালন করছে তখন সরকার সেটিকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারছে না। 

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকার গণতন্ত্রকে নিজস্ব গতিতে চলতে না দিয়ে সভা-সমাবেশ, সমালোচনা সম্পূর্ণভাবে নিজেদের কব্জায় নিয়েছে। বারবার অনুমতি চেয়েও সমাবেশের অনুমতি না পাওয়াটা আর কতদিন চলবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের ন্যূনতম যে শর্তটি আছে আমরা সেটা রক্ষা করার সর্বশেষ চেষ্টা করছি। বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকার দল নয়। বহু আন্দোলন সংগ্রামের দল। সামনে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকী আছে, রমযান আছে দেখবেন এরপর অন্যায় ও দুর্বিনিত শাসনের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শক্তি রুখে দাঁড়াবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চাওয়ার পর তারা কেন দেয়নি তার কোনো কারণ আমাদের বলেনি। শুধু তাই নয়, দলের সাবেক এমপিরা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের ডাকে বিএনপি আলোচনায় যাবে। আমরা নির্বাচনের পদ্ধতি আরও কীভাবে সুচারু করা যায় সেসব পদক্ষেপ দেখে কমিশন সম্পর্কে আমরা মতামত দেব।

রিজভী বলেন, আওয়ামী জোট সরকার গণতন্ত্রকে কব্জা করার পর নিজেদের কুক্ষিগত ক্ষমতাকে আরো নিরাপদ করার জন্য উচ্চ আদালতকেও কব্জায় নিতে এখন আরো বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের আগ্রাসী অভিযান এখন সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। এটি আয়ত্তে নিতে পারলেই দ্বিতীয় মেয়াদের বাকশালী দু:শাসন কণ্টকমুক্ত হয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন পুলিশি অনুমতির উপর নির্ভরশীল এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় পুলিশের অনুমতি না দেয়াতে আবারো প্রমাণিত হলো-বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে পুলিশ যে হানা দিয়েছিল সেটি সরকার প্রধানের নির্দেশেই পূর্ব পরিকল্পিত নীল-নকশার অংশ।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মহিউদ্দিনকে রাজধানীর আরামবাগস্থ বাস কাউন্টারের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এখনও পর্যন্ত তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আমি অবিলম্বে শেখ মহিউদ্দিনকে সুস্থ শরীরে জনসম্মুখে হাজির করার জোর আহবান জানাচ্ছি।

কানাডার কোনো আদালত রায় দিলেই বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়ে যায় না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এই রায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি দেশের আদালত কিছু বলে দিলে তাতে সবকিছু প্রমাণ হয়ে যায় না। আর একজন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায় না। রিজভী বলেন, আমার মনে হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দুই এক মাস পরপর দেশে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে। সেগুলোকে বড় গ্রাহ্যের মধ্যে আনা উচিত। কানাডার আদালতের রায়ের বিষয়ে বিস্তারিত জেনে পরে আরও বলতে পারব- এমন মন্তব্য করেও রিজভী বলেন, তবে এটা যথার্থ যে কানাডার আদালতের রায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ