বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

‘পালিত মা ও দীর্ঘশ্বাস’

 রহিমা আক্তার মৌ : -অসুবিধা কি আমার একটা সন্তান না হয় তোমার কাছেই রইলো।

-হা হা হা হা হা হা...।

-হাসছো কেন? আমি কি হাসির কিছু বলেছি।

-হা হা হা, হি হি হি...।

-তোমার হাসিটা কিন্তু অন্য রকম লাগছে, ঠিক আছে তুমি হাসতে থাকো আমি শুনি। দেখি কত হাসতে পারো, ঠিক তখনি চুপ হয়ে যাই।

-কি হলো মৌমিতা তুমি চুপ কেন, হাসো প্রাণ খুলে হাসো। হাসলে যে তোমায় খুব কাছের মনে হয়। মনে হয় তুমি বুঝি পাশের ফ্লাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাসছো। এপাশ থেকে আমি তোমার হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছি। শুধু একটা পাঁচ ইঞ্চির দেয়ালের জন্যে তোমায় দেখতে পাই না। 

-কোনো শব্দ নেই, মুহূর্তের মাঝে সেই হাসি কোথায় যে চলে গেল। আসলে কোথাও যায়নি। নিজেকে নিজেই চেপে রেখেছি। যখনি অন্য কোনো পুরুষের মুখে নিজের হাসির প্রশংসা শুনি তখনি গায়ে কেমন জানি কাঁটা দেয়। এখন আর সেই কাঁটা দেয়া সহ্য করতে পারি না। অভিনয়টা শিখেছি একেবারেই ঠিকঠাক মতো। প্রতিযোগিতায় নামলে বিজয়ী না হলেও প্রথম রানারআপ ঠিকই হতে পারতাম। 

-শুধু হাসি না।

-কেউ যদি বলে গলার কণ্ঠটা সুন্দর সেই দিনই হয় তার সাথে শেষ কথা। আবার প্রয়োজন হলে দুই আঙ্গুলে মোবাইল টিপে কয়েক লাইন লিখে দিই, তাতে কাজ না হলে এমনভাবে কথা বলি যেন এই প্রথম তার সাথে হায় হ্যালো বলা। সব কিছুতে কেমন জানি একটা এলার্জি ভাব আছে। এইতো সেদিন মিতুলের সাথে দেখা। প্রথম দেখায় মিতুল বলে-

-চোখে কাজলটা একটু বেশি হয়ে গেল না!

-হয়ত মিতুল ঠিকই বলেছে, তাই বলে ঠিক বলেছে বলে মেনে নিব কেন। সাথে সাথে জবাব আমি একটু কাজল বেশিই পরি।

-মৌমিতা তুমি কি ভাবছো। এই মৌমিতা... ইসস্ ইচ্ছে করেই চুপ করে থাকা, এখন তোমায় সামনে পেলে ঠিক কানটা মলে দিতাম।

-তোমার হাতটা বুঝি পাঁচ ইঞ্চির চেয়ে ছোট। তুমি না বলো আমি তোমার থেকে মাত্র পাঁচ ইঞ্চি দূরে। তাহলে মুখে কথা ফুটলো। ওকে বাবা ঠিক আছে তোমার হাসি সুন্দর তা আর বলবো না। এই দেখো কান ধরেছি, নাক ধরেছি।

-সত্যি নাক-কান ধরেছো তো। আমি কিন্তু ঠিক দেখতে পাচ্ছি, তুমি একহাতে কান ধরেছো।

-এই তোমার চোখ কয়টা বলতো।

-কেন, মাত্র দুইটা।

-না মানে আমি যে এক হাতেই কান ধরেছি তা কি করে দেখলে।

-হ্যাঁ হ্যাঁ জাদু আছে। জাদু, বুঝলে....

-আসলেই তুমি জাদু জানো। তা না হলে আমি বলার আগেই তুমি কি করে সব বলে দাও। আচ্ছা তুমি আবার আমার পেছনে গোয়েন্দা লাগাওনি তো।

-আমার ঠেকাই পড়েছে। আমার টিকটিকির মতো চোখ থাকতে গোয়েন্দা দিয়ে কি হবে। 

-তাহলে বলো তুমি কিভাবে বুঝলে আমি একহাতে কান ধরেছি।

-আরে বুদ্ধু, তুমি শুধু বুড়ো না, তুমি ঠিক বুদ্ধু। তুমি তো একহাতে মোবাইল ধরে আছো। সেই মোবাইলে কথা বলছো আমার সাথে তাহলে তুমি কান ধরার জন্যে দুই হাত পাবে কই।

-ওরে আমার বুদ্ধিমতি, এই না হলে তুমি আমার মৌমিতা। তাইতো। তোমার মাথায় এত বুদ্ধি কোথা থেকে আসে। আচ্ছা তোমার মাথায় চুল আছে তো, নাকি খেলার মাঠ হয়ে আছে।

-নাগো তোমার ধারণা ভুল। মাথায় আমার চুলে গিজ গিজ করছে। তাও আমার কোমর পর্যন্ত। তুমি আমার চুল দেখলেই প্রেমে হাবুডুবু খাবে। 

-তাই নাকি! তাহলে না দেখাই ভালো। এই বয়সে আর অঘটন ঘটাতে চাই না। 

-আচ্ছা বলো আমার সন্তানকে ভালোভাবে রাখতে পারবে তো। দেখো তোমার অতগুলো সন্তানের সাথে আমারটাকে ভুলেই যেও না। আপন ভেবে যতœ করো।

-জানো হিমেল আজ সকালে আমি ঠিক এইভাবেই ভেবেছি কথাটা। তুমি যে ওটা আমাকে দিতে চাইলে আমি যদি সবার সামনে ওর পরিচিতি তুলে ধরি আমার সন্তান বলে তাহলে তুমি কিন্তু কখনো আর তোমার বলে দাবি করতে পারবে না। এটা কি তুমি সহ্য করতে পারবে।

-মৌমিতা আমাকে এখন একটু রাখতে হবে। প্লিজ বন্ধু আমার, রাগ করো না। মাইন্ড করো না।

-আরে ধ্যাৎ আমি জানি মাইন্ড করলে সাইন করা যায় না। বন্ধুত্বের মাঝে এত কিছু বলে না। ওকে আমি দেখি তোমার সন্তানকে কি সত্যিই আমি রাখতে পারবো কিনা। আমি আজ ফ্রি আছি। তুমি হাতের কাজ শেষ করে কল দিও।

মোবাইলটা রেখে কিছুক্ষণ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকি। শহরের ভিআইপি সড়কে লম্বা গাড়ির লাইন, এই দৃশ্য নতুন না। একটা সময় ছিল ছুটির দিনে রাস্তায় গাড়ি কম দেখা যেত। রাস্তায় গাড়ির অবস্থা দেখে মনেই হয় না আজ যে শুক্রবার চলে যাচ্ছে।

কিছুদিন আগেও রাত দশটার পর রাস্তায় তেমন গাড়ি দেখা যেত না। আর এখন তো একেবারেই প্যাল্টে গেছে। এইতো সেদিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে যখন নিখিলেস আর আমি বাসায় ফিরছিলাম, রাস্তায় সে কি জ্যাম। রাত সাড়ে ১১টার পর ঢাকা শহরের রাস্তায় জ্যাম। অথচ নেই ট্রাফিক পুলিশ। শাহবাগের সিগনালে বসে থাকতে হয়েছে ৩৫/৪০ মিনিট। সিগনাল বললে ভুল হবে। ট্রাফিক ছিল না বলে চারপাশ থেকে এমনভাবে গাড়িগুলো এসেছে একেবারেই লঙ্কাকাণ্ড। অবশেষে কয়েকটি গাড়ির লোকেরা নেমে গাড়িগুলোকে সিরিয়ালে আনে। চালকগুলোও হয়েছে একেবারে বদের হাড়। ট্রাফিকের গায়ের পোশাকেই ওরা কথা শুনে। আর সাদা পোশাকের পাবলিক যাই বলুক না কেন গায়েই মাখে না।

এইভাবে থেমে থাকা গাড়ি দেখতে কার ভালো লাগে, ড্রয়িং রুমে এসে টিভি অন করি। একসাথে ২/৩টা চ্যানেলে সুন্দরীদের সাজগোজ দেখাচ্ছে। এগুলো দেখে কি কোনো লাভ আছে। কয়েকটা চ্যানেল ঘুরিয়ে টিভির ওপর রাগ উঠে যায়। শ’খানেক চ্যানেলের মাঝে আসলে কি আনন্দ আছে। একটা গানের চ্যানেল খুঁজে পেলাম। প্রিয় গানটা হচ্ছে ‘জাদুরে জাদুরে এ কেমন নিটুর খেলা...।

মাত্র দেড় মিনিট শুনতে পলাম, অমনি বিদ্যুৎ চলে যায়। পুরো গানটা না শুনতে পেরে মনটা খারাপ হয়ে গেল। কোনো কাজেই মন বসে না। হঠাৎ সেটে ম্যাসেজের টোনটা বেজে উঠলো, হাতে নিয়ে দেখি হিমেলের ম্যাসেজ-

‘মৌমিতা জরুরি কাজে বের হচ্ছি। মিটিং আছে, মনে হয় আজ আর কথা হবে না। তুমি ভাবছো। তোমার ভাবনায় কি আমার সন্তানটা আছে। নাকি নিজেরগুলোর মাঝে আমারটা হারিয়ে গেছে।’ উত্তরে পাঠালাম-

‘আমার ভাবনাজুড়ে যত যাই থাকুক না কেন এখন এই মুহূর্তে তোমার সন্তান ঠিক আছে। তবে তোমার সন্তানকে আমার কাছে রাখার কথা পরে বলবো। ভাবছি ওকে আমার কাছে আনা ঠি হবে কিনা।’

হঠাৎ টিবির ঝির ঝির শব্দে যেন ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসা। বিদ্যুতের পাওয়ার খুব কম। তাই টিভি চলছে না। ছোটবেলায় এমন বিদ্যুৎ দেখে বলতাম একতারে বিদ্যুৎ এসেছে। মা শুনে হাসতো। বলতো-

এটা কেমন কথারে মনা। একতারে আবার কেমন করে বিদ্যুৎ আসে।

টিভিটা অফ করে কাপড় নিয়ে ঢুকে পড়ি ওয়াশরুমে। সূর্যটা মাত্র পশ্চিমদিকে ঢুলেছে। এই সময়ে ওয়াশরুমে পুরো রোদ উঁকি মারে। ঝর্নার পানিতে রোদের ঝিলিক মনে হয় শরীরে বোনা মুক্তোর দানা ছিটাচ্ছে কেউ। প্রায় ওই সময়ে ওয়াশরুমে গেলে অনেকক্ষণ দৃশ্যটা দেখি। 

গোসল শেষ করে নামাজ আর দুপুরের খাবার শেষ করি। জানি এরই মাঝে হিমেল ওটাকে পাঠিয়ে দিয়েছে আমার কাছে। কেনযে কাল ওর কথায় রাজি হলাম। এখন নিষেধ করলে হিমেল ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু এ যে অন্যায়। যদি কোনোদিন কেউ জানতে পারে আমি মুখ দেখাবো কি করে। আমার এতদিনের অর্জন করা মান-সম্মান মুহূর্তে ধুলোয় মিশে যাবে।

যাদের কাছে আজ আমার মুখ উজ্জ্বল। তারা আমাকে অপমান করে মাটিতে মিশিয়ে দিবে। এত বছরের সম্মান আমি এইভাবে.. না আমি পারবো না। হিমেল কল করলে ওকে নিষেধ করে দিব। একাজ আমার দ্বারা সম্ভব নয়। আমি তো পারবো না কোনো কিছুর বিনিময়ে আমার একটা কাউকে দিতে। হোক সে সাধারণ, হোক সে অসম্পূর্ণ বা খুব দুর্বল। তবুও সে আমার সৃষ্টি।

মোবাইলটা বেজে উঠলো। ভাবনার সমুদ্র থেকে একটু কূল খুঁজে পাবার চেষ্টায় মোবাইলটা তুলে নিলাম। একি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। হিমেল কল করেছে-

-মৌমিতা খাবার খেয়েছো। তুমি নিশ্চয়ই গভীর ভাবনায় আছো। 

-হ্যাঁ খেয়েছি। তুমি খেয়েছো।

-আমি মাত্র খেয়ে উঠলাম। আবার বসতে হবে। ভাবলাম তোমায় একটা কল করি। ইচ্ছে করছে অনেক কথা বলি। কিন্তু কাজের চাপে আমি নেই। 

-হিমেল তুমি কি ওটা পাঠিয়েছো আমায়।

-হ্যাঁ, তুমি এখনও দেখনি।

-না, আমার মোবাইলের নেট শেষ। এদিকে ব্যালেন্সও নেই। তাই দেখা হয়নি। 

হিমেল তোমাকে একটা অনুরোধ করি রাখবে।

যা ইচ্ছে বলতে পারো, তবে ওই সম্পর্কে নয়।

-তাহলে শোন, সেই ৭/৮ বছর আগের কথা। কথা হচ্ছিল দিপের সাথে। ওর মুখেই আমি এই কথাটা শুনি। একজন লেখকের জীবনে এক একটা লেখা নাকি এক একটা সন্তানের মতো। লেখা যখন মাথায় আসে তখন না লিখতে পারলে খুব যন্ত্রণা হয়। এ যেন প্রসব বেদনার যন্ত্রণা। লেখাটা যখন লিখে ফেলে তখন নাকি সন্তান প্রসব করার মতো সুখ অনুভব করে। সেদিন দীপের মুখে কথাটা আমি শুনে হেসেছি। কিন্তু যখন নিজে ঠিকভাবে লেখা শুরু করি তখন বিষয়টা উপলব্ধি করি।

কাল যখন তুমি বলেছিলে তোমার একটা কবিতা আমায় দিবে আমি এর গুরুত্ব ভাবিনি। কিন্তু সকাল থেকে আমি কেমন জানি হয়ে যাই। তোমার লেখা কবিতা আমি আমার ডায়রিতে কিভাবে তুলবো, তোমার লেখা কবিতা আমি কিভাবে পত্রিকায় পাঠাবো ছাপানোর জন্যে। যেদিন কবিতাটি প্রকাশিত হবে আমি আমার সন্তানের সাফল্যের হাসির মতো হাসতে পারবো কি।

কবিতার বইয়ের মাঝে যখন তোমার দেয়া কবিতাটি থাকবে। আমি কি গর্বের সাথে বলতে পারবো এসব সন্তান আমার। শুধু আমার। এমন কথা বলতে গিয়ে আমি থমকে যাবো নাতো। সত্যের কাছে আমি হেরে যাবো নাতো।

-মৌমিতা তুমি এমন করে ভাবছো কেন। আরে বাবা তুমি তো চাওনি। আমিই দিতে চেয়েছি। দেখ না আমার আইডিতে পোস্ট করলে ২/৪টা লাইক আর একটা কমেন্ট থাকে। তাও তোমার দেয়া। 

দেখ কবিতাটা তুমি পোস্ট দিলে শত শত লাইক কমেন্টে ভরে যাবে।

কবিতাটা আমার কোনো বইতে নেই। গত দুইদিন আগে কবিতাকে জন্ম দিলাম। এখনও সে কেবিনে আছে। বাসা-বাড়িতে আনা হয়নি। কখনই আনবো না। কেবিন থেকেই তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলাম। কথা দিলাম কখনও ওটার জন্মদাতা কে আমি তা কাউকে বলবো না। এমনকি নিজেকেও। 

আমি তোমার মোবাইলে ব্যালেন্স দিচ্ছি। তুমি ফেসবুক অন করো। কবিতাটি পোস্ট দাও।

৩০ মিনিটের মাথায় মোবাইলে ৫০০/- টাকা চলে এলো ২ জিবি নেট নিলাম। ফেসবুক অন করে হিমেলের কবিতাটি কপি করে আমার ওয়ালে পোস্ট দিলাম।

৫ মিনিট পর হিমেলের ইনবক্সে .......

হিমেল ১৬টা লাইক ২টা কমেন্ট।

১৫ মিনিট পর ....... 

হিমেল ৪৬টা লাইক ৮টা কমেন্ট।

১ ঘণ্টা পর ........

হিমেল ১০৪টা লাইক ২৮টি কমেন্ট।

রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় দেখি ....

৩৮০টি লাইক ১৭৬টি কমেন্ট।

-মৌমিতা তুমি ফাটিয়ে দিয়েছো।

-হিমেল আমার কাছে কেমন জানি লাগছে। তুমি আমাকে মুক্তি দাও।

-আরে ধুর বিষয়টা তো তুমি আর আমি ছাড়া কেউ জানে না। এমন করে ভেবো না। ঘুমাও। 

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি মোবাইলে ২৬টা কল। ফেসবুকের ইনবক্সে ৫৬টা ম্যাসেজ।

আর আমার পালিত কবিতার পোস্টে ৪৩২০টা লাইক ২৭১৪টি কমেন্ট।

সবার একই কথা জয় জয় মৌমিতা আপনার জয়। ইনবক্সে কেউ বলেছে, তার গ্রুপে কবিতাটি দিতে কেউ বলেছে, তার পত্রিকায়। আবার কেউ বলেছে, তাদের কাব্যগ্রন্থে দিতে। আবার কেউ বলেছে, বইমেলায় কাব্যগ্রন্থ বের করবে যার প্রথমেই থাকবে কবিতাটি। কেমন জবাব কোনো জবাব কাউকে দিইনি। হিমেল দেখার আগে পোস্টটা ডিলিট করে দিই। অন্যের সন্তানকে লালন-পালন করে সমাজে পালিত মা হওয়া যায়। তবে অন্যের জন্ম দেয়া কবিতার মালিকিনী হয়ে নিজের প্রশংসার ঝুলিটা বাড়ানো যায় না।

-একটু পরেই হিমেলের কল।

-মৌমিতা কবিতা কোথায় গেল।

-কোন কবিতা।

-কেন, কাল যে তোমায় দিলাম আমার কবিতা।

-দেখছো হিমেল একটা রাত পার না হতেই তুমি তোমার বলে দাবি করলে।

-কি করেছ, আমি তো কবিতাটা লিখে রাখিনি। এই তুমি কি করলে।

-কেন, তুমি যে বললে আমায় দিয়ে দিয়েছো।

-এখন খুঁজছো কেন।

-মৌমিতা তুমি তা বুঝবে না। সারারাত গলাকাটা মোরগের মতো আমি ছটফট করেছি। নিজের জন্ম দেয়া সন্তান অন্যকে দেয়া এত সোজা না। তুমি আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও।

-তা আর হবে না হিমেল। আমি সব ডিলিট করে দিয়েছি।

-এ তুমি কি করলে। এ আমি কেমন জন্মদাতা হলাম। নিজের হাতে নিজেই সন্তানের গলাপিটে মেরে ফেললাম। আমি খুনি, আমি খুনি। আমার শাস্তি হওয়া উচিত।

অনেক বুঝিয়ে হিমেলকে শান্ত করলাম। আসলেই এক গাছের ছাল কখনই অন্য গাছে লাগানো যায় না। এক বাগানের ফুল অন্য বাগানে শোভা পেলেও মালিকের তৃপ্তি আসে না। আজ থেকে যা কিছু জন্ম দিবে নিজের করে রাখবে। হোক সে সাধারণ, হোক সে প্রতিবন্ধী, হোক সে অপরিপূর্ণ। তবুও তুমিই যে তার জন্মদাতা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ